ISKCON: বৃন্দাবনে ৭০তলার মন্দির নির্মাণে ISKCON, খরচ কত?
এই সময় | ১৬ এপ্রিল ২০২৪
এবার বৃন্দাবনে তৈরি হবে গগনচুম্বী মন্দির, সৌজন্য়ে ইসকন। উত্তর প্রদেশের বৃন্দাবনে কৃষ্ণের বিশাল বড় মন্দির তৈরির কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে। ইসকনের এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, এই মন্দির হবে ভারতীয় সংস্কৃতির এক পীঠস্থান। পাশাপাশি পর্যটন ক্ষেত্রেও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ও স্থানীয়দের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে এই মন্দির।গ্লোবাল হেরে কৃষ্ণ মুভমেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান এবং সহ-পরামর্শদাতা এবং ইসকন ব্যাঙ্গালোরের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট চঞ্চলপতি দাসা এক সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভবিষ্যতে এই মন্দির তৈরির পরিকল্পনার বিষয়ে কথা বলেছেন। পাশাপাশি তাঁর দাবি, এই মন্দির ভবিষ্যতে পর্যটন দুনিয়ার মোড় ঘুরিয়ে দেবে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে বৃন্দবনে ৬৬৮ কোটি (৮০ মিলিয়ন ডলার) ব্যয়ে ৭০ তলা উঁচু ২১০ মিটার চওড়া বৃন্দাবন হেরিটেজ টাওয়ার তৈরি হবে। চঞ্চলাপথি দাসা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বক্তব্যের রেশ টেনে বলেন, 'আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতের ঐতিহ্য সম্পর্কে বিদেশীদের আগ্রহ বাড়াতে তাদের ভারত ভ্রমণেরআহ্বান জানাচ্ছেন। পাঁচজন আমেরিকান কিংবা অন্য যে কোনও প্রান্তের মানুষ যখন ভারত ভ্রমণে আসনে তখন তাঁরা প্রথমেই ভারতের আধ্য়াত্মিকতা সম্পর্কে জানতে চান।'
তাঁর সংযোজন, 'বিদেশীরা আধ্যাত্মিকতার সন্ধান করেন। তাঁরা যাতে আমাদের দেশের প্রতি আরও বেশি করে আকর্ষিত হন তার জন্য় আমাদেরও তাই আমাদেরও অবশ্যই আধ্যাত্মিক অবকাঠামো, ধর্মীয় অবকাঠামো থাকতে হবে, যা নিয়ে আমরা নিজেরাও গর্ব অনুভব করতে পারি। সেই সব জায়গাগুলি বিদেশিদের ঘুরিয়ে দেখাতে পারি। বৃন্দাবনে ঘুরতে এলে এই ধরনের নির্মাণ দেখলে তাঁরাও মুগ্ধ হবেন। কৃষ্ণ-বাণীকে আরও বেশি করে মানুষের মনে পৌঁছে দিতে পারব আমরা। আরও বেশি তাঁরা শ্রীকৃষ্ণ প্রেমে উৎসাহী হবেন।'
পর্যটনের সঙ্গে সংস্কৃতি এবং উন্নয়নের এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এই মন্দির তৈরি হলে ব্রজ অঞ্চলের আর্থিক উন্নতি ত্বরান্বিত হবে। স্থানীয় লোকজনেরেও আগের থেকে বেশি সুযোগ সুবিধা মিলবে।' দাসার মতে, দেশের উন্নয়নের চাবিকাঠি হল পর্যটন দুনিয়ার শক্তিশালী পরিকাঠামো।
দাসার মতে, ভারতের ঐতিহ্যবাহী স্থানের টানে আকর্ষিত হন বিশ্বের চিন্তাবিদ, নেতা সহ দার্শনিক সকলেই। এই মন্দির তৈরি হলে আধ্যাত্মিক চেতনা আরও বাড়বে গোটা বিশ্বজুড়ে, বাড়বে একে অপরের সাংস্কৃতিক বিনিময়ও। তিনি জানিয়েছে, বৃন্দাবন হেরিটেজ টাওয়ার হল একটি অষ্টভুজাকৃতির কাঠামো। যেটির উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম অংশ পরিবেষ্টিত থাকবে মন্দির দিয়ে। মাঝখানে থাকবে গগনচুম্বী ৭০তলা মন্দির।
মন্দির কমপ্লেক্সে আরামদায়ক থাকার জায়গায় সুযোগ সুবিধা থাকবে। পর্যটকদের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। মন্দির চত্বরে মাল্টি-লেভেল পার্কিং তথা একসঙ্গে ৩০০০ গাড়ি পার্কিংয়ের সুযোগ থাকবে। প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ভক্ত সমাগম হলেও তা সামাল দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। পূজো-পার্বে ভিড় বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে কোনও অসুবিধা হবে না।
দাসার মতে, 'বর্তমানে ২০ মিলিয়ন মানুষ বৃ্ন্দাবনে আসেন। উত্তরপ্রদেশ সরকারের পর্যটন অনুমান আগামী ছয় থেকে ১০ বছরের মধ্যে এটি পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেতে চলেছে, এই সংখ্য়া পৌঁছবে ১০০ মিলিয়নে। আমাদের লক্ষ্য আরও বেশি সংখ্যক পর্যটকদের বৃন্দাবনের প্রতি আকৃষ্ট করা।'