• রেজিনগরে ঋত শিবিরের প্রার্থী সফিউজ্জামান আবু তাহেরের ভাগ্নে? কী বলছেন এনসিপি সাংসদ?
    প্রতিদিন | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষদিন। তার আগেই সোমবার সন্ধ্যায় রাজ্যের দুই বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। নন্দীগ্রামে ‘আসল’ তৃণমূলের প্রার্থী করা হয়েছে মহম্মদ এহেতাশ মুল হককে। আর রেজিনগর থেকে লড়বেন সফিউজ্জামান শেখ। তাৎপর্যপূর্ণভাবে যিনি কিনা মুর্শিদাবাদের এনসিপিআই সাংসদ আবু তাহের খানের ভাগ্নে। তাঁকে ঘিরে ইতিমধ্যে রাজ্য-রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এরমধ্যেই ঋত তৃণমূল শিবিরের প্রার্থী হিসাবে সফিউজ্জামান শেখের নাম ঘোষণা হতেই নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত রাজনৈতিকমহলের।

    যদিও এই প্রসঙ্গে আবু তাহের বলেন, ”সে দাঁড়িয়েছে, সে জিতুক অবশ্যই আশা করব। যখন আমি প্রচারে যাব, তখন প্রকাশ্যেই বলব আমি কার হয়ে প্রচারে কেন এসেছি।” এদিকে ঋত তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে শেখ সফিউদ্দিনের নাম ঘোষণা হতেই ভোট কাটাকাটির অভিযোগ সামনে আসছে। এমনকী আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অর্থাৎ হুমায়ুন পুত্রকে ভোটে জেতার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠছে। এই প্রসঙ্গে সাংসদ বলেন, “এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যেমন বিজেপি আমাদের বড় শত্রু, তেমনই আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও। যারা ধর্ম নিয়ে খেলা করে, তারা আমাদের শত্রু। রেজিনগরে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির উদয় হোক, সেই জন্যই সফিউজ্জামান প্রার্থী হয়েছে। সে যাতে জেতে, আমরা চেষ্টা করব।”

    কিন্তু কে এই সফিউজ্জামান শেখ? জানা গিয়েছে, বর্তমানে তিনি তৃণমূল পরিচালিত মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও তথ্য দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ পদে রয়েছেন। পেশায় একজন শিক্ষক, এলাকায় হাবিব মাস্টার নামেই বেশি পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। একসময় তিনি নওদা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। সংগঠনের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষক হিসেবে পরিচিতিকে কাজে লাগাতেই তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে বলে ঋতব্রত শিবির সূত্রে খবর। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়। এদিকে নাম ঘোষণা হতেই ময়দানে নেমে পড়েছেন সফিউজ্জামান শেখ। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, দল আমার উপর ভরসা রেখেছে। মাটি কামড়ে থেকে লড়াই করব।

    অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে রেজিনগর কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে প্রাক্তন বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরীকে। রবিউল আলম দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মুখ এবং রেজিনগরে তাঁর নিজস্ব জনভিত্তি রয়েছে। একই দলের দুই শিবির থেকে দুই প্রার্থী দেওয়ায় রেজিনগরের লড়াই কার্যত তৃণমূল বনাম তৃণমূলের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিভাজন ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলবে। বিজেপি, কংগ্রেস ও বাম শিবির এই সুযোগকে কাজে লাগাতে তৎপর। উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলে বহুদিন ধরেই দুটি গোষ্ঠীর টানাপোড়েন চলছে। রেজিনগর উপনির্বাচনে সেই দ্বন্দ্ব এবার প্রকাশ্যে চলে এল। শেষ পর্যন্ত মমতাপন্থী শিবির না ঋতব্রত শিবির – কার পাল্লা ভারী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহল।
  • Link to this news (প্রতিদিন)