• বিজেপির পতাকা পুঁতে চাষিদের জমি দখল, তোলাবাজির অভিযোগ
    বর্তমান | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: পতাকা লাগিয়ে, খুঁটি পুঁতে গরিব চাষিদের জমি দখলের অভিযোগ উঠল বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে। শুধু জমি দখল করেই ক্ষান্ত হয়নি তারা, জমির ফসল নষ্ট করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তিন হাজার টাকা তোলা আদায়ও করে। সাঁকরাইলের কালরুই গ্ৰামের ভাগচাষি অতুল ঘোড়াই ও ময়না গুঁই থানায় এই অভিযোগ জানিয়েছেন। সোমবার দুপুরে জেলাশাসকের দপ্তরের আধিকারিকদেরও ঘটনার কথা জানান।

    উপরের ওই ঘটনা একটি উদাহরণ মাত্র। সাঁকরাইল ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় চাষিরা জমি দখল হয়ে যাওয়ার আতঙ্কে ভুগছেন। কখনও কোনো চাষির জমি অন্যের নামে দলিল করিয়ে নেওয়া হচ্ছে, আবার কখনও বর্গা চাষিদের জমি দখল করে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বিজেপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জুলুমবাজির অভিযোগ উঠছে। বর্গা চাষিরা জমি হারানোর আতঙ্কে ভুগছেন। কালরুই গ্ৰামে সবজি চাষের জমির বেড়ার চারপাশে বিজেপির পতাকা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। চাষের জন্য তৈরি করা জমিতে বিজেপির পতাকা লাগানো খুঁটি পুঁতে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও সুরাহা না মেলার অভিযোগ উঠছে। গরিব চাষিরা ধীরে হলেও মুখ খোলা শুরু করছেন। কালরুই গ্ৰামে স্থানীয় বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে জমি দখল করার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। জমি দখলের পিছনে বিজেপির অঞ্চল সভাপতির নামও সামনে এসেছে। ভাগচাষি অতুলবাবু জেলাশাসকের দপ্তরে চত্বরে দাঁড়িয়ে বলন, প্রথমে বাবা চাষ করতেন। তারপর আমি চাষি করছি। তিরিশ বছর ধরে ওই জমিতে চাষ করছি। মালিকের কাছ থেকে জমিটি কেনাও হয়েছিল। মালিকানা অধিকারের ত্রুটিজনিত কারণে একাধিকবার ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরেও বিষয়টি জানিয়েছিলাম। জমিতে চাষ করার জন্য ওদের তিন হাজার টাকাও ভোটের পর দিতে হয়েছে। বাকি তৈরি জমি দখল করে ওরা অন্য তিনজনকে দিয়ে দিয়েছে। থানায় অভিযোগ জানিয়েছি। মন্ত্রী তথা এলাকার বিধায়ক রাজেশ মাহাতোকে জানিয়েছিলাম। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিককে এদিন জানিয়েছি। উনি বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। ময়না গুঁই বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর লোক দিয়ে ১৪ কাঠা জমিতে চাষ করা হতো। ভোটের পর বিজেপির লোকেরা জমি দখল করে নিয়েছে। জমি দখলের পর চরম কষ্টের মধ্যে পড়েছি। সংসার কীভাবে চলবে জানি না। 

    ঝাড়গ্রাম জেলা বিজেপির সভাপতি তুফান মাহাতো বলেন, স্থানীয় বিজেপি কর্মী সমর্থকরা যদি জোর করে জমি দখল করে থাকেন, তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। স্থানীয় সিপিএম নেতা বিবেক মণ্ডল বলেন, জমির মালিকই স্থানীয় বিজেপি নেতাকর্মীদের নিয়ে বর্গা চাষিদের জমি দখল করেছে।  বিজেপির পতাকা লাগানো খুঁটি জমিতে ওঁরা বসিয়ে দিয়েছে। স্থানীয় বর্গা চাষিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আইনের শাসন নয়, শাসকের আইন চলছে। জমির মালিকের বক্তব্য, তিনি বর্গাদারদের পাশেই আছেন। কয়েকদিনের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। জেলা কংগ্রেসের সভাপতি প্রসেনজিৎ দে বলেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুক। গরিব বর্গা চাষিদের বক্তব্য শোনা হোক। দলীয় পতাকা পুঁতে জমি দখল সমর্থনযোগ্য নয়। জেলা প্রশাসনের ভূমিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, এদিন বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। প্রশাসনের তরফে তদন্ত করে বিষয়টি দেখা হবে। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)