নাবালিকা গর্ভবতীদের ইউএসজি করতে অনীহা প্রকাশ ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলির
বর্তমান | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার পরেই রঘুনাথপুর মহকুমা এলাকার বেসরকারি ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলি নড়েচড়ে বসেছে। ১৮ বছরের কম বয়সী গর্ভবতী কিশোরীদের আল্ট্রাসোনোগ্রাফি (ইউএসজি) করতে চাইছে না বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলি। পকসো আইনের ভয়ে সেন্ট্রালগুলিতে ইউএসজি করতে আসা কিশোরীদের সরাসরি সরকারি হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, সরকারি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়ে আইনের আওতায় পড়তে পারে বলে কিশোরীদের পরিবারগুলি চিন্তায় পড়েছে। পকসো ধারায় মামলা রুজু করে গ্রেপ্তার হতে পারে বলে অনেকেই ভয়ের মধ্যে রয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে এখনেও পর্যন্ত জেলায় কোনো গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেনি।
স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিকের সাথে কথা বলে জানা গিয়েছে, এটা ফেরানো হচ্ছে না, নিয়ম। ১৮-র নিচে গর্ভবতী হলে সরকারি হাসপাতালেই প্রথমে যেতে হবে। সেখানেই চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা দুটোই হবে। বেসরকারি সেন্টারে করলে তাদের পুলিশকে জানাতেই হবে। হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়া মৌলিক অধিকার।আপাতত এই কারনে সরকারি হাসপাতালেই ভিড় বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে আদ্রা, রঘুনাথপুর, কাশীপুর এলাকার একাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। গত কয়েক দিনে প্রচুর গর্ভবতী কিশোরী ইউএসজি করতে এসে ঘুরে যাচ্ছে। ১৬-১৭ বছরের মেয়েদের পরিবার ইউএসজি করাতে এলে সেন্টার কর্তৃপক্ষ সরাসরি হাসপাতালে যাওয়ার নিদান দিচ্ছেন। কেন এই সিদ্ধান্ত? সেন্টার মালিকদের দাবি, ১৮ বছরের নিচে গর্ভধারণ মানেই আইনের চোখে পকসো মামলা। ডাক্তার বা সেন্টারকে বাধ্যতামূলক ভাবে থানায় জানাতে হয়। না জানালে লাইসেন্স বাতিল ও জেল পর্যন্ত হতে পারে। সম্প্রতি রাজ্য সরকারও ঘোষণা করেছে, ১৮-র নিচে মেয়েকে গর্ভবতী করলে স্বামীর বিরুদ্ধে পকসোতে মামলা হবে। যার জন্য ৯ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি করা হয়েছে। তাই ঝামেলা এড়াতে বেসরকারি সেন্টারগুলি ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
এক আশা কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, মানুষকে প্রচুর সচেতন করা হলেও এখনও অনেকে অজ্ঞ। জেলায় বাল্যবিবাহ রোধ করতে সরকার আইনে এনেছে। কিন্তু গর্ভবতীদের সময় মতো ইউএসজি না হলে মা ও শিশু দুজনেরই জীবনে ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকে। যেকোনো উপায়ে তাদেরকে হাসপাতালে ডেলিভারি করাতে হবে। হোম ডেলিভারি হলে মা, বাচ্চার দুজনেরই বিপদের আশঙ্কা আছে। কিন্তু তাদের বাড়ির লোক ভয়ে লুকিয়ে বেড়াচ্ছে। সেটাই আমাদের বেশি চিন্তার কারণ। যেমন করে হোক হাসপাতালে ডেলিভারি করাতেই হবে। আর বাড়ির লোক ভাবছে হাসপাতালে গেলেই আমরা ধরা পড়ে যাবো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাড়ে ১৭ বছরের গর্ভবতী কিশোরী জানায়, প্রেম করে বিয়ে করেছি। মা হতে চলেছি। কিন্তু শুনেছি সরকার নতুন আইন এনেছে। এখন খুব ভয়ে রয়েছি। অন্তত সরকারের তরফ থেকে যারা গর্ভবতী হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এক বছরে সময় দিতে পারতো। বেসরকারি হাসপাতালে ইউএসজি হচ্ছে না। হাসপাতালে যেতে ভয় হচ্ছে। তবে আশা ও দিদিমণিদের তরফ থেকে অভয় দেওয়া হয়েছে। তাই হাসপাতালে যাব।