Lok Sabha Election 2024: কী ভাবে নির্বাচনী প্রতীকের ব্যবহার চালু? নেপথ্য কার অবদান? লোকসভার আগে জানুন অজানা কথা
এই সময় | ১১ এপ্রিল ২০২৪
দল ও প্রার্থীদের সবচেয়ে বড় পরিচয় হল নির্বাচনী প্রতীক। নির্বাচনী প্রতীক দেখেই ইভিএম মেশিনি নির্দিষ্ট বোতামে চাপ দিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া যায়। প্রত্যেক দলের নির্বাচনী প্রতীক তৈরির পিছনে রয়েছে এক এক কাহিনি। ১৯৫১-৫২ সালের মধ্যে যখন দেশে সাধারণ নির্বাচনে প্রস্তুতি চলছিল তখন সবচেয়ে বড় বাধা ছিল প্রার্থী ও দলগুলির চিহ্নিকরণ। সেই সময় ভারতের স্বাক্ষরতার হার ছিল ১৬%-এর কম। নির্বাচন কমিশন সংকটে পড়েছিল যে, শিক্ষিত নয় এমন ভোটাররা কীভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন? শেষমেশ অনেক ভেবেচিন্তে নয়া এক পদ্ধতি চালু করেছিল কমিশন।প্রতি প্রার্থীর জন্য আলাদা ব্যালট বাক্স
প্রতিটি প্রার্থীর জন্য আলাদা রঙের একটি পৃথক ব্যালট বাক্স তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়াও, প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছিল যা দৈনন্দিন জীবনের সাথে সম্পর্কিত এবং সহজেই চিহ্নিত করা যায়। প্রার্থীদের প্রতীকও তাদের ব্যালট বাক্সে এঁকে দেওয়া ছিল। ভোটাররা তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে শুধুমাত্র ব্যালটপেপারটি প্রার্থীর নামাঙ্কিত ব্যালট বাক্সে ভরে দিতে হয়েছিল ভোটারদেরে। ব্যালট পেপারগুলো ছাপা হয়েছিল নাসিকের ইন্ডিয়া সিকিউরিটি প্রেসে, যেখানে ভারতীয় মুদ্রা ছাপা হত।
দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থীরা যে প্রতীক পেয়েছিলেন তার নেপথ্যে ছিল এক ব্যক্তির কঠোর পরিশ্রম। তিনি এমএস শেঠি। ১৯৫০ সালে নির্বাচন কমিশনে ড্রাফ্টসম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন। তাঁর কাজ ছিল নির্বাচনী প্রতীকের স্কেচ তৈরি করা। এজন্য কমিশন কর্মকর্তা ও শেঠি একসঙ্গে বৈঠক করেন। কোন কোন জিনিসকে নির্বাচনী প্রতীক করা যায় তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। ঝাড়ু, হাতি, সাইকেল, ঘুড়ি, কাঁচির মতো শতাধিক নির্বাচনী প্রতীক এই পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছে। যখনই কোনও প্রতীকের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে তখনই স্কেচ এঁকে ফেলতেন শেঠি। স্কেচগুলিও ছিল সহজ-সরল প্রকৃতির যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই চিনতে পারে। দু'টি একই রকম প্রতীক যাতে বিভ্রান্তি না ছড়ায় সেই বিষয়টিও খেয়াল রাখা হয়েছিল। নির্বাচনী প্রতীক ঠিক করার সময় বেশ কয়েকটি জিনিস নিয়েও আলোচনা হয়েছিল যে সম্পর্কে সেই সময় জনগণ অবহিত ছিলেন না। তার মধ্যে ছিল নেইল কাটার, গলার টাই। এগুলিকে নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না তা নিয়ে আলোচনা হয়। তবে সেইসময় এই জিনিসগুলির সঙ্গে আমজনতার খুব একটা পরিচয় হয়নি। সাধারণত ইংরাজি জানা শিক্ষিত সম্প্রদায়ই ব্য়বহার করত এই ধরনের জিনিসগুলি।