• এবার স্বাস্থ্যভবনের আতশকাচের নীচে উত্তরবঙ্গ মেডিকেলের ট্রমা কেয়ার সেন্টার
    বর্তমান | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: এবার স্বাস্থ্যভবনের আতশকাচের নীচে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টার। স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর,  টাকার বিনিময়ে বেড থেকে শুরু করে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত। একাধিক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই এই ট্রমা কেয়ার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠলেও এতদিন সেভাবে তদন্ত বা কঠোর পদক্ষেপ হয়নি। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতালে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে স্বাস্থ্যভবন সূত্রে জানা গিয়েছে। তারই অঙ্গ হিসেবে এই তদন্ত।

    অভিযোগ, শিলিগুড়ির বিভিন্ন নার্সিংহোম থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রোগীদের উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে পাঠানোর ক্ষেত্রে একটি চক্র সক্রিয়। অভিযোগ, চিকিৎসার নামে নার্সিংহোমগুলি রোগীর পরিবারকে নিঃস্ব করার পর উত্তরবঙ্গ মোডিকেল কলেজে ভর্তি করার পরামর্শ দেয়। সেক্ষেত্রে  একটি চক্র এধরনের রোগীদের মোটা টাকার বিনিময়ে উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে বেড পাইয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেয়। শুধু তাই নয়, জরুরি অবস্থায় সরাসরি আসা রোগীদেরও বেড পাওয়ার ক্ষেত্রে টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। টাকা না দিলে রোগী ও তাঁর পরিজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং পরিষেবা পেতে হয়রানির অভিযোগও স্বাস্থ্যভবনে পৌঁছেছে বলে সূত্রের দাবি।

    হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, একাধিক অনিয়মের অভিযোগ হাতে আসার পর সম্প্রতি স্বাস্থ্যভবনের একটি তদন্তকারী দল গোপনে হাসপাতালে এসে ট্রমা কেয়ার সেন্টারের বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। তদন্তের খবর প্রকাশ্যে আসতেই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই সম্প্রতি হাসপাতালের এক আধিকারিকের সুপারিশে ট্রমা কেয়ারে  ভর্তি হওয়া এক রোগীর কাছ থেকেও দেখাশোনার নামে টাকা চাওয়ার অভিযোগ জমা পড়েছে। যদিও তদন্তের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। 

    উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার কৌশিক ঈশোর এবং প্রিন্সিপাল সুজয় মিস্ত্রি জানিয়েছেন, ট্রমা কেয়ার নিয়ে কোনো তদন্ত চলছে বলে তাঁদের কাছে খবর নেই।

    অন্যদিকে হাসপাতাল কর্মীদের একাংশ ও স্বাস্থ্যভবন সূত্রের দাবি, গোটা তদন্ত প্রক্রিয়াই অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে চলছে। অভিযোগের সঙ্গে প্রভাবশালী কয়েকজনের যোগ থাকতে পারে বলে তদন্তে যাতে কোনওভাবে প্রভাব না পড়ে, সে কারণেই গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না স্বাস্থ্যদপ্তর। • ফাইল চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)