• ‘ফলোয়ার্সের লোভেই ভিডিয়ো...’, মহিলা বাইকারকে ধাক্কা-কাণ্ডে দাবি অভিযুক্ত গাড়ি চালকের আইনজীবীর
    এই সময় | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • গুরুগ্রামে মহিলা বাইকারকে ইচ্ছাকৃত ভাবে ধাক্কা মারার ঘটনায় নয়া মোড়। সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করলেন গাড়ির চালক কল্যাণ বনসল। তাঁর দাবি, ‘এটা নিছকই দুর্ঘটনা।’ বাইকটি যে একজন মহিলা চালাচ্ছিলেন, সেটাও তিনি জানতেন বলে দাবি কল্যাণের। একই দাবি করেছেন অভিযুক্তের আইনজীবী অভিষেক চৌহানও। মহিলা বাইকারের ঘাড়ে সব দায় চাপিয়ে তিনি বলেন, ‘ফলোয়ার্স আর ভিউজের লোভেই ভিডিয়োটা বেশি করে প্রচার করা হচ্ছে।’

    ঘটনাটি ঘটে রবিবার। ওই মহিলা বাইকারের নাম সিয়া। কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গে গুরুগ্রামের গলফ কোর্স রোড ধরে বাইক চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সিয়ার দাবি, সেই সময়ে একটি সাদা গাড়ি তাঁদের পিছু নেয়। গাড়ির চালককে তিনি দূরত্ব বজায় রাখতে বললেও কাজ হয়নি। আচমকাই চালক তাঁকে ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ। রাস্তায় ছিটকে পড়েন সিয়া। তাঁর হাত ও পায়ে চোট লাগে। তবে সেফটি গিয়ার থাকায় বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি।

    গোটা ঘটনাটি সিয়ার বাইকে লাগানো ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। পরে সেই ভিডিয়োই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন তিনি। গাড়ির চালক মত্ত অবস্থায় ইচ্ছাকৃত ভাবে তাঁকে ধাক্কা মারেন বলে অভিযোগ সিয়ার। এর পরেই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত FIR দায়ের করে গুরুগ্রাম থানার পুলিশ। শুরু হয় তদন্ত। ভাইরাল ভিডিয়োয় গাড়ির নম্বর HR30Y4949-এর সূত্র ধরে মনীশের খোঁজ মেলে। জানা গিয়েছে, গাড়িটি তাঁর। মনীশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত। বর্তমানে অসমে পোস্টিং রয়েছে। পুলিশকে মনীশ জানান, ঘটনার দু’দিন আগে বন্ধু কল্যাণ বনসল তাঁর কাছ থেকে গাড়িটি নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে কল্যাণকে এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

    এর মধ্যেই সংবাদমাধ্যমে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন গাড়ির চালক কল্যাণ। তিনি বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ দেখলেই সব স্পষ্ট হয়ে যাবে।’ তাঁর আরও দাবি, দুই রাইডার বার বার তাঁর গাড়িকে ওভারটেক করে সামনে এসে বাইকের গতি কমিয়ে দিচ্ছিলেন। পরে ওই মহিলা রাইডার আচমকাই বাইক ঘোরাতে গেলে দুর্ঘটনা ঘটে বলে দাবি তাঁর। কল্যাণের আইনজীবী অভিষেক বলেন, ‘ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, ওই মহিলা ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৭০ কিলোমিটার গতিতে বাইক চালাচ্ছিলেন। ওই রাস্তা স্টান্ট বা অতিরিক্ত গতিতে বাইক চালানোর জন্য নয়।’ বাইকারদের জন্য রোজ ১৫-২০টা দুর্ঘটনা ঘটে বলেও দাবি করেছেন কল্যাণের আইনজীবী।

    বাইকারকে ধাক্কা মারার কোনও উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না বলে জানিয়ে ভুল স্বীকার করেছেন কল্যাণ। তাঁর দাবি, তিনি বরং বাইকারদের ধীরে গাড়ি চালানোর কথা বলছিলেন। কল্যাণের কথায়, ‘আমি ভিডিয়োয় এটাও বলছিলাম যে আপনারা ভাল চালাচ্ছেন, কিন্তু ধীরে চালান। বার বার আমাকে বিরক্ত করবেন না।’ তাঁর আরও দাবি, মোটরবাইকে কে ছিলেন, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। কল্যাণ বলেন, ‘ভুলের জন্য আমি দুঃখিত। তবে বাইকে যে একজন মহিলা ছিলেন, আমি জানতাম না।’

    গুরুগ্রামের ঘটনায় মহিলা বাইকারের নাম কী?

    মহিলা বাইকারের নাম সিয়া। তিনি বন্ধুদের সঙ্গে গলফ কোর্স রোডে বাইক চালাচ্ছিলেন।

    সিয়ার কী অভিযোগ?

    সিয়ার অভিযোগ, একটি সাদা গাড়ি তাঁদের পিছু নেয় এবং চালককে দূরত্ব বজায় রাখতে বলার পরেও তিনি পিছনে আসতে থাকেন। পরে গাড়িটি ইচ্ছাকৃত ভাবে তাঁর বাইকে ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ।

    কল্যাণ বনসল কী দাবি করেছেন?

    কল্যাণের দাবি, ধাক্কাটি ইচ্ছাকৃত ছিল না। বাইকাররা বার বার তাঁর গাড়িকে ওভারটেক করে সামনে এসে গতি কমাচ্ছিলেন এবং পরে বাইক ঘোরানোর সময় দুর্ঘটনা ঘটে।

    কল্যাণ কি জানতেন বাইকটি একজন মহিলা চালাচ্ছিলেন?

    কল্যাণের দাবি, বাইকে একজন মহিলা ছিলেন, তা তিনি জানতেন না। তবে তিনি সংঘর্ষের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন।

    গাড়িটির নম্বর কত ছিল?

    গাড়িটির নম্বর HR30Y4949। এই নম্বরের সূত্র ধরেই পুলিশ গাড়ির মালিক মনীশের কাছে পৌঁছয়।

    গাড়ির মালিক মনীশ কী জানিয়েছেন?

    মনীশ পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘটনার দু’দিন আগে তাঁর বন্ধু কল্যাণ গাড়িটি নিয়ে গিয়েছিলেন। মনীশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত এবং বর্তমানে অসমে পোস্টেড বলে জানা গিয়েছে।

    কল্যাণ বনসল কি গ্রেপ্তার হয়েছেন?

    না। এখনও পর্যন্ত তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তাঁকে খুঁজে তল্লাশি চলছে।

    কল্যাণের আইনজীবীর দাবি কী?

    আইনজীবী অভিষেক চৌহানের দাবি, সিয়া ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৭০ কিলোমিটার গতিতে বাইক চালাচ্ছিলেন এবং ফলোয়ার্স ও ভিউজের জন্য ভিডিয়োটি বেশি করে প্রচার করা হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)