• ফের এক বিজেপি বিধায়কের তৃণমূলে  যোগদান, আরও চাপে গেরুয়া শিবির
    বর্তমান | ২৮ অক্টোবর ২০২১
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে চার বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনের ৭২ ঘণ্টা আগে বিজেপি শিবিরে বড়সড় ভাঙন ধরাল তৃণমূল কংগ্রেস। বলা ভালো, উপনির্বাচনের প্রচারের শেষলগ্নে বিজেপির এক বিধায়ককে দলে শামিল করিয়ে গেরুয়া শিবিরকে আরও চাপে ফেলে দিল ঘাসফুল। পদ্ম ছেড়ে হাতে ঘাসফুলের পতাকা তুলে নিলেন রায়গঞ্জের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী।

    শনিবার উপনির্বাচন রয়েছে খড়দহ, গোসাবা, শান্তিপুর ও দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রে। ঠিক এক মাস আগে ৩০ সেপ্টম্বর ভোট হয় ভবানীপুর, জঙ্গিপুর ও সামসেরগঞ্জে। তিনটি আসনেই তৃণমূল জিতেছে। আর আসন্ন উপনির্বাচনের প্রচার শেষ হল বুধবার। তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, চারটি আসনেই তৃণমূল জিতবে। বিজেপি খাতাই খুলতে পারবে না।

    ঠিক এই অবস্থায় তৃণমূলকে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছে বিজেপির এক বিধায়কের জোড়াফুলের পতাকাতলে শামিল হওয়ার মধ্যে দিয়ে। বুধবার ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের অস্থায়ী কার্যালয়ে যোগদান পর্ব হয়। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। তাঁকে দলে স্বাগত জানান তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ছিলেন তৃণমূলের হিন্দি সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিধায়ক বিবেক গুপ্তা। কৃষ্ণকে উত্তরীয় পরিয়ে, তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে দেওয়া হয়। 

    কিছুদিন ধরেই দলের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। প্রকাশ্যে দলের কাজকর্মের সমালোচনা করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এরপর তৃণমূলে শামিল হতে চেয়ে তিনি আবেদন করেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। যে আবেদনে সম্মতি দেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। 

    এদিন যোগদানের অনুষ্ঠানেও বিজেপির তীব্র সমালোচনা করেছেন কৃষ্ণ কল্যাণী। তাঁর বক্তব্য, বিজেপিতে ভালো কাজের মূল্যায়ন হয় না। ভালো কাজের পরিবেশ নেই। আছে শুধুই ষড়যন্ত্র। পাশাপাশি বিজেপি নেত্রী দেবশ্রী চৌধুরীর বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন কৃষ্ণ। তাঁর বক্তব্য, ভালো কাজের জন্য দল আমাকে তিরস্কারই করেছে। আর কেউ খারাপ কাজ করে পেয়েছে পুরস্কার। রাজ্যের বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন কৃষ্ণ।

    বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়েছে মে মাসে। তারপর থেকে এপর্যন্ত বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন পাঁচ বিধায়ক। যদিও বিধায়কের দল ছাড়ার প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, কৃষ্ণ কল্যাণীর অনেকদিন ধরেই দলের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। এটা ওঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এতে দলের কোনও ক্ষতি হবে না। পাল্টা তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ইদানীং বিজেপি যে-সমস্ত কাজকর্ম করেছে, তাতে তাদের বিচিত্র রাজনৈতিক দলই বলা যায়। বিজেপিকে মিউজিয়ামে রাখা উচিত! - নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)