• দোকানে গিয়ে কেওয়াইসি আপডেটের নামে প্রতারণা! মহিলার লক্ষাধিক টাকা উধাও, নিউটাউনে মামলা রুজু
    বর্তমান | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: কখনও উচ্চ রিটার্নের টোপ দিয়ে বিনিয়োগ প্রতারণা, কখনও সিবিআই-পুলিশ পরিচয় দিয়ে ডিজিটাল অ্যারেস্ট, কখনও আবার ব্যাংক বা গ্যাসের কেওয়াইসি আপডেটের নামে ফোন। সেই টোপে পা দিলেই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট। তাই অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এলে এখন অনেকেই সাবধান হয়ে যান। তবে, এবার ফোনে নয়। সশরীরে দোকানে গিয়ে কেওয়াইসি আপডেটের নামে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি, বিধাননগর কমিশনারেটের নিউটাউন থানা এলাকায় একটি মামলাও রুজু হয়েছে। এক মহিলা দোকানদার প্রতারকের পাল্লায় পড়ে খুইয়েছেন লক্ষাধিক টাকা। তাঁর দোকানে দুই যুবক এসে কেওয়াইসি ভেরিফিকেশন করে অ্যাপ আপডেটের কথা বলে ফোনের তথ্য হাতিয়ে নেয়। তারপর ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে যায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে, এখনও ধরা পড়েনি কেউ।

    সাইবার প্রতারকরা ফোনে ব্যাংকের কেওয়াইসি আপডেট করার টোপ দেয় প্রায়ই। ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে তারা অ্যাকাউন্ট থেকে সব টাকা তুলে নেয়। কখনও কখনও আবার হোয়াটসঅ্যাপে লিংক পাঠিয়ে অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলে। তারপর ফোন হ্যাক করে হাতিয়ে নেয় তথ্য। তারপর প্রতারণা। কিন্তু, সশরীরে কেওয়াইসি আপডেটের নামে প্রতারণা একেবারে নতুন। কী হয়েছিল? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিউটাউনের তারুলিয়া মেইন রোডে মহিলার একটি দোকান রয়েছে। তিনি ডিজিটাল লেনদেন করেন। কিউআর কোডে পেমেন্ট করেন ক্রেতারা। একদিন দুপুরে হঠাৎ দু‌ই যুবক এসে হাজির হয় তাঁর দোকানে। তারা নিজেদের একটি ডিজিটাল লেনদেন অ্যাপের প্রতিনিধি বলে পরিচয় দেয়। মহিলাকে তারা বলে, অ্যাপের কেওয়াইসি ভেরিফিকেশন করে আপডেট করতে হবে। দোকানে এসে কেউ যে প্রতারণা করতে পারে, কখনই তা ভাবেননি ওই মহিলা। দুই যুবক তাঁকে বলে, আপনার ফোন থেকেই ওই অ্যাপ আপডেট করতে হবে। একথা শুনে তিনি নিজের ফোন তাদের হাতে দিয়ে দেন। যে অ্যাকাউন্টে টাকা ক্রেডিট হয়, তার ডেবিট কার্ড চাইলে মহিলা তা দিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর ওই দুই যুবক বলে আপডেট হয়ে গিয়েছে। এরপর তারা চলে যায়।

    কিছুক্ষণ বাদে মহিলা দেখেন, প্রতারকরা তাঁর বিজনেস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়েছে। কীভাবে? মহিলার ফোন হাতে নিয়ে প্রতারকরা বিজনেস অ্যাকাউন্ট থেকে ওই টাকা ইনস্ট্যান্ট লোন নেয়। মহিলার অ্যাকাউন্টেই সেই টাকা ক্রেডিট হয়। সঙ্গে সঙ্গে প্রতারকরা নিজেদের অ্যাকাউন্টে ওই টাকা ট্রান্সফার করে নিয়ে চম্পট দেয়। ৩ সেপ্টেম্বর ওই মহিলা নিউটাউন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে প্রতারকদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
  • Link to this news (বর্তমান)