• রায়নায় খুন: সিসিটিভি ফুটেজে মিলল সন্দেহজনক গতিবিধি, তদন্তে পুলিস
    বর্তমান | ২৮ অক্টোবর ২০২১
  • অভিষেক পাল, বর্ধমান : গত শুক্রবার রাতে রায়নায় গ্রামের বাড়িতে এসে ব্যবসায়ী খুনের রহস্য ক্রমশ জটিল হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পর এক সপ্তাহ হয়ে গেলেও এখনও অধরা অভিযুক্ত। একাধিক সূত্র থেকে বিভিন্ন তথ্য পেয়ে তদন্ত করেও খুনের কিনারা করতে পারছেন না জেলা পুলিসের তদন্তকারী আধিকারিকরা। এদিকে ঘটনায় আটক করে মৃত ব্যবসায়ীর গাড়িচালক, দেহরক্ষী ও রাঁধুনিকে জিজ্ঞাসাবাদ চলেছে। ধৃতদের বয়ান অনুসারে খুনের পর রায়না-জামালপুর রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিস। সেক্ষেত্রে কাড়ালাঘাট ও পালসিট টোলে থাকা সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে ধৃতদের বয়ান কিছুটা হলেও মিলছে। শুক্রবার রাতের সিসিটিভি ফুটেজে কিছু সন্দেহভাজন কয়েকজনের গতিবিধি রয়েছে বলেই সূত্রের খবর। তাদের সঙ্গে খুনের ঘটনার লিঙ্ক খুঁজছে পুলিস। 

    শুক্রবার রাতে খুনের ঘটনার পর সব্যসাচীবাবুকে নিয়ে গাড়ি করে তাঁর তিন সঙ্গী হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেয়। যাতায়াতের ফুটেজ ও তার আগে গাড়িটির আসা যাওয়ার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সেক্ষেত্রে গাড়ির মধ্যে প্রথমে কতজন ব্যক্তি ছিল, রাতে ঘটনার পর কতজন ছিল, তা সিসিটিভি ফুটেজ ধরে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই ঘটনার আগে একটি বাইকে দুই যুবকের গতিবিধি যথেষ্ট সন্দেহজনক বলে অনুমান পুলিসের। তাদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করে এই ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্রের খবর, ওই রাতে ঘটনার আগে একটি বাইকে দুই যুবক গুগল ম্যাপ দেখে রায়নার দিকে যাচ্ছিল। এই খুনের ঘটনায় ওই বাইকে থাকা যুবকের গতিবিধি সন্দেহজনক হলেও খুনের ঘটনায় কোনও যোগ আছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    সব্যসাচীবাবুর হত্যাকাণ্ডে অভিযোগ উঠেছে তাঁর কাকা গৌরহরি মণ্ডল এবং খুড়তুতো ভাই দীনবন্ধু ও সোমনাথের বিরুদ্ধে। সব্যসাচীবাবুর বাবার সরাসরি অভিযোগ ছিল, সুপারি কিলার দিয়ে ছেলেকে খুন করিয়েছে তাঁর দুই ভাইপো। এক্ষেত্রে পারিবারিক সম্পত্তির জন্যই কি রায়নায় এনে খুন করা হল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। কিন্তু রায়নায় আসার ব্যাপারে ঘনিষ্ঠ মহল ও কয়েকজন বাড়ির সদস্য ছাড়া কেউ জানতেন না। সেক্ষেত্রে কি রায়নায় সব্যসাচীবাবুর সঙ্গে থাকা কেউ তাঁর গতিবিধির ব্যাপারে বাইরে কাউকে জানিয়েছিলেন? সেই সম্ভাবনাও উঠে আসছে। তাহলে সেই ঠিকানা ধরে গুগল ম্যাপ দেখেই কি আততায়ীরা ব্যবসায়ীর বাড়িতে পৌঁছে যায়? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। এদিকে দরিয়াপুরে ব্যবসায়ী বাড়ি থেকে ছ’কিলোমিটার দূরে জামালপুরের দিকের রাস্তায় একটি কালো পিঠ ব্যাগের মধ্যে বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার হয়। ওই অস্ত্র দিয়েই এই খুন করা হয়েছে কি না জানতে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিস। আততায়ীরা রাস্তার ধারে কোনও প্রমাণ ফেলে গিয়েছে কি না, তাও হাতড়ে বেড়াচ্ছে পুলিস। বুধবার তদন্তকারী দল পাঁচটি গাড়িতে ভাগ হয়ে ওই রাস্তার  বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথাও বলেন। এ ব্যাপারে এসডিপিও সদর (দক্ষিণ) আমিনুল ইসলাম খান বলেন, এদিন তদন্তকারী দলের প্রতিনিধিরা কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে ওই রাস্তার বিভিন্ন জায়গা খুঁজে দেখে। আশা করছি দ্রুত খুনের রহস্যের কিনারা হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)