• দু’মাসে ৮৫% পঞ্চায়েতে খরচ শূন্য, ডবল ইঞ্জিনেও জি রাম-জি প্রকল্পে ধুঁকছে বাংলা
    বর্তমান | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১ জুলাই গোটা দেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও শুরু হয়েছে ১২৫ দিনের কাজ বা ভিবি জি-রামজি প্রকল্প। তারপর কেটে গিয়েছে দু’মাসের বেশি সময়। কিন্তু তারপরও এরাজ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশের বেশি গ্রাম পঞ্চায়েতে এই প্রকল্প বাবদ একটি টাকাও খরচ হয়নি! কেন্দ্রের রিপোর্টেই উঠে এসেছে এই তথ্য। দেখা যাচ্ছে, ডবল ইঞ্জিন রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের ৩ হাজার ৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতের (জিপি) মধ্যে ‘নিল এক্সপেন্ডিচার’ বা একটি টাকা খরচ না হওয়া এমন জিপি’র সংখ্যা ২ হাজার ৮৪৫টি। 

    রাজ্যে পালাবদলের পর অধিকাংশ গ্রাম পঞ্চায়েতেই কাজকর্ম কার্যত থমকে গিয়েছিল। পঞ্চায়েত প্রধানের অনুপস্থিতির জেরে শ্লথ হয়ে যায় প্রকল্প রূপায়ণের গতি। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পঞ্চায়েত প্রধানদের আর্থিক ক্ষমতা অনেকটাই খর্ব করার পাশাপাশি জিপিতে প্রশাসক বসানোর আইনও নিয়ে এসেছে বর্তমান রাজ্য সরকার। এর জেরে অনেক জিপিতে কাজ শুরু হলেও, সেই অর্থে কাজের গতি এখনও অধরা বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। আর একই কারণে ১২৫ দিনের কাজও প্রভাবিত হচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে অধিকাংশ পঞ্চায়েতে ‘পেমেন্ট’ বা বরাদ্দ হওয়া অর্থ খরচ শুরুই হয়নি।

    প্রশাসনিক মহলের মতে, খরচের ক্ষেত্রে কাজের পরে অনেকগুলি ধাপ পেরতে হয়। যেমন কাজের জরিপ, বিল তৈরি এবং পেমেন্টের পর এমআইএস আপডেট বা পেমেন্টের সম্পূর্ণ তথ্য নির্দিষ্ট পোর্টালে তোলা। কিছুটা হলেও এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, অসম, বিহার, ওড়িশার মতো ডবল ইঞ্জিন সহ দেশের অধিকাংশ রাজ্যে ‘একটি টাকাও খরচ না হওয়া জিপির সংখ্যা’ এত কম কেন? এখানেই শেষ নয়। এক্ষেত্রে দেশের গড় কিন্তু রাজ্যের থেকে অনেক ভালো। কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী দেশের ২ লক্ষ ৬৯ হাজার ৫২১টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ‘নিল এক্সপেন্ডিচার’-এর তালিকায় থাকা জিপি’র সংখ্যা ৬৬ হাজার ৬১। অর্থাৎ, মাত্র ২৪.৫১ শতাংশ। যেখানে রাজ্যের ৮৫ শতাংশের বেশি জিপিতে এখনও এক টাকাও খরচ করা সম্ভব হয়নি বলেই দাবি কেন্দ্রের রিপোর্টে। এবিষয়ে রাজ্যের যুক্তি, ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের বদলে ১২৫ দিনের কাজ চালু করেছে কেন্দ্র। আর পশ্চিমবঙ্গ হল এমন একটি রাজ্য, যেখানে দীর্ঘদিন মনরেগা বন্ধ ছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ৯ জুন এরাজ্যে চালু হয়েছে ১০০ দিনের কাজ। তার এক মাসের কম সময়ের মধ্যে চালু করতে হয়েছে ভিবি জি রাম-জি প্রকল্প। ফলে এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রাজ্যের ‘মেশিনারি’কে চাঙ্গা করতে কিছুটা সময় লেগেছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক কারণে পঞ্চায়েত প্রধান এবং অন্যান্য সদস্যরা বসে যাওয়াটা রাজ্যের কাছে বড়ো চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল। আর একটি উল্লেখযোগ্য কারণ অবশ্যই টানা বর্ষায় কাজের গতি ধাক্কা খাওয়া। উপরন্তু পূর্বতন সরকারের আমলের ভুয়ো সুবিধা প্রাপকদের বাদ দিতেও বেশ কিছুটা সময় লেগেছে। দীর্ঘদিন এখানে ১০০ দিনের কাজ না থাকায়, বহু শ্রমিকও রাজ্যের বাইরে চলে গিয়েছেন। তাঁরা এখন ফিরছেন। 

    এরপরও অবশ্য দেশের মধ্যে ১২৫ দিনের কাজ প্রকল্পে সেরার শিরোপা পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী রাজ্যের পঞ্চায়েত প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক। তিনি জানিয়েছেন, ‘পিছিয়ে পড়া ব্লকগুলিকে নিয়ে বিশেষ বৈঠক শুরু হয়েছে। এছাড়াও জেলায় জেলায় গিয়ে পর্যালোচনা-পর্যবেক্ষণ চালিয়ে কাজে গতি আনার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে পুজোর পরে হু হু করে কাজ এগোবে। এবিষয়ে আমরা নিশ্চিত।’
  • Link to this news (বর্তমান)