কঙ্গনা রানাউত সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগে কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনেতকে শোকজ করল নির্বাচন কমিশন। একইসঙ্গে শোকজ করা হয়েছে BJP-র বর্ধমান-দুর্গাপুরের প্রার্থী দিলীপ ঘোষকেও। তাঁর বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে অসম্মানজনক মন্তব্য করার অভিযোগে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল।সুপ্রিয়া শ্রীনেতকে কেন শোকজ?'মাণ্ডিতে কত করে দর চলছে?' কঙ্গনা রানাউতের একটি ছবি পোস্ট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন সুপ্রিয়া শ্রীনেত। যা নিয়ে তাঁর উপর খড়গহস্ত হয় BJP। হিমাচল প্রদেশের মাণ্ডিতে BJP-র প্রার্থী কঙ্গনাও এর প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। একাধিক BJP নেতা এই নিয়ে কমিশনের দৃষ্টিও আকর্ষণ করেছেন। তারপরই কড়া ভাষায় সুপ্রিয়া শ্রীনেতকে সতর্ক করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৯ মার্চ বিকেল ৫টার মধ্যএ তাঁর জবাব তলব করা হয়েছে।
সুপ্রিয়া শ্রীনেতের দাবি, তাঁর অ্যাকাউন্টের অ্যাকসেস যাদের কাছে রয়েছে, তারা কোনওভাবে এই অশালীন পোস্ট করে থাকতে পারেন। তিনি নিজে তা করেননি এবং বিষয়টি নজরে আসতে তা ডিলিট করে দেন।
সুপ্রিয়া শ্রীনেতকে শোকজ নোটিশ
দিলীপ ঘোষের মন্তব্য নিয়ে আপত্তি কমিশনেরমুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করার অভিযোগে কমিশন সতর্ক করেছিল দিলীপ ঘোষকে। এরপর বুধবার বিকেলে তাঁকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়। একজন মহিলার সম্মানহানি এবং তাঁর সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগে এই নোটিশ ধারনো হয়েছে দিলীপ ঘোষকে। CEO অফিসে গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায় তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল। বর্ধমান-দুর্গাপুরের প্রার্থীর পাশে দাঁড়ায়নি দলও। BJP-র তরফে থেকেও তাঁকে শোকজ করা হয়েছে। তাঁকেও আগামী ২৯ মার্চ বিকেল ৫টার মধ্যে শোকজের জবাব দিতে হবে।
দিলীপ ঘোষ যদিও সাফাই হিসেবে জানান, 'মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কোনও ব্যক্তিগত ঝগড়া নেই। তাঁর সম্পর্কে আমার মনে কোন ক্লেশ নেই। তিনি মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য যে রাজনৈতিক বক্তব্য বারবার বলেছেন, বিভিন্ন জায়গায় আমি তার প্রতিবাদ করেছি। আমার ভাষা, শব্দ প্রয়োগ নিয়ে বহু লোকের আপত্তি আছে। আমার পার্টি বলেছে এটা অসংশোধিত। যদি তাই হয় আমি তার জন্য দুঃখিত।'
কমিশনের বক্তব্যএ বছর প্রথম থেকেই কমিশন লোকসভার প্রচারে ব্যক্তিগত আক্রমণ নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। অশালীন ভাষা প্রয়োগ হলে এবং আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার। কোনও রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা, কারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সমালোচনা করা, রাজনৈতিক দলের প্রচারে নারীদের সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখার বিশেষ আর্জি রেখেছে কমিশন।