ক্রমেই বাড়ছে গণপতির আবাহন, তুঙ্গে ফুলের চাহিদা, জগন্নাথঘাটেই বিক্রি হল ১৫ লক্ষ টাকার দুর্বা, ২৫ লাখের জবা
বর্তমান | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সুকান্ত বসু, কলকাতা: বাংলায় ক্রমেই কদর বাড়ছে সিদ্ধিদাতা গণেশের। বাড়ছে ‘মঙ্গলমূর্তি’র ভক্ত সংখ্যা, পুজোর আয়োজন। মা দশভূজার মর্ত্যে আগমনের আগে উৎসবের সূচনা তো ‘গণপতি বাপ্পা’কে ঘিরেই। বঙ্গে বিনায়কের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার আঁচ পাওয়া যাচ্ছে এবার কলকাতার জগন্নাথ ঘাট ফুল বাজারে। শাস্ত্রমতে দুর্বার মালা ছাড়া গণপতির আবাহনই অসম্ভব। দুর্বাতেই তিনি তুষ্ট হন। ভক্তদের মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন। ‘একদন্ত’এর আবাহন পর্বের সূচনায় রবিবার থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত মাত্র ২৪ ঘণ্টায় শহরের এই পাইকারি ফুল বাজারে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার দুর্বা বিক্রি হয়েছে। ‘বিঘ্নেশ্বর’এর পুজোয় লাগে জবা এবং নীলকন্ঠ ফুলও। ২৫ লক্ষ টাকার জবা আর ২০ লক্ষ টাকার নীলকন্ঠ ফুল জগন্নাথ ঘাট বাজার থেকে কিনেছেন ভক্তরা। ফুল বাজার সূত্রের খবর, গত বছর গণেশ চর্তুদশী ঘিরে দুর্বা বিক্রি হয়েছিল সাড়ে ১৩ লক্ষ টাকার মতো। জবা ও নীলকন্ঠ ফুলের বিক্রির পরিমাণ ছিল‑ যথাক্রমে সাড়ে ২২ লক্ষ ও ১৭ লক্ষ টাকা। আর ২০২৪ সালে দুর্বা বিক্রি হয়েছে ১১ লক্ষ টাকার। জবা বিক্রি হয়েছিল ১৯ লক্ষ আর নীলকন্ঠ সাড়ে ১৪ লক্ষ টাকার। গত দু’বছরের তুলনায় চলতি বছরের দুর্বা, জবা এবং নীলকন্ঠ ফুলের বিক্রির পরিমাণ যে অনেকটাই বেড়েছে, পরিসংখ্যানই তা বলছে। ‘লম্বোদর’এর আবাহন আয়োজকের সংখ্যাও যে ক্রমেই বাড়ছে, তাও নির্দেশ করছে ফুল বাজারের পরিসংখ্যান।
জগন্নাথ ঘাটের ফুল চাষী ও ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, যেহেতু আজ, মঙ্গলবার সকালে কিছুটা সময় পর্যন্ত এই পুজোর সময়সীমা থাকছে, তাই দুর্বা, জবা ও নীলকন্ঠ ফুলের বিক্রির পরিমাণ কিছুটা বাড়বে। গণেশ পুজোতে লাগে গাঁদা ফুলও। এদিন বাসন্তী গাঁদা ফুলের পাইকারি বাজারও ছিল বেশ চড়া। ২০ পিসের বাসন্তী গাঁদার মালা কোথাও বিক্রি হয়েছে ৯০০ টাকা। আবার কোথাও হাজার টাকাতে। আকাশ ছোঁয়া দাম থাকা সত্ত্বেও, গাঁদার চাহিদা ছিল বেশ ভালো।
পাইকারি বাজারের পাশাপাশি রবিবার কলকাতার খুচরো বাজারেও দুর্বা, জবা, ও নীলকন্ঠ ফুলের চাহিদা ছিল তুঙ্গে। এদিন খুচরো বাজারে ছোট দুর্বার মালা বিক্রি হয়েছে ৪০-৫০ টাকায়। একটু বড় দুর্বার মালা বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। বড় বাসন্তী গাঁদার মালার দাম ছিল ৭০-৮০ টাকা। আর ১০৮ জবার কুঁড়ির মালা কোথাও ৭০, কোথাও ৮০ আবার কোথাও মওকা বুঝে ৯০টাকাতেও বিক্রি হয়েছে। বড় নীলকন্ঠ মালা ৭০, ৮০ টাকাতে বিক্রি হয়েছে। এদিন প্রতিপিস পদ্ম বিক্রি হয়েছে ২০‑২৫ টাকায়। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, পাইকারি বাজারে ফুলের দাম চড়া। তাই বাধ্য হয়ে বেশি দামে ফুল বিক্রি করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে গজাননের পুজোয় আবশ্যিক প্রতিটি ফুলের দাম রবিবার ভোর থেকেই চড় চড় করে বাড়তে শুরু করেছিল।