• মঙ্গলের বিকেলে ধর্না প্রত্যাহার তৃণমূলের
    আজকাল | ১০ এপ্রিল ২০২৪
  • বীরেন ভট্টাচার্য, দিল্লি: দিল্লির মন্দির মার্গ থানাতেই মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ধর্না চালিয়ে গেল তৃণমূল। গতকাল নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের সামনে ধর্না করার সময় দলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও ব্রায়েনের নেতৃত্বাধীন ১০ জনের প্রতিনিধি দলকে ভ্যানে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। মন্দির মার্গ থানায় রাতে তাঁদের আটকে রাখা হয়। পুলিশের দাবি, রাতেই তৃণমূল নেতাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। যদিও বন্ধ করে রেখে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। তৃণমূলের দাবি, রাতে ছেড়ে দিলেও দরজা খোলা হয়নি। আজ তৃণমূল নেতাদের পাশে দাঁড়ান আপ নেতা ও দিল্লির মন্ত্রী সৌরভ ভরদ্বাজ।রাত ১টা নাগাদ তৃণমূলের প্রতিনিধিদের মুক্ত বলে জানানো হয়। কোন আইনে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত আটকে রাখা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন। তিনি বলেন, "ইডি, সিবিআই, এনআইএ, আয়কর দপ্তরের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দলের কার্যালয়ে পরিণত করেছে বিজেপি। তাদের নেতাদের অঙ্গুলি হেলনেই চলছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি। এই চার সংস্থার শীর্ষ কর্তার অপসারণের দাবিতে আমাদের ধরণা কর্মসূচি।" দোলা সেনের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ ধর্না করা সত্ত্বেও জোর করে, টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তুলেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশ। দোলার কথায়, "রাত সাড়ে ১২টার পর পুলিশের তরফে আমাদের জানানো হয় আমরা মুক্ত। আমার প্রশ্ন, তিন মহিলা সাংসদ সহ ১০ জনকে রাত ১২টা পর্যন্ত সিআরপিসির কোন ধারায় আটকে রাখা হল? আমাদের আটক নাকি গ্রেপ্তার করা হয়েছিল আমাদের বলা হয়নি বা কোনও নথি দেওয়া হয়নি। রাত সাড়ে ১২টার পর আমাদের মুক্ত করলে মধ্যরাতে আমরা কোথায় যাব?" দোলা সেনের প্রশ্ন, "মিথ্যার পর মিথ্যা বলা হচ্ছে। পুলিশ নাটক করে বলছে সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আনা হয়েছে, ৭টায়, তাহলে ৬টায় মুক্ত হয় কীভাবে, আবার কখনও বলা হচ্ছে রাত ৯টায় ছাড়া হয়েছে।"আজ সকালে কিছুক্ষণের জন্য বাইরে গিয়েছিলেন নাদিমূল হক এবং সাগরিকা ঘোষ। যদিও আর তাঁদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বাইরেই বসেছিলেন তাঁরা। দোলা সেন বলেন, "ভিতর থেকে বাইরে আসতে দেওয়া হচ্ছে না, বাইরে থেকে ভিতরে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। অথচ মোদির পুলিশ নাটক করছে, আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।" এদিন সৌরভ ভরদ্বাজের নেতৃত্বে আপ বিধায়কদের একটি প্রতিনিধি দল তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। তবে গেটের ভিতরে যেতে দেওয়া হয়নি দিল্লির মন্ত্রীকে। গ্রিলের ফাঁক দিয়েই তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সৌরভ ভরদ্বাজ বলেন, "দেশে লোকসভা নির্বাচনের পর্ব চলছে, আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়ে গিয়েছে। সেই সময়েই সমস্ত কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং প্রশাসনের নির্বাচন কমিশনের অধীন থাকা উচিত। যদিও, যেভাবে পশ্চিমবঙ্গ এবং দেশের অন্যান্য জায়গায় ইডি, এনআইএ, আয়কর দপ্তরের তল্লাশি হচ্ছে, পুরনো মামলা খুঁচিয়ে তুলছে সিবিআই, তারমধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বিরোধীদের এই নির্বাচনে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে দিতে চায়। ঘরে বসিয়ে দিতে চায় এবং বাইরে বেরোলেই বন্দি করা হচ্ছে।" তিনি বলেন, "যখন আদর্শ আচরণবিধি চলছে সেই সময় তৃণমূলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের থানায় আটক করে রাখা হয়েছে। এটা পুরোপুরি একনায়কতন্ত্র চলছে। কনট প্লেসে বিজেপি বিক্ষোভ করেছে মাইক বাজিয়ে, তাঁবু খাটিয়ে। তাঁদের কেন অনুমতি দেওয়া হল? অথচ তৃণমূল সাংসদদের গ্রেপ্তার করা হল।" এক্স অ্যাকাউন্টে পোষ্ট করে তৃণমূলের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং।
  • Link to this news (আজকাল)