• পেগাসাসে মোদিকে ধাক্কা সুপ্রিম কোর্টের‘জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে পার পাওয়া যায় না, তদন্ত করবে কমিটি’
    বর্তমান | ২৮ অক্টোবর ২০২১
  • সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি : কেন্দ্রের হাজার আপত্তিতেও কাজ হল না। পেগাসাস কাণ্ডে অবশেষে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করল সুপ্রিম কোর্ট। ইজরায়েলি সফটওয়্যারের সাহায্যে বিরোধী দলের শীর্ষনেতা, বিচারপতি, সমাজকর্মী, সাংবাদিকদের ফোনে আড়ি পাতার ঘটনায় আঙুল উঠেছে মোদি সরকারের দিকে। জাতীয় নিরাপত্তার ধুয়ো তুলে তার দায় ঝেড়ে ফেলতে সক্রিয় কেন্দ্র। কিন্তু বুধবার শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিল, ‘সর্বদা জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে পার পাওয়া যায় না। রাষ্ট্র যাবতীয় বিষয় এভাবে এড়িয়ে যেতে পারে না। তাছাড়া ওই স্পাইওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেব্যাপারে স্পষ্ট জবাব দিতে পারেনি সরকার। তাই আদালতও নির্বাক দর্শক হয়ে থাকতে পারছে না।’ এদিনের রায়ের ছত্রে ছত্রে উঠে এসেছে নাগরিকদের ব্যক্তি স্বাধীনতার প্রসঙ্গ। আর তার শুরুটা হয়েছে ব্রিটিশ সাহিত্যিক জর্জ অরওয়েলের উপন্যাস ‘নাইনটিন এইট্টিফোর’-এর একটি লাইন দিয়ে—‘যদি আপনি কোনও কিছু গোপন রাখতে চান, তবে সেটা আপনাকে নিজের থেকেও লুকিয়ে রাখতে হবে।’পেগাসাস কাণ্ডের তদন্তে বিশেষ কমিটি গড়তে চেয়েছিল মোদি সরকার। তবে বিষয়টি নিজের হাতে রাখতে বারবার আবেদনও জানানো হয়। কিন্তু সেই আর্জিতে কর্ণপাত করেনি শীর্ষ আদালত। উল্টে এদিন প্রধান বিচারপতি এন ভি রামনার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নিজের মতো করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের রায় দিয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন, গান্ধীনগরের ন্যাশনাল ফরেন্সিক সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন নবীনকুমার চৌধুরী, কেরলের অমৃতা বিশ্ব বিদ্যাপীঠমের অধ্যাপক পি প্রভাহরণ এবং আইআইটি বম্বের কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ইনস্টিটিউট চেয়ার অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর অশ্বিন অনিল গুমাস্তে। কমিটির কাজে নজরদারি চালাবেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আর ভি রবীন্দ্রন। তাঁকে সে কাজে সহায়তা করবেন প্রাক্তন আইপিএস অলোক যোশি, ডঃ সন্দীপ ওবেরয়। তাঁদের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করবেন সুপ্রিম কোর্টের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি ভি কে বনসল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, পেগাসাসের মাধ্যমে ফোনে আড়ি পাতার অভিযোগ সত্যি কি না, তা যত দ্রুত সম্ভব খতিয়ে দেখবে কমিটি। সেব্যাপারে সরকারের ভূমিকা কী, সেটাও পর্যালোচনা করবেন সদস্যরা। কমিটির কাজে সবরকম সাহায্য করবে কেন্দ্র তথা রাজ্য সরকার। আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে সেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে।পেগাসাস ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের ৪৬ পাতার রায়ে চাপে পড়ে গিয়েছে মোদি সরকার। রায় সামনে আসতেই কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করেছেন তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্রায়েন। তাঁর কথায়, ‘তাহলে সংসদের বাদল অধিবেশনে যে দাবিতে আমরা যে সরকারকে চেপে ধরেছিলাম, তা সত্যি হল তো! এখন সরকার কী জবাব দেবে?’ রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের প্রশ্ন, ‘যদি ওয়াটার গেটের পরে আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে ইস্তফা দিতে হয়, তাহলে তাহলে আজকের পরে মোদিই বা করবেন না কেন?’কেন্দ্রকে চেপে ধরেছেন রাহুল গান্ধীও। সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দেশের ঊর্ধ্বে নন। তাই পেগাসাসের মাধ্যমে নাগরিকদের ফোনে আড়ি পাতার রিপোর্ট যদি তাঁর টেবিলে প্রতিনিয়ত গিয়ে থাকে, তাহলে তা ক্রিমিনাল অফেন্স। এ ব্যাপারে আমরা সংসদের আগামী অধিবেশনেও সরব হব। প্রধানমন্ত্রীর জবাব চাইব।’
  • Link to this news (বর্তমান)