বিজ়নেসপার্সন অ্যাজ় ইউজু়য়াল? 'না' বলছেন বহু ব্যবসায়ী-সন্তানই
এই সময় | ০১ এপ্রিল ২০২৪
কৌশিক প্রধান
আর্যমান বিড়লাকে চেনেন? যাঁরা রঞ্জি ক্রিকেটের খবর রাখেন, তাঁদের কাছে আর্যমান খুব একটা অপরিচিত নন। মধ্যপ্রদেশের হয়ে বছর পাঁচেক আগে অন্ধ্রপ্রদেশের বিরুদ্ধে ইন্দোরে রঞ্জি ট্রফির ম্যাচ খেলেছেন। বাঁ-হাতি ওপেনিং ব্যাটার। তবে, ক্রিকেটের বাইরেও তাঁর একটা পরিচয় আছে। আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান কুমার মঙ্গলম বিড়লার ছেলে আর্যমান।
আর্যমানের দিদি অনন্যার প্যাশন মিউজ়িক। গান গাওয়ার পাশাপাশি লিরিকও লেখেন তিনি। সম্প্রতি, ইটি কর্পোরেট অ্যাওয়ার্ডসের হোস্ট হিসেবেও দেখা গিয়েছে অনন্যাকে। আর্যমান বা অনন্যার মতোই অনেক ধনী ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তানের কাছেই পারিবারিক ব্যবসা এখন একমাত্র অল্টারনেটিভ নয়। আগের প্রজন্মের জুতোয় পা গলিয়ে ব্যবসা দেখার বদলে নিজেদের প্যাশনকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ওঁরা।হর্ষবর্ধন নেওটিয়ার মেয়ের কথাই ধরা যাক। অম্বুজা নেওটিয়া গোষ্ঠীর চেয়ারম্যানের মেয়ে পরমা বাবার ব্যবসা দেখবেন সেটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু, তিনি যে ফিল্ম পরিচালনা করেছেন, তা ক’জন জানেন? হর্ষের কথায়, ‘আমার মেয়ে পরমার ফিল্মে ইন্টারেস্ট ছিল। ভালো কবিতা, স্ক্রিপ্টও লিখত। নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি থেকে ফিল্ম স্টাডিজ় নিয়ে পড়ার পরে পরমা একটা বাংলা ফিল্ম ডিরেক্ট করেছে। এখন আমার হসপিট্যালিটি বিজ়নেসে পরমা ইনভলভড থাকলেও ওর ফার্স্ট লভ ফিল্ম। পরমা আবার ফিল্ম বানাবে।’ হর্ষের ছেলে পার্থিবের অবশ্য ছোট থেকেই বিজ়নেসে আগ্রহ। তাই পার্থিব পারিবারিক ব্যবসাই জয়েন করেছেন।
ডাক্তারের ছেলে ডাক্তার হবে কিংবা ব্যবসায়ীর ছেলে ব্যবসায়ী। এমন ধারণাই আমাদের মনে রয়েছে। তবে, আর্যমান, অনন্যা বা পরমার মতো ব্যতিক্রম আরও রয়েছেন। যেমন রাহুল বাজাজের নাতির ধ্যানজ্ঞান এরিয়াল অ্যাক্রোবেটিক। বিল গেটসের মেয়ে জেনিফার গেটস ঘোড়সওয়ারিতে পারদর্শী। শিল্পমহলের পাশাপাশি অন্য জগতেও এমন উদাহরণ অনেক রয়েছে।
জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত নাম তেজস্বী যাদব। আরজেডি নেতা কিছু দিন আগে পর্যন্ত বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। লালুপ্রসাদ যাদবের ছেলের রাজনীতিতে আসার আগে প্রথম প্রেম ছিল ক্রিকেট। বিহারের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বেশ নামডাক ছিল তেজস্বীর। প্রযোজক-পরিচালক বিধু বিনোদ চোপড়ার ছেলে অগ্নি দেবও ক্রিকেটার হিসেবে নাম করেছেন। ২৫ বছরের ব্যাটার অগ্নি মিজোরামের হয়ে রঞ্জিতে ইতিমধ্যেই পাঁচটি সেঞ্চুরি করেছেন। ফুটবলার, কোচ সুব্রত ভট্টাচার্যের ছেলে সাহেব অভিনয় জগতে নাম করেছেন।
অর্থাৎ, অনেকেই সাজানো পারিবারিক সাম্রাজ্যের তথাকথিত নিশ্চয়তা বা কমফোর্ট জ়োন ছেড়ে নিজের পছন্দের জগতে পা রেখেছেন। পছন্দের জগতে সফল হওয়া অনিশ্চিত হলেও তাঁরা ঝুঁকি নিতে ভয় পাচ্ছেন না। ছোটবেলা থেকে দেখা স্বপ্নের বাস্তবে রূপ দেওয়াই এখন তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য। সাধারণ নিয়ম সব সময়ে খাটে না। বাবা-মায়ে সঙ্গে তাঁদের সন্তানদের প্যাশন মিলতে পারে, আবার না-ও পারে।
মিলিওনেয়ারের ছেলে বা মেয়ে ছোটবেলা থেকেই বিলিওনেয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারেন। তবে, সেই স্বপ্ন না দেখে যদি শিল্পপতির ছেলে বা মেয়ে অন্য কিছুকে আঁকড়ে ধরতে চান, তা হলে সেটা হয়তো অনেক সময়ে বাবা-মার পছন্দের হয় না। যদিও মনোবিদরা বলে থাকেন, পাশাপাশি এটাও মাথায় রাখতে হবে যে ছেলে-মেয়ের উপর বাবা-মার জোর করে চাপিয়ে দেওয়া কোনও কিছু হিতে বিপরীতও হতে পারে। এতে পরিবারের মধ্যে অশান্তি শুরু হওয়ার আশঙ্কা থাকে। খলিল জিবরান একবার বলেছিলেন, ‘তোমার সন্তানরা তোমার নয়...।’ তাই ছেলেমেয়ের উপর নিজেদের আশা-আকাঙ্ক্ষা চাপানোর বদলে তাঁদের ইচ্ছা-স্বপ্নকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত প্রত্যেক বাবা-মায়ের।