• পদ্মকে হারাতে ‘হাতের’ সঙ্গে জোট চাইছেন প্রাক্তন পুরমন্ত্রী
    এই সময় | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • মিঠুন ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি

    এগারো বছর আগে তৃণমূলকে ঠেকাতে সিপিএমের কৌশল ছিল 'শিলিগুড়ি মডেল'। ২০২৬-এ শিলিগুড়ি পুর নির্বাচনে সেই মডেলে ভরসা রাখতে চায় সিপিএম। ২০১৫-য় বামেরা কংগ্রেস-সহ সমস্ত বিরোধী জোটকে সঙ্গী হিসাবে চেয়েছিল। সেই তত্ত্বে পুরবোর্ডও দখল করেছিল কংগ্রেস এবং বাম জোট। এ বারও কংগ্রেসকেই জোটসঙ্গী হিসাবে চায় সিপিএম। সোমবার রাজ্যের প্রাক্তন পুরমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য সরাসরি কংগ্রেসকে বামেদের সঙ্গে জোট গড়ার ডাক দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বিজেপিকে ঠেকাতে শিলিগুড়ি পুরসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এবং বামপন্থীদের একটি সম্মিলিত জোট হোক। সেটা হলেই কেবলমাত্র বিজেপির পুর বোর্ড দখল ঠেকানো সম্ভব হবে।

    ২০১৫-য় 'শিলিগুড়ি মডেল'কে অনুসরণ করে বামেরা ২০১৬-তেও বিধানসভা নির্বাচনে জোট গড়ে। ওই জোট নিয়ে এখনও অশোক ভট্টাচার্যের দাবি, 'অত্যন্ত ইতিবাচক লড়াই হয়েছিল।' সিপিএমের রাজ্য কমিটি অবশ্য এখনও বৃহত্তর বাম ঐক্যের স্বপ্নে মশগুল। সোমবার শিলিগুড়ি হিলকার্ট রোডে অবস্থিত সিপিএম পার্টি অফিস অনিল বিশ্বাস ভবনে দলের দার্জিলিং জেলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সেখানে দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, 'কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হবে কি না, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।' বৃহত্তর বাম ঐক্যের প্রশ্নে তিনি বলেন, 'বৃহত্তর বাম মানে শুধু ফ্রন্টের ভিতরে থাকা বামপন্থী দলগুলি নয়। এটা শরিকদেরও বুঝতে হবে। বামফ্রন্টের বাইরেও অনেক বামমনস্ক মানুষ আছেন, গোষ্ঠী আছে, দল আছে।'

    দুই প্রবীণ বাম নেতাই তৃণমূলকে অপ্রাসঙ্গিক দাবি করে বিজেপিকে নিশানা করেছেন। সেলিমের মতে, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এলেও বিজেপি মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। মানুষের চাহিদা পূরণের পরিবর্তে রাস্তা, বিভিন্ন ফলকের নাম পরিবর্তনে বেশি জোর দিয়েছে তারা। ফলে বিভিন্ন বাম ও গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলিকে এক ছাতার নীচে নিয়ে আনলে নির্বাচনে ভালো ফলাফল করা সম্ভব।

    বামেদের এই দাবিকে পাত্তা দিতে নারাজ বিজেপি। গত শিলিগুড়ি পুর বোর্ডের বিরোধী দলনেতা বিজেপির অমিত জৈন মনে বলেন, 'তৃণমূল সত্যিই এখন অপ্রাসঙ্গিক। জনগণ শেষ বিধানসভা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যা রায় দেওয়ার দিয়েছে। বাম এবং কংগ্রেস আগে থেকেই ভূমিকাহীন। মানুষ চাইছে উন্নয়ন। সেই কারণে উন্নয়নের প্রশ্নে মানুষ শিলিগুড়িতে বিজেপিকে ভোট দিয়ে পুর বোর্ডের দায়িত্ব দেবে।'

  • Link to this news (এই সময়)