• ঘরের কাজ সামলে বিশ্বকর্মা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত নমিতা
    এই সময় | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়, ময়নাগুড়ি: স্বামীকে সহযোগিতা করার জন্য কাজ শুরু করেছিলেন। এখন নিজেই হয়ে উঠেছেন শিল্পী। ঘরের কাজ সামলে বিশ্বকর্মার মূর্তি তৈরিতে ব্যস্ত নমিতা পাল। বছর ৩০ আগে কোচবিহারের মাথাভাঙা থেকে বিয়ে হয়ে ময়নাগুড়ির বার্নিশ গ্রাম পঞ্চায়েতের রোড পালপাড়ায় শ্বশুরবাড়িতে এসেছিলেন নমিতা। সংসারের যাবতীয় কাজ সামলে স্বামী কালীপদ পালের মাটির কাজেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। সেই থেকেই মাটির কাজের সঙ্গে পথচলা।

    তিন দশকের অভ্যাসে আজ নিজেই দক্ষ শিল্পী। তাঁর হাতের ছোঁয়ায় প্রাণ পায় বিশ্বকর্মা, লক্ষ্মী, সরস্বতী-সহ বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি। কালীপদ ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বংশ পরম্পরায় মাটির কাজের সঙ্গে যুক্ত। ছোটবেলায় বাবার কাছেই এই কাজ শেখেন তিনি। এখন নমিতাও কাঁচামাটিতে জলের মিশ্রণ, ছাঁচ বসানো থেকে শুরু করে মূর্তি গড়া এবং তুলির টানে রূপদান, সবই দক্ষতার সঙ্গে করেন। শুরুর দিনের কথা মনে করে নারী শিল্পী বলেন, 'তখন বয়স আমার আঠেরো কি উনিশ হবে। টিনের ভাঙাচোরা ছাপড়ার নীচে চটের বস্তা পেতে সে দিন নিজের অজান্তেই তুলি, রঙের পাত্র নিয়ে বসে পড়েছিলাম প্রতিমার রূপদানে। স্বামীর কাজ দেখে আগ্রহী হয়ে এগিয়ে এসেছিলাম। সেই অভ্যেসটা আজও বদলায়নি।'

    এখন বছরভর চাকা ঘুরিয়ে ঘট, ধুনুচি, কলস-সহ বিভিন্ন মাটির সরঞ্জাম তৈরি করছেন নমিতা, প্রতিমাও গড়ছেন। ক'দিন পরেই বিশ্বকর্মা পুজো। এখন সেই প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা পাল পরিবারে। এই কাজ করেই দুই ছেলেকে পড়াশোনা শিখিয়ে স্বাবলম্বী করেছেন নমিতা। বড় ছেলে সুব্রত ব্যবসায়ী, ছোট ছেলে দেবব্রত পড়াশোনা করছেন।

    তবে দিন দিন মাটি, রং-সহ কাঁচামালের দাম বাড়লেও মাটির তৈরি সামগ্রী ও ছোট প্রতিমার দাম সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে পরিশ্রমের তুলনায় লাভ খুবই কম। কালীপদ বলেন, 'হাড়ভাঙা খাটনি করলেও মুনাফা খুবই কম। তবু মনের আনন্দে আমরা কাজ করি। স্ত্রী আমার কাজে সহযোগিতা করে, এখন নিজেও দক্ষ হয়ে উঠেছে।'

  • Link to this news (এই সময়)