• অত্যাচারী ছেলে-বউমা বাড়ি ছাড়তেই বিয়ের ইচ্ছে বৃদ্ধের
    বর্তমান | ২৮ অক্টোবর ২০২১
  • পল্লব চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: বিয়ে করতে আর বাধা নেই মণীন্দ্রবাবুর। বার্ধক্য আর অসুস্থতা তাঁকে কাবু করলেও সাতাত্তরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ফের বিয়ে করার ইচ্ছা হয়েছে তাঁর। বলা ভালো, বাকি জীবনটুকু একটু আদর-যত্নেই থাকতে চান তিনি। ২০০৭ সালে স্ত্রী বিয়োগের পর থেকেই রাজ্যের কৃষিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী মণীন্দ্রচন্দ্র ঘোষ ছেলে-বউমার অত্যাচারে অতিষ্ঠ। শুধু অত্যাচার নয়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিও হাতিয়ে নিতে চায় ওই দম্পতি। বাধ্য হয়েই আদালতে এসে এই বৃদ্ধ ছেলে-বউমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন বিচারপতির কাছে। আদালতের নির্দেশে পুলিস তাঁদের সরিয়ে দিয়েছে। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা বলেছেন, আপনার বিয়ে আটকাবে কে? এমন তো কোনও আইন নেই, যা দিয়ে কেউ আপনার বিয়ে আটকাবে! ইচ্ছে থাকলে বিয়ে করতেই পারেন।

    বেহালার ব্রিক ফিল্ড রোডে দোতলা বাড়ি মণীন্দ্রবাবুর। চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন ২০০৪ সালে। আপন বলতে এখন দুই মেয়ে আর এক ছেলে। তিনজনেরই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ২০০৭ সালে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর মণীন্দ্রবাবুর সাজানো সংসারে শুরু হয় কালবৈশাখী। বিবাহ বিচ্ছেদ হয় ছেলের। তারপর দু’বারের ডিভোর্সি, বয়োজ্যেষ্ঠ এক মহিলাকে বিয়ে করে ছেলে। শুরু হয় দুঃসময়। ছেলে ও বউমার মাত্রাছাড়া অত্যাচার সহ্যের বাঁধ ভেঙে দেয় মণীন্দ্রবাবুর।

    প্রথমে নতুন বউমাকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও একটা সময় আর ধৈর্য রাখতে পারেননি এই বৃদ্ধ। খাওয়া-পরা কার্যত শিকেয় উঠেছিল। শেষমেশ ভারতীয় ফৌজদারি আইনের একাধিক ধারায় তিনি মামলা ঠোকেন ছেলে ও বউমার বিরুদ্ধে। চেয়েছিলেন খোরপোশ। অন্যদিকে, বউমাও ছাড়ার পাত্র নন, তিনিও শ্বশুরের বিরুদ্ধে পাল্টা বধূ নির্যাতনের অভিযোগ আনেন। শেষ অবধি শুভানুধ্যায়ী ও আত্মীয়দের মধ্যস্থতায় সেই মামলাগুলি প্রত্যাহৃত হয়। কিছুটা আপস-মীমাংসা করেই চলতে থাকে জীবন। এরমধ্যেই ২০২০ সালে করোনায় আক্রান্ত হন মণীন্দ্রবাবু। প্রথমে এক বেসরকারি হাসপাতাল ও পরে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। হাসপাতালে ছিলেন টানা ২২ দিন। তাঁর অভিযোগ, বেসরকারি হাসপাতালে ৩ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা বিল হলেও ছেলে-বউমা তাঁর কাছ থেকে ১১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আলমারির তালা ভেঙে নগদ টাকা ও দামি জিনিসপত্র লোপাট করে দিয়েছে তারা। এখন তাদের নামে বাড়ি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে, অত্যাচারও করছে।

    প্রথম শুনানিতে বৃদ্ধ আদালতকে বলেন, ব্যাঙ্কে চাকরি করে ছেলে। তার আলাদা থাকার সামর্থ্য আছে। এখনই ওদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হোক। আদালত সেই মতো হরিদেবপুর থানাকে বলে ছেলে-বউমাকে পত্রপাঠ বিদায় করে দিতে। পরের শুনানির দিন বৃদ্ধ 

    এসে বলেন, ছেলে-বউমা তো গিয়েছে, কিন্তু নাতি ও তিনটি 

    কুকুরকে রেখে গিয়েছে তারা। নাতিকে দেখভাল করবে কে, আর কুকুরদেরই বা খেতে দেবে কে? আদালত ফের নির্দেশ দিয়ে বলে, তিনদিনের মধ্যে সন্তান ও কুকুরদের সরিয়ে নিতে 

    হবে মণীন্দ্রবাবুর ছেলেকে। ফাঁকা বাড়িতে এখন বৃদ্ধ একা। তাই চাইছেন জীবনের বাকি দিনগুলি সঙ্গিনীকে নিয়ে সুখে কাটাতে।
  • Link to this news (বর্তমান)