• নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে কংগ্রেসের জোট চাইলেন মমতা, কংগ্রেস কী বলছে?
    আজ তক | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ফের কংগ্রেসকে জোটের প্রস্তাব দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বারে তাঁর প্রস্তাব, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে কংগ্রেস যদি জোট করে, তাহলে তিনি নন্দীগ্রাম আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেবেন। এবং রেজিনগরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁকে প্রার্থী করেছে, তাঁকে সমর্থন করুক কংগ্রেস। অর্থাত্‍ স্পষ্ট কথায়, জোট সমঝোতা। কিন্তু মমতার এই শর্তে পাল্টা শর্ত চাপিয়েছে কংগ্রেসও।

    মমতা চাইলেন কংগ্রেসের জোট, পাল্টা কংগ্রেসও দিল শর্ত

    সর্বভারতীয় কংগ্রেসের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক কে সি বেনুগোপালকে এই প্রস্তাব দেন মমতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে কংগ্রেস। মমতা শুধু নন্দীগ্রাম ছাড়তে চেয়েছেন, কংগ্রেস পাল্টা শর্ত দিয়েছে, রেজিনগরও ছেড়ে দিক মমতা। সেখানেও কংগ্রেস প্রার্থীকেই সমর্থন করুন। 

    মমতা কেন, যে কেউ চাইলে কংগ্রেসকে সমর্থন করতে পারে: শুভঙ্কর সরকার

    পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের কথায়, 'বিজেপি-কে যদি কেউ বিরোধী শক্তি হিসেবে ভাবে, তা হলে কংগ্রেসই একমাত্র দর্শনগত, নীতিগত দিক থেকে বিকল্প দল। এ ক্ষেত্রে যে কেউ যদি সমর্থন করে কংগ্রেসকে, তা হলে আগামী একটা বৃহত্তর ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন, যে কেউ কংগ্রেসকে সমর্থন করতে পারেন।' একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিনে, প্রদেশ কংগ্রেস একা এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, বিভিন্ন স্তরে আলোচনার মাধ্যমে এই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে কংগ্রেসকে যে কেউ সমর্থন করতে পারেন, তাকে স্বাগত, বলেও জানান শুভঙ্কর।

    কংগ্রেসের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অতীত সম্পর্ক তিক্ত

    বস্তুত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অতীতে কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়েই তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছিলেন। এমনকী ২০১১ সালে কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় এসে পরবর্তীকালে জোট ভেঙে দেন। কিছু দিন আগেও নন্দীগ্রামে প্রার্থী পেতে কালঘাম ছুটছিল মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের। শেষমেশ নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে প্রার্থী করেছেন মমতা। অন্যদিকে রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরী প্রার্থী। অন্যদিকে এই দুই উপনির্বাচনে কংগ্রেসও প্রার্থী দিয়েছে। নন্দীগ্রামে মিলন প্রধান এবং রেজিনগরে মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি লড়ছেন কংগ্রেসের টিকিটে।

    নন্দীগ্রাম শুভেন্দু অধিকারীর শক্তিশালী ঘাঁটি

    এখন প্রশ্ন হল, হঠাত্‍ মমতা কংগ্রেসকে উপনির্বাচনে জোটের প্রস্তাব দিলেন কেন? আসলে নন্দীগ্রাম শুভেন্দু অধিকারীর শক্তিশালী ঘাঁটি। নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২১ সালে নিজেও হেরেছেন শুভেন্দুর কাছে। ফলে নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের জেতা চাপ এখনও। কারণ কেউ দাঁড়াতেই চাইছিলেন না মমতার দল থেকে। এহেন পরিস্থিতিতে কংগ্রেসকে জোটের বার্তা দিয়ে বিজেপি বিরোধী ভোট একজোট করার চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাতে নন্দীগ্রামে আবার মুখ না পোড়ে।   

    আবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরও নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে প্রার্থী দিয়েছে। নন্দীগ্রামে এহতাশামুল হক এবং রেজিনগরে সফিউজ্জমান শেখকে প্রার্থী করেছে ঋতব্রত শিবির। ফলে ভোট কাটাকাটি হতে পারে। সব মিলিয়ে নন্দীগ্রামে ভোটের আগেই বেশ ব্যাকফুটে কালীঘাট শিবির।  
  • Link to this news (আজ তক)