• বারবার ভাঙছে পিচের রাস্তা, পুজোর পর উল্টোডাঙা উড়ালপুলে বসবে কংক্রিট ব্লক
    বর্তমান | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উল্টোডাঙার ওল্ড দুর্গাপুর ব্রিজের রাস্তার হাল অত্যন্ত খারাপ ছিল। খানাখন্দে ভরেছিল। তাই আপাতত পুজোর আগে ওই ব্রিজ চলাচলের যোগ্য করতে গর্ত ভরাট করার জন্য কংক্রিটের প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে। কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (কেএমডিএ) জানাচ্ছে, অস্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য এই কাজ করা হচ্ছে। পুজোর পর ব্রিজের রাস্তায় কংক্রিটের ব্লক বসানো হবে। সেক্ষেত্রে বারবার পিচের আস্তরণ উঠে গিয়ে রাস্তা ভেঙে যাওয়ার সমস্যা আর থাকবে না। এই কাজের জন্য সম্ভাব্য খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা।

    কলকাতা ও ভিআইপি রোড সংযোগকারী ওল্ড দুর্গাপুর ব্রিজের বছর দু’য়েক আগে সার্বিক সংস্কার হয়েছিল। কিন্তু সাত-আট মাস যেতে না যেতেই ফের খারাপ হতে শুরু করে উড়ালপুলের রাস্তা। গত বছর পুজোর সময়ও জোড়াতাপ্পি মেরে কাজ চালানো হয়েছিল। দিনে দিনে সেই রাস্তা আরও বেহাল হয়েছে। চলতি বর্ষায় পিচের আস্তরণ উঠে গিয়ে বহু জায়গায় তৈরি হয়েছিল বিপজ্জনক গর্ত। জানা গিয়েছে, এই সেতু এবং রাস্তার স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো হয়েছিল। ১৯৭০ সালের মাঝামাঝি সময়ে চালু হওয়া এই সেতুর হেলথ অডিটে কিছু জায়গায় সংস্কারের প্রয়োজন উঠে আসে। সেগুলিও করা হয়েছে। এই অবস্থায় উড়ালপুলের দু’প্রান্তের ফ্ল্যাঙ্ক মোটামুটি ঠিকঠাক থাকলেও ব্রিজের মাঝখানে রাস্তার হাল খুবই খারাপ। সেতুর উপর বড়ো বড়ো গর্তে বৃষ্টির জল জমছে। সেখান থেকে তৈরি হয়ে যাচ্ছে নতুন খানাখন্দ। এক আধিকারিক বলেন, ‘চলতি বছর বর্ষায় পাঁচ বার প্যাচওয়ার্ক করা হয়েছে। বারবার বিটুমিনের আস্তরণ উঠে গিয়েছে বৃষ্টির জন্য। কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, যেকোনো রাস্তা তৈরি করতে গেলে আগে বালির বেড তৈরি করতে হয়, যাতে রাস্তার উপরে পিচের অংশে জল পড়লে বালি তা শোষণ করে নিতে পারে। তাহলে রাস্তার উপর জল দাঁড়ায় না। তাতে পিচের ক্ষতিও হয় না। কিন্তু ৫৬ বছরের পুরানো এই ব্রিজের রাস্তার নীচে বালির জলশোষণ ক্ষমতা কমে গিয়েছে। ফলে জল উপর দিকে উঠে (সিপেজ) রাস্তার পিচের আস্তরণ নষ্ট করে দিচ্ছে।’ 

    জানা গিয়েছে, পুজোর পর সার্বিক সংস্কারের কাজে হাত দেওয়া হবে। ব্রিজের ওই পথের খারাপ অংশ ২০ মিটার লম্বা এবং ১৬ মিটার প্রশস্ত। সেখানে পিচ সহ তলার আস্তরণ পুরো কেটে উড়িয়ে নতুন করে বালির বেড তৈরি করে তার উপরে কংক্রিটের ব্লক পেতে দেওয়া হবে। সেতুর বাকি অংশের রাস্তা মেকানিক্যাল ম্যাস্টিকের করা হবে। তাতে রাস্তা আরও টেকসই হবে।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)