আজকাল ওয়েবডেস্ক: বদলের বাংলায় গণেশ পুজোর আয়োজনে দেখা যাচ্ছে নতুন নতুন ভাবনা। এবার উত্তর কলকাতার মানিকতলা এলাকার একটি গণেশ পুজোর মণ্ডপে নজর কাড়ছে ৫৫ ফুটের পবনপুত্র হনুমানের আদলে তৈরি করা হয়েছে বিশাল মণ্ডপ। আর সেই হনুমানই বুক চিরে দর্শন করাচ্ছে তার আরাধ্য রামচন্দ্রকে।
উত্তর কলকাতার রাজা দীনেন্দ্র স্ট্রিটের এই গণেশ পুজোয় এবার ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে মিশেছে অভিনব শিল্পভাবনা। মণ্ডপের মূল আকর্ষণ ৫৫ ফুট উচ্চতার হনুমানজি। মণ্ডপের অন্দরেই রয়েছে ১২ ফুট উচ্চতার গণেশ মূর্তি। গণেশ মূর্তি তৈরি হয়েছে অযোধ্যার রামলালার কোষ্ঠী পাথরের মূর্তির মত
একই রূপ একই অঙ্গসজ্জা। গণেশের হাতে সাধারণত যে অস্ত্র থাকে সেই অস্ত্রের বদলে রামচন্দ্রের হাতের যে অস্ত্র থাকে সেই অস্ত্রগুলিকেই দেওয়া হয়েছে গনেশের হাতে। উদ্যোক্তাদের ভাবনায়, হনুমানের হৃদয়ে যেভাবে রামচন্দ্রের অবস্থান, সেই ভাবনাকেই তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপসজ্জায়।
পুরাণ ও ধর্মীয় আখ্যান অনুযায়ী, হনুমান রামচন্দ্রের অন্যতম পরম ভক্ত। রামের প্রতি তাঁর অগাধ ভক্তির প্রতীক হিসেবেই হনুমানের বুক চিরে রামের দর্শনের কাহিনি লোকমুখে এবং শিল্পকলায় দীর্ঘদিন ধরে উঠে এসেছে। সেই চেনা ধর্মীয় প্রতীককেই এবার গণেশ পুজোর মণ্ডপে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরা হয়েছে।
স্থানীয় উদ্যোক্তাদের দাবি, শুধু প্রতিমা দর্শন নয়, মণ্ডপে এসে দর্শনার্থীরা যাতে একটি বিশেষ ধর্মীয় ভাবনার সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই থিমের পরিকল্পনা। ৫৫ ফুটের বিশাল হনুমান এবং তাঁর বক্ষের ভিতরে রামভাবনার উপস্থাপনা ইতিমধ্যেই দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
গত কয়েক বছরে কলকাতা ও শহরতলিতে গণেশ পুজোর পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বড় বাজেটের পাশাপাশি বিভিন্ন পুজো কমিটি থিমনির্ভর মণ্ডপ ও প্রতিমার মাধ্যমে নিজেদের আয়োজনকে আলাদা করে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। মানিকতলার এই পুজোর ৫৫ ফুটের হনুমানও সেই থিমনির্ভর আয়োজনেরই অন্যতম নজরকাড়া উদাহরণ।