• দুর্গাপুর ব্যারেজের কোলেই ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে উঠছে আধুনিক পার্ক, থাকবে সেলফি জোন
    বর্তমান | ২৮ অক্টোবর ২০২১
  • সুমন তেওয়ারি, দুর্গাপুর : ব্যারেজের কোলে ৪০ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে সেচদপ্তরের জমিতে অত্যাধুনিক পার্ক গড়ে তুলছে বনদপ্তর। দামোদরের তীরে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে এই বিশাল পার্কে থাকবে জলাশয় থেকে কৃত্রিম পাহাড় ও বিশালাকার ফোয়ারা। ইতিমধ্যেই গড়ে উঠেছে খড়ের চালের একাধিক প্যাগো হাউস, পেভার ব্লকের রাস্তার সংযোগস্থলে বসবে মনীষীদের স্ট্যাচু। বসার জায়গার পাশে ফুল ও ফলের বাগান। আধুনিক মানের শৌচালয়, ওয়াটার এটিএম, কী নেই সেখানে। শিশু ও বয়স্কদের জন্যও থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। নবরূপে সেজে ওঠা ব্যারেজের গায়ে দামোদরের এই  তীর দুর্গাপুর ও বাঁকুড়া জেলার বিস্তীর্ণ অংশের বাসিন্দাদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে। দামোদরের এই তীর বারবারই প্রকৃতিপ্রেমীদের আকৃষ্ট করত। কিন্তু কোনও উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগায় পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের আক্ষেপ দীর্ঘদিনের। প্রকৃতির টানেই শীতের মরশুমে হাজার হাজার মানুষ এখানে পিকনিক করতে ভিড় জমান। এবার নতুন রূপ দেখে পর্যটকরা অভিভূত হবেন বলেই কর্তৃপক্ষের দাবি। সেচদপ্তররের দুর্গাপুর হেড ওয়ার্কস ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জয় সিং বলেন, পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশাল এলাকাজুড়ে পার্ক গড়ে এলাকার সৌন্দর্যায়ন করা হচ্ছে।

    বহু প্রাচীন দুর্গাপুর ব্যারেজ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ঘেরা। শীত এলেই পরিযায়ী পাখির দল ভিড় জমায় এখানে। ব্যারেজের নিম্নভাগে দামোদরের বাঁক, বালির চর বহু মানুষকেই আকর্ষণ করে। অথচ সেখানে এতদিন ছিল না কোনও আধুনিকতার ছোঁয়া। দুর্গাপুর ও বাঁকুড়া জেলার বড়জোড়া সহ একাধিক ব্লকের মানুষ পিকনিকের জন্য এই জায়গা বেছে নেন। নদীর দক্ষিণ পাড়ে বালির চরের উপর থাকা উঁচু গাছের সারির মাঝেই পিকনিকের আসর বসায় স্কুল কলেজের পড়ুয়ারা। পরিবার নিয়েও বহু মানুষ পিকনিক করতে আসেন। ডিসেম্বরের শেষে ও জানুয়ারি মাসে পিকনিক করার জন্য ভালো স্পট পেতে ভোর থেকেই জায়গা রাখতে হয়। এবার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের সঙ্গে যোগ হচ্ছে উন্নয়নের স্পর্শ। পার্ক গড়ার আগেই নদীর পাড় বড় বড় সিমেন্টের ব্লক দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছে। এরপর প্রথমেই বালির কিছুটা স্তর তুলে সেখানে মাটি ভরাট করা হয়েছে। তার উপর লাগানো হয়েছে ঘাস। গাছগুলি না কেটে সুন্দরভাবে ঘেরা হয়েছে। পুরো এলাকা তারের রেলিংয়ে ঘেরা। সেখানেই বসার জন্য ২০টি জায়গা করা হয়েছে। মাঝে মাঝে লাগানো হয়েছে বাহারি ফুলের গাছ। বড় জলাশয়ের চারপাশে বসার জায়গা রয়েছে। পার্কের সৌন্দর্য্য বাড়াচ্ছে মাঝে মধ্যে থাকা খড়ের চালার নীচে বসার জায়গা। একটি কৃত্রিম পাহাড়কে সাজিয়ে সেখানেই সেলফি জোন বানানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই শালিক সহ নানা পাখি ভিড় জমিয়েছে সেখানকার সবুজ ঘাসে। পার্কটির দুটি অংশ রয়েছে। রাস্তার পাশেই উপরের অংশটি শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সেখানে বসার জায়গার পাশাপাশি শিশুদের খেলার নানা উপকরণ থাকবে। বয়স্কদের হাঁটার জায়গা রয়েছে। পার্কের নীচের অংশটির আয়তন বেশি। সেখানে পার্কিং জোনের পাশাপাশি টিকিট ঘর, চারটি বড় গেটও গড়ে তোলা হচ্ছে।তবে পুরো বিষয়টি করা সহজ ছিল না। সেচদপ্তরের জায়গা হলেও তার অনেকটা অংশ দখল হয়ে গিয়েছিল। তাই জায়গা পুনরুদ্বারে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। বহু জায়গা উদ্ধার করাও যায়নি। ওই জায়গা উদ্ধার করা গেলে আরও বেশি এলাকাজুড়ে সৌন্দর্যায়ন হতো বলে জানান অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • Link to this news (বর্তমান)