• মেরুকরণ নয়, সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে প্রচারে তৃণমূলশান্তিপুরে কংগ্রেসের প্রচারে অধীর চৌধুরি
    বর্তমান | ২৮ অক্টোবর ২০২১
  • সংবাদদাতা, রানাঘাট: ধর্মীয় মেরুকরণের ঊর্ধ্বে উঠে সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তা দিল তৃণমূল। বুধবার সকালে শান্তিপুর উপনির্বাচনে শেষদিনের প্রচারে স্বামী বিবেকানন্দ ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মডেল সাজিয়ে প্রচারে চমক দেয় শাসকদল। মাত্র ছ’মাস আগে হয়ে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনের জয় ধরে রাখতে শান্তিপুরে ধর্মীয় মেরুকরণকেই কাজে লাগাতে চাইছে গেরুয়া শিবির। তাই ওই মডেলের মাধ্যমেই সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন তৃণমূল প্রার্থী ব্রজকিশোর গোস্বামী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি রত্না ঘোষ কর। শাসকদলের অভিনব প্রচার দেখতে সকালে শহরের অলিগলিতে ভিড় জমে যায়।শুধু তৃণমূল নয়, শেষদিনের প্রচারে সকাল থেকেই রাস্তায় নামতে দেখা গিয়েছে সিপিএম প্রার্থী সৌমেন মাহাত, কংগ্রেস প্রার্থী রাজু পাল ও বিজেপি প্রার্থী নিরঞ্জন বিশ্বাসকে। কংগ্রেস প্রার্থীর হয়ে বিকেলে শহরে আসেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। আগামী ৩০নভেম্বর রাজ্যের অন্য তিন কেন্দ্রের পাশাপাশি শান্তিপুরে উপনির্বাচন হতে চলেছে। এদিনই ছিল শেষদিনের প্রচার। তাই সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রচারেই ব্যস্ত ছিলেন প্রার্থীরা। এদিন সকাল থেকে তৃণমূল প্রার্থী শহরের ১৪,১৬ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডে হেঁটে প্রচার চালান। সিপিএম প্রার্থীকে নৃসিংহপুর, সূত্রাগড় এলাকায় কখনও হেঁটে, কখনও টোটোয় চেপে প্রচার করতে দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি কংগ্রেস প্রার্থী রাজুবাবু সকালের দিকে শহরের স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি প্রচার করেন। তাঁর সমর্থনে বিকেলে হুডখোলা গাড়িতে চেপে প্রচারে নামেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী, জেলা কংগ্রেসের সভাপতি অসীম সাহা। 

    বিজেপি প্রার্থী নিরঞ্জনবাবুও সকাল থেকে শেষদিনের প্রচারে নামেন। হরিপুর, নৃসিংহপুর শহরের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরকে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রচার করেন। মন্ত্রী বলেন, শান্তিপুর আমাদের জেতা আসন। উপনির্বাচনেও কেন্দ্রটি আমাদের দখলে থাকবে। ভোটের পর ইভিএম দেখলেই বোঝা যাবে, মানুষ তৃণমূলের সঙ্গে নেই। পাশাপাশি চার রাজনৈতিক দলের প্রার্থীই জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত বলে দাবি করেন।এদিন সকাল থেকেই চার রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রচার গাড়ি শহর থেকে গ্রামে প্রচার চালায়। শাসকদলের কর্মীদের বলতে শোনা গিয়েছে, উন্নয়ন ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে আমাদের প্রার্থীকে ভোট দিন। দলের মহিলা কর্মীরাও এদিন প্রচার গাড়িতে করে বিভিন্ন মহল্লায়, রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখেন।  বিজেপি আবার ‘রাজ্যকে বাংলাদেশ না করার’ ডাক দিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছে। অন্যদিকে বামেরাও কৃষক, শ্রমিক বেকারত্ব ইস্যুতে তাদের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আর্জি জানায়। প্রচারে পিছিয়ে ছিল না কংগ্রেসকেও। শান্তিপুর কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। তাই শান্তিপুরের মাটিতে আবারও কংগ্রেস প্রার্থী জয় নিশ্চিত করতে ভোট চান কর্মীরা। সব মিলিয়ে এদিন বিকেল পর্যন্ত প্রচার গাড়ি, মাইকের আওয়াজে শেষদিনের প্রচারে শান্তিপুর উৎসবের চেহারে নেয়। ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত, এবার চার রাজনৈতিক দলই শান্তিপুরের ভূমিপুত্রদের প্রার্থী করেছে। তাই বহিরাগত প্রার্থী হিসেবে প্রচারে একে অন্যকে আক্রমণ শানাতে পারেনি। এছাড়া রাজ্যের শাসকদল ক্ষমতায় থাকায় উন্নয়নের খতিয়ান ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে প্রথম থেকেই জোর প্রচার চালিয়েছে তৃণমূল। উপনির্বাচনে এই বিধানসভাটি নিজেদের দখলে আনতে সবরকম প্রচার চালিয়েছে শাসকদল। অন্যদিকে জয় ধরে রাখতে মরিয়া বিজেপি। আগামী শনিবার ভোট, ইভিএমেই প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন ভোটাররা। 
  • Link to this news (বর্তমান)