• বিদেশি নাগরিকরা হোটেল, গেস্ট হাউসে এলেই জানাতে হবে তথ্য, পুজোর আগে নিরাপত্তা ইস্যুতে বৈঠক বিধাননগরে
    বর্তমান | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: অগ্নি-নিরাপত্তা, পুর-নিয়ম সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শহরের বেশ কয়েকটি হোটেল, গেস্ট হাউস বন্ধের মুখে। এই পরিস্থিতিতে দুর্গাপুজোর আগে সল্টলেক ও নিউটাউনে পরিদর্শন ও নজরদারি আরও জোরদার করল বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। হোটেল, গেস্ট হাউস ও লজ কর্তৃপক্ষকে সমস্ত নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বিদেশি নাগরিকরা হোটেল, গেস্ট হাউসে এলেই ডিজিটাল তথ্য জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার সল্টলেকের ই জেড সি সি’তে এক বৈঠকের আয়োজন করেছিল বিধাননগর কমিশনারেট। সেখানে বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার রাঠোর অমিতকুমার ভারত সহ কমিশনারেটের পদস্থ আধিকারিকরা, বিধাননগরের মহকুমা শাসক, বিধাননগর পুরসভার প্রতিনিধি, দমকল দপ্তর, আইবি অফিসার, এনকেডিএ, ডব্লুএসইডিসিএল, সিইএসই কর্তৃপক্ষ সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে প্রায় ৩০০ হোটেল কর্তৃপক্ষ হাজির হয়েছিল। জানা গিয়েছে, বৈঠকে আধিকারিকরা অগ্নি নিরাপত্তা সহ অন্যান্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলার উপর জোর দেন। বিশেষ করে পুজোর সময় মানুষের যাতায়াত এবং হোটেল-গেস্ট হাউসে থাকার চাহিদা বাড়তে পারে বলে আগাম সতর্ক করা হয়।

    হোটেল ও লজগুলির সরাই অ্যাক্ট, ১৮৮৭ অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স নবীকরণের গুরুত্ব ও পদ্ধতি, অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা হয়। পুলিশের তরফে সমস্ত হোটেল ও গেস্ট হাউস কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, অবিলম্বে তাদের ‘সি-ফর্ম’ সংক্রান্ত তথ্য আপডেট করতে হবে। বর্তমানে ‘সি-ফর্ম’কে ‘ফর্ম-৩’ বলা হয়। কোনো বিদেশি পর্যটক হোটেলে উঠলে তাঁর আগমনের তথ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যুরো অব ইমিগ্রেশন পোর্টালের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

    প্রসঙ্গত, সল্টলেক ও নিউটাউনে বাংলাদেশি পর্যটকদের থাকার চাহিদা বাড়ছে বলে সূত্রের খবর। কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকায় নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে একাধিক বড় হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং কয়েকটি হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বহু বাংলাদেশি পর্যটক সল্টলেক ও নিউটাউনের দিকে থাকার জন্য আসছেন বলে খবর।

    চেক-ইন ও চেক-আউট করার সময় এবং তাঁদের অবস্থানকালীন সময়ে মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কী কী দায়িত্ব রয়েছে এবং কোন ধরনের কাজ থেকে তাঁদের বিরত থাকতে হবে, সে বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়। হোটেল বা লজের মধ্যে দেহ ব্যবসার মতো বেআইনি কার্যকলাপ কিংবা বেআইনি কল সেন্টার পরিচালনা করা হলে তা আইন অনুযায়ী কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলেও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। অগ্নি-নিরাপত্তা সহ নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে নজরদারি করা হবে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
  • Link to this news (বর্তমান)