• আর্থিকভাবে ‘সর্বহারা’ এনবিইউ!
    বর্তমান | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় চালানোর মতো আর কোনো অর্থই হাতে নেই। তাই এখন পুরোপুরি সরকারের মুখাপেক্ষী হয়ে রয়েছে কর্তৃপক্ষ। সরকারি সহায়তা না পেলে আগামী এক-দেড় মাস পর থেকে আর বিশ্ববিদ্যালয় চালানো  অসম্ভব হয়ে দাঁড়াতে পারে। 

    ২০১৭ সালের অক্টোবর মাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয় তার বিভিন্ন ফান্ড থেকে অর্থ খরচ করে এসেছে। ফলে তাদের হাতে আর কোনো টাকাই অবশিষ্ট নেই। তাই এখন পুরোপুরিভাবে সরকারি সাহায্যের দিকে তাকিয়ে উত্তরের এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে,আগে সরকারের পক্ষ থেকে বছরে প্রায় ২৫ কোটি টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসত। যার মধ্যে ১২ কোটির কিছু বেশি টাকা অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন দিতে খরচ হত। বাকি টাকা উন্নয়নের খাতে খরচ করা হত। কিন্তু, দীর্ঘদিন ধরে সেই টাকা আসার পরিমাণ একেবারেই কমে গিয়েছিল। বছরে পাঁচ-ছয় কোটি টাকা পায় বিশ্ববিদ্যালয়। সেই টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কর্মীদের বেতন দিয়ে পড়াশোনো, গবেষণা সহ অন্যান্য খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যে ফিক্সড ডিপোজিট ছিল তার সুদের টাকাও ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু, এখন পরিস্থিতি একেবারে চরম আকার ধারণ করেছে। 

    উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সমরকুমার বিশ্বাস বলেন, সরকার যদি টাকা না দেয় তাহলে আগামী এক-দেড় মাস পর থেকে আর বিশ্ববিদ্যালয় চালানো সম্ভব হবে না। আমাদের যা কিছু ছিল তা দিতে দিতে আমরা এখন সর্বহারা হয়ে গিয়েছি। তাই সরকার টাকা না দিলে বিশ্ববিদ্যালয় চালানোর মতো আর কোনো অবস্থা‌ই আমাদের নেই। এখন পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর কঠিন। 

    বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম রেজিস্ট্রার স্বপন রক্ষিতের কথায়, আমরা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সমস্যার কথা তুলে ধরেছি। তৃণমূল সরকারের সময় এই সমস্যা জানানো হয়েছে। বর্তমান সরকারকেও এই বিষয়ে জানিয়েছি। শুধু তো ফিক্সড ডিপোজিটের সুদ নয়, সব সংগ্রহের টাকাই তো বেতন দিতে চলে যায়! উন্নয়ন খাতে আর কিছুই থাকে না। সরকার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড বন্ধ করে দিয়েছে। 

    উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি, নমিনেশন ফি, স্পোর্টস ফি সহ যত রকমের সংগ্রহ রয়েছে সবই বেতন দিতে চলে যাচ্ছে। এডুকেশনাল ফান্ড ডাইভার্ট হয়ে যাচ্ছে। গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। একে তো গত ৩০ মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নেই। প্রচুর আধিকারিক ও অস্থায়ী কর্মীর পদ ফাঁকা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংখ্যা বিগত কয়েকবছর ধরে হুহু করে কমেছে। এবারও ভর্তির জন্য আবেদন করে প্রথমবার সব আসন পূরণ হয়নি। ফলে দ্বিতীয়বার বিজ্ঞাপন দিতে হয়েছে। 

    একদিকে ফান্ডের অবস্থা ভাঁড়ে মা ভবানী। তার উপরে অন্যান্য সবদিক দিয়ে উত্তরবঙ্গের এই প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে যেন সংকট ঘিরে ধরেছে। মাঝেমধ্যেই বিক্ষোভ আন্দোলন চলছে। কিন্তু, আসল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক সংকট। তাই এখন আর্থিক বিষয়ে সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপ চাইছে কর্তৃপক্ষ।
  • Link to this news (বর্তমান)