সৌরভ ভট্টাচার্য, তেহট্ট: পুলওয়ামার জঙ্গি হামলায় দাদা শহিদ হওয়ার পর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিল সরকার। বাড়িতে এসেছিলেন প্রশাসনের আধিকারিক থেকে শুরু করে তৎকালীন শাসকদল তৃণমূলের মন্ত্রীরাও। শহিদ জওয়ান সুদীপ বিশ্বাসের বোন ঝুম্পা বিশ্বাসকে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির পর কেটে গিয়েছে ছয় বছর। একাধিকবার আবেদন, বারবার কাগজপত্র জমা—তবুও আজও চাকরি পাননি ঝুম্পা। এবার নতুন সরকারের কাছে চাকরির আশায় দিন গুনছেন তিনি।
২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় শহিদ হয়েছিলেন ৪২ জন জওয়ান। তাঁদেরই একজন ছিলেন পলাশীপাড়া থানার হাঁসপুকুরিয়া গ্রামের সুদীপ। সুদীপ ২০১৪ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থল শ্রীনগরে ফিরছিলেন তিনি। পথে জম্মুতে তাঁর এক সহকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে দেখাশোনার জন্য সেখানে থেকে যান সুদীপ। পরে ১৪ ফেব্রুয়ারি সেনা কনভয়ে চড়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন। কিছু দূর যাওয়ার পরই কনভয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়। শহিদ হন সুদীপ-সহ বহু জওয়ান।
সুদীপের মরদেহ গ্রামে পৌঁছনোর পর শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হাজির হয়েছিলেন প্রশাসনের আধিকারিক ও তৎকালীন তৃণমূল সরকারের মন্ত্রীরা। সেই সময়ই তাঁর বোন ঝুম্পাকে সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি। কিন্তু সেই আশ্বাস আজও বাস্তবে রূপ নেয়নি। ঝুম্পার দাবি, গত কয়েক বছরে প্রায় ১০-১২ বার চাকরির জন্য আবেদন করেছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দিয়েছেন একাধিকবার। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ করেও সুরাহা হয়নি। ঝুম্পা বলেন, দাদা ২০১৪ সালে চাকরি পেয়েছিলেন। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই জঙ্গি হামলায় শহিদ হন দাদা। তখন অনেকেই বাড়ি এসে আমাকে চাকরির কথা বলেছিলেন। বারবার কাগজপত্র জমা দিয়েছি। কিন্তু এখনও চাকরি হয়নি। এবার আমার আশা, বিজেপি সরকার আমার চাকরির ব্যবস্থা করবে। বিজেপি বিধায়ক সুব্রত কবিরাজ বলেন, এতদিন প্রতিশ্রুতির সরকার ছিল, তাই প্রতিশ্রুতিই পেয়েছেন। এবার তিনি যাতে চাকরি পান, সেই চেষ্টাই করব।