• সীতাভোগ-মিহিদানার শহরে পুজোয় ২ কোটির মিষ্টি বিক্রি
    বর্তমান | ২৮ অক্টোবর ২০২১
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো ঘিরে অনেকেরই বিভিন্ন পরিকল্পনা থাকে। পুজো প্ল্যানে যেমন ঘোরাফেরা, নতুন সাজ পোশাক কেনা যেমন থাকে, তেমনই থাকে খাওয়া-দাওয়ার বিভিন্ন পরিকল্পনা। পাত পেড়ে ভূরিভোজে বাঙালির ধারে কাছে কেউ নেই। সেই উন্মাদনা পুজোর সময় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তারই প্রমাণ মিলল বর্ধমান শহরে মিষ্টি বিক্রির পরিসংখ্যানে। ষষ্ঠী থেকে একাদশী পুজোর ছ’দিনে দেড় কোটি টাকার বেশি মিষ্টি বিক্রি হয়েছে সীতাভোগ মিহিদানার এই শহরে। বিজয়ার পরে মিষ্টি বিক্রি আরও বাড়ে। লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত শহরে মোট মিষ্টি বিক্রি হয়েছে প্রায় দু’কোটি টাকার। পুজোয় রকমারি পদের খাওয়া দাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। বিজয়ার শুভেচ্ছা মিষ্টি ছাড়া ভাবাই যায় না। তাই, বিসর্জনের বাদ্যি বাজতেই মিষ্টি কেনার ধুম শুরু হয় দোকানে দোকানে। করোনার পর প্রতিদিনের মিষ্টি বিক্রিতে ভাটা পড়লেও এই বিজয়া উৎসবে মিষ্টির চাহিদা হাসি ফুটিয়েছে ব্যবসায়ীদের। মিহিদানা ও সীতাভোগের পাশাপাশি বিভিন্ন শুকনো মিষ্টির দেদার চাহিদা রয়েছে বর্ধমানের অধিকাংশ মিষ্টি বিপণিতে। প্রথা মেনে বিজয়ার সৌজন্য ও শুভেচ্ছা বিনিময়ে মিষ্টির বিকল্প নেই। তাই বিজয়ার মিষ্টির পাতে এখন বর্ধমানের ট্রেডমার্ক সীতাভোগ ও মিহিদানার পাশাপাশি শক্তিগড়ের ল্যাংচা এবং বিভিন্ন শুকনো মিষ্টির চাহিদা রয়েছে। প্রথা মেনে বিজয়ার জন্য মিষ্টির বিক্রি বাড়লেও সারাবছর দৈন্যন্দিন মিষ্টি বিক্রি কমেছে।তবে সব আক্ষেপ ভুলিয়ে দিয়েছে এবারের উৎসব। শুরুতেই মিষ্টির চাহিদার কথা আঁচ করে বিভিন্ন মিষ্টির সম্ভারে ডালা সাজিয়েছিলেন দোকানদাররা। তাঁরা বলেন, করোনার জেরে মিষ্টি বিক্রিতে ব্যাপকভারে ভাটা পড়েছিল। কিন্তু এবছরের উৎসব কিছুটা হলেও আশা দেখাল। গতবার পুজোয় একেবারে মিষ্টি বিক্রি হয়নি। এবার সেই বিক্রি অনেকটাই বেড়েছে। গতবার পুজোর মরশুমে খুব একটা ভালো বিক্রি না হওয়ায় অনেক দোকানদার এবছর বুঝেশুনে মিষ্টি তৈরি করেছিলেন। তবে পঞ্চমী ও ষষ্ঠীতে বাজার খুব একটা চাঙ্গা না হলেও, সপ্তমীর রাত থেকেই মিষ্টি বিক্রি বাড়তে থাকে। শহরের প্রায় ২০০টি ছোটবড় মিষ্টি বিপণিতে একদিনে ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা অবধি ব্যবসা হয়। বর্ধমান সীতাভোগ মিহিদানা ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক তথা মিষ্টি ব্যবসায়ী প্রমোদ কুমার সিং বলেন, পুজোর মরশুমে শহরের প্রায় প্রত্যেকটি দোকানে বিক্রি ভালো হয়েছে। দৈনিক গড়ে মোট বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। পুজোর ওই ক’দিনে মোট দেড় কোটির বেশি বিক্রি হয়েছে। লক্ষ্মীপুজো অবধি ধরলে তা দু’কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিগত দেড় বছরে বিভিন্ন পার্বণে ছাড়া মিষ্টি বিক্রি অনেকটাই কমে গিয়েছিল। এবারের পুজো ও বিজয়ায় মিষ্টি বিক্রি বাড়ায় ব্যবসায়ী মহলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
  • Link to this news (বর্তমান)