• রাজস্থান পুরভোটে বিজেপিকে কড়া টক্কর কংগ্রেসের, খাতা খুলল আপ ও সিপিএম, একাধিক গড়ে ধাক্কা পদ্মশিবিরের
    বর্তমান | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • যোধপুর: রাজস্থান পুরনির্বাচনে শাসকদল বিজেপিকে কড়া টক্কর দিল কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি। মোট ১০ হাজার ২০০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪ হাজার ৪৯টিতে জিতেছে বিজেপি। কংগ্রেস জয়ী ৩ হাজার ৪৫৬টিতে। আজমির, পালি, ঝালওয়াড়ের মতো একাধিক গড়ে রাহুল গান্ধীর দলের কাছে হার স্বীকার করতে হয়েছে পদ্মশিবিরকে। একটি করে পুরসভায় দখল করে রাজস্থানে পুরভোটে খাতা খুলেছে আম আদমি পার্টি (আপ) ও সিপিএম। তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে বহু পুরসভায় ‘কিং মেকার’ হতে চলেছে নির্দলরা। মোট ২ হাজারের বেশি ওয়ার্ডে নির্দল প্রার্থীরা জয়লাভ করেছে। 

    প্রায় ৩৬ বছর পর আজমির পুরসভা দখল করার পথে কংগ্রেস। ৮০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৭টিতেই তারা জিতেছে। ৩২ ওয়ার্ডে জয়ী বিজেপি। ১১টি আসনে জিতেছে নির্দলরা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি মদন রাঠোরের পারিবারিক বাসস্থান পালি শহরে। সেই পালি পুরসভার ৬৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টিতে জিতেছে কংগ্রেস, ২১টিতে বিজেপি। নির্দল ১৫টিতে জয়ী। গেরুয়া-গড় বলে খ্যাত ঝালওয়ার পুরসভাতেও জিতেছে হাতশিবির। বিজেপি নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজের খাসতালুকে ২৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে কংগ্রেস জয়ী ১৮টিতেই। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালের বিকানিরও হাতছাড়া হয়েছে বিজেপির। ৮০টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস ৪২টিতে জিতেছে। অন্যদিকে, উদয়পুর, ভিলওয়ারা, কোটা পুরসভায় এককগরিষ্ঠতা পেয়েছে পদ্মপার্টি। তবে ফল প্রকাশের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন পবর্তসার পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থী কৈলাস চাঁদ। তিনি মাত্র একটি ভোট পেয়েছেন। কংগ্রেসের জয়ী প্রার্থী হিনা খানম পেয়েছেন ৩৭৬টি ভোট। আবার রিয়ানবাড়ি পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস প্রার্থী মজিদ মহম্মদও পেয়েছেন একটি ভোট। বালোত্রা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আরএলপি প্রার্থী ওম প্রকাশ একটি ভোটও পাননি। 

    মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মার শহর ভরতপুরে এগিয়ে রয়েছে নির্দলরা। ৬৫ ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৬টিতেই জিতেছে তাঁরা। বেহরোর, দিগ, ফতেহপুর, হনুমানগড়, হিন্দুয়ান, কোটপুটলি, মারকানা, নাগাউর ও তিজারা শহরেও নির্দল প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি ওয়ার্ডে জয়ী। ৪৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টিতে জিতে নোখা পুরসভার দখল নিয়েছে সিপিএম। বারন পুরসভাটি দখল করে নিয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল আপ। কংগ্রেসের দাবি, বিজেপি বলপ্রয়োগ না করলে এই পুরসভা নির্বাচনের ফল অন্যরকম হত। প্রদেশ সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসরা বলেছেন, ‘রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খবর এসেছে ভয় দেখিয়ে কম ব্যবধানের আসনগুলিতে ফল বদলানোর চেষ্টা হয়েছে। জোর করে হারানোর চেষ্টা চলছে কংগ্রেস ও নির্দল প্রার্থীদের। তাঁদের শিবির বদল করানোরও চেষ্টা চলছে।’ একই অভিযোগ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা অশোক গেহলটেরও। তাঁর দাবি, যোধপুর ও আলওয়ারের জয়ী কংগ্রেস ও নির্দল প্রার্থীরা যাতে মেয়র নির্বাচনে গেরুয়া প্রার্থীকে সমর্থন করেন, সেজন্য পুলিশ-প্রশাসনকে দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে বিজেপি। 
  • Link to this news (বর্তমান)