আজকাল ওয়েবডেস্ক: শেক্সপিয়র সরণি থানায় দায়ের হওয়া একটি প্রতারণা ও জাল নথি সংক্রান্ত মামলায় ওড়িশা থেকে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। ধৃতের নাম বাবাজি পালাই (৩০)। তিনি ওড়িশার জগৎসিংহপুর জেলার প্যারাদীপ লক থানা এলাকার বাসিন্দা।
গত ১২ সেপ্টেম্বর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনার পর আদালতের নির্দেশে তাঁকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
শেক্সপিয়র সরণি থানার কেস নম্বর ১৫৭, তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬১(২), ৩১৬(২), ৩১৮(৪), ৩৩৮, ৩৩৯, ৩৪০(২) এবং ৩৫১(২) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আদালতে দায়ের করা একটি আবেদনের ভিত্তিতে এই মামলা রুজু হয়। অভিযোগকারী প্রতীক মিশ্র তাঁর বাবা প্রদীপ মিশ্রের মাধ্যমে আদালতের দ্বারস্থ হন। অভিযোগে টাটা ক্যাপিটালস লিমিটেডের (পূর্বতন টাটা মোটর ফিনান্স লিমিটেড) কর্মী ও প্রতিনিধিসহ মোট ১০ জনের নাম রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালে অভিযোগকারী টাটা ক্যাপিটালস থেকে ঋণ নিয়ে পাঁচটি ভারী গাড়ি কেনেন। ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি মোট প্রায় ১ কোটি ১৮ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা কিস্তি হিসেবে পরিশোধ করেন। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ অভিযুক্ত মনোজ কুমার দেবতার সঙ্গে ওই পাঁচটি গাড়ি হস্তান্তর নিয়ে একটি মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (MOU) স্বাক্ষর হয়। চুক্তি অনুযায়ী, গাড়িগুলির বিনিময়ে ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার পাশাপাশি বকেয়া EMI পরিশোধ করার কথা ছিল।
অভিযোগ, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে গাড়িগুলির দখল অভিযুক্তের হাতে তুলে দেওয়া হলেও চুক্তি অনুযায়ী অভিযোগকারীকে টাকা দেওয়া হয়নি। এরপর ষড়যন্ত্র করে জাল ও ভুয়ো নথি তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকী ‘নো ডিউ সার্টিফিকেট’ বা ঋণ পরিশোধ সংক্রান্ত শংসাপত্রও জাল করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের দাবি, বাধ্যতামূলক ২৯ ও ৩০ নম্বর ফর্ম সম্পাদন না করেই ওই জাল নথিকে আসল হিসেবে ব্যবহার করে পাঁচটি গাড়ির মালিকানা অন্য অভিযুক্তদের নামে বেআইনিভাবে হস্তান্তর করা হয়। বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের মুখোমুখি হলে অভিযোগকারীকে পরিণতির হুমকি দিয়ে ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ।
ঘটনায় আরও কারা জড়িত এবং জাল নথির মাধ্যমে কীভাবে গাড়িগুলির মালিকানা হস্তান্তর করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মামলার তদন্ত এখনও চলছে।