• গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের জেরে বন্ধ গ্যাস পাইপলাইন বসানোর কাজ ...
    আজকাল | ১০ মার্চ ২০২৪
  • মিল্টন সেন, হুগলি: গ্রামবাসীদের ন্যায্য দাবির জবাব দিতে না পেরে পিছিয়ে গেল কেন্দ্রীয় সংস্থা। অভিযোগ উঠেছিল, কৃষকদের না জানিয়েই চাষের জমি খুঁড়ে গ্যাস পাইপ পাতার কাজ হচ্ছিল। উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন সম্মিলিত গ্রামবাসীরা। গেইল এর গ্যাস পাইপ লাইন পাতার কাজকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে চণ্ডীতলা। গ্রামবাসীদের তুমুল বিক্ষোভের মুখে পরে কাজ বন্ধ হয়ে যায় চন্ডীতলার নবাবপুরের পাকুর মৌজায়। একই অবস্থা সৃষ্টি হয় কৃষ্ণরামপুরের জঙ্গলপাড়া মৌজায়। জেসিবি দিয়ে জমি খুঁড়তে গেলে কাজ বন্ধ করে দেন উত্তপ্ত গ্রামবাসীরা। খবর পেয়ে চন্ডীতলা থানার পুলিশ র‍্যাফ নিয়ে হাজির হয় ঘটনাস্থলে। ঘটনাস্থলে পৌঁছন রাজ্য সরকারের ভূমি সংস্কার দপ্তরের কর্তারা। কথা বলেন কৃষকদের সঙ্গে। সত্যতা যাচাই করার পরে আপাতত কাজ বন্ধ করার দেওয়া হয়।সম্প্রতি কাজ শুরু হয়েছে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস নিয়ে যাওয়ার কাজ। কাজ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ সংস্থা গেইল। এদিন গেইল এর ডিজিএম কনস্ট্রাকশন সুদীপ দাস বলেছেন, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেল অ্যাক্ট ১৯৬২ সালের অধীনে এই কাজ করা হচ্ছে। বিহার থেকে এই পাইপ লাইন হলদিয়ায় যাবে। বর্ধমানের পাইপলাইন পাতার কাজ শেষ হয়েছে। হুগলিতে সেই কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ হয়ে গেছে। তবে চন্ডীতলায় কাজ করতে কিছু সমস্যা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী জমির মালিকদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ভূমি অধিগ্রহণ দপ্তর থেকে শুনানিও হয়। জমির দাম নির্ধারিত হয় তারপর শুরু হয় এই কাজ। পাইপ লাইন পাতা হলেও, সেই জমি মালিকেরই থাকে। চাষাবাদ করতে পারে। তবে পাইপের ক্ষতি হতে পারে এমন কোনও কাজ করা যায় না।গ্রামবাসীদের অভিযোগ, তাঁদেরকে বিষয়টি জানানোই হয়নি। অনেকেই কোনও নোটিশ পাননি। শনিবার হঠাৎ করেই দেখেন জমিতে জেসিবি নেবে মাটি খুঁড়তে শুরু করেছে। তাই তাঁরা কাজ আটকে দিয়েছেন। জমির ক্ষতিপূরণ কত দেওয়া হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। উল্টে তাঁদের ভয় দেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে জমি দেওয়ার জন্য এমনই অভিযোগ গ্রামবাসীদের। বাসিন্দাদের দাবি, আগে জমির ক্ষতিপূরন সঠিক দিতে হবে। কারণ, স্বাভাবিকভাবেই যে জমিতে পাইপ লাইন বসছে সেই জমির মূল্য কমে যাবে। পরবর্তী সময়ে বাড়ি ঘর বা কারখানার জন্য জমি বিক্রি করার ক্ষেত্রে অসুবিধা হবে। রাজ্য ভূমি সংস্কার দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, জমি সংক্রান্ত জটিলতা কাটার পড়ে আবার কাজ শুরু হবে। ছবি পার্থ রাহা।
  • Link to this news (আজকাল)