তৃতীয়ায় রাজ্যে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ধরে নিয়ে পুজোর প্রস্তুতি দপ্তরের
বর্তমান | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার দুর্গাপুজোর তৃতীয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা সবচেয়ে বেশি হতে পারে। সেইমতোই সুষ্ঠু পরিষেবা দিতে উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য। সোমবার পুজোয় বিদ্যুৎ পরিষেবা সংক্রান্ত প্রস্তুতি বৈঠক সারেন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী গার্গী দাস ঘোষ। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, গতবছর রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা এলাকায় প্রায় ৫৭ হাজার পুজোয় অস্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। এবার তা ৬০ হাজারে পৌঁছাতে পারে। গতবার সর্বোচ্চ চাহিদা পৌঁছেছিল প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট। এবার তা বেড়ে সাড়ে ১১ থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
মন্ত্রী আরও বলেন, গতবার পুজো ছিল সেপ্টেম্বরে। এবার অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় হওয়ায়, আশা করা যায় বর্ষা চলে যাবে। সেক্ষেত্রে বিদ্যুতের চাহিদা কমা উচিত। যেহেতু পুজোর সংখ্যা বেড়েছে, তাই আমরা বর্ধিত চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এগোচ্ছি। সিইএসসি এলাকায় গতবার বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল ৫,৩৬৩টি পুজোয়। এবার সেই সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছেন সংস্থার কর্তারা। গতবার সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল তৃতীয়াতেই, ২ হাজার ১২৬ মেগাওয়াট। এবার তা ২ হাজার ৫০ মেগাওয়াট হতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।
তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার জোগান এবার সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন নিগমের সিএমডি পি বি সেলিম। তিনি বলেন, রাজ্যের হাতে থাকা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে দৈনিক ৭০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা লাগে। এর জন্য আগে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন কিনতে হত। এখন রাজ্যের হাতেই পুরো কয়লার জোগান আছে। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান সচিব শান্তনু বসু বলেন, সরকার ঘোষণা করেছে, বিদ্যুৎ খরচের পুরোটাই পুজো কমিটিগুলিকে মকুব করা হবে। তা বহন করবে রাজ্য। গতবার তা ছিল ৮০ শতাংশ। বাকি ২০ শতাংশ মেটাতে হয়েছিল কমিটিগুলিকে। গতবার ৮০ শতাংশ বহন করতে সরকারের ব্যয় হয়েছিল ২৮ কোটি টাকা। দপ্তরের কর্তারা জানিয়েছেন, এবার রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা পুজোয় মোট চাহিদার ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ বাইরে থেকে কিনতে পারে। সিইএসসি এলাকায় তা ২৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।