• ৯ বছর আগে 'কোটি টাকার সোনা' লুট যোধপুর পার্কে!
    আজকাল | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: নয় বছর আগে যোধপুর পার্কে সোনার দোকানে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় অবশেষে সাজা ঘোষণা করল আদালত। প্রায় ৭০০ গ্রাম সোনার গয়না লুটের ঘটনায় চার অভিযুক্তকে ৯ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আলিপুরের দ্বিতীয় ফাস্ট ট্র্যাক আদালত। সোমবার সাজা ঘোষণা করেন বিচারক অর্কবতী নিয়োগী।

    ২০১৭ সালের জুলাই মাস। লেক থানা এলাকার যোধপুর পার্কের একটি অলঙ্কার বিপণিতে সশস্ত্র অবস্থায় ঢুকে পড়েছিল পাঁচ সদস্যের একটি দুষ্কৃতী দল। দোকানে ঢুকেই আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে প্রায় ৭০০ গ্রাম সোনার গয়না লুট করে পালিয়ে যায় তারা। সেই সময় লুট হওয়া সোনার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ২২ লক্ষ টাকা। বর্তমানে সেই সোনার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা।

    ঘটনার তদন্তে নামে লালবাজারের গোয়েন্দা দপ্তরের ডাকাতি দমন শাখা। তৎকালীন ইন্সপেক্টর দেবব্রত শিকদারের নেতৃত্বে শুরু হয় তদন্ত। তদন্তের সূত্র ধরে শিলিগুড়ি ও অসম থেকে চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে দলের আরও এক সদস্য পুলিশের জালে ধরা পড়েনি। নয় বছর পরেও সেই অভিযুক্ত রয়েছে অধরা।

    মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় মোট ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষ্য পর্যালোচনার পর চার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। প্রত্যেককে ৯ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাঁদের।

    তদন্তকারী অফিসার দেবব্রত শিকদারের দাবি, এই ডাকাতির নেপথ্যে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আর্থিক লাভ নয়, মনিপুরী জঙ্গি গোষ্ঠীর তহবিল গড়ে তোলার উদ্দেশ্যও ছিল। তাঁর দাবি, কলকাতা ও শিলিগুড়ি-সহ একাধিক জায়গায় ডাকাতির ঘটনায় এই পাঁচজনের যোগ পাওয়া গিয়েছিল। এমনকি হিমাচল প্রদেশেও ওই গোষ্ঠীর সদস্যরা ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।


    বিশেষ সরকারি আইনজীবী প্রশান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, চার অভিযুক্তকে জেল হেফাজতে রেখেই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে মামলায় এখনও একজন অভিযুক্ত পলাতক।

    লালবাজারের তরফে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অধরা ওই অভিযুক্তের খোঁজ চলছে। তাকে দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য তদন্তকারীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    নয় বছর আগের সেই দুঃসাহসিক সোনার দোকান লুটের ঘটনায় চারজনের সাজা হলেও, এখনও অধরা পঞ্চম সদস্য। ফলে পুলিশের তদন্তের খাতা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
  • Link to this news (আজকাল)