• ধর্ষণের মিথ্যে মামলায় নিরীহ পুরুষের ৪ বছরের কারাবাস! 'দুষ্টু মহিলা'-কে চরম শাস্তি আদালতের
    এই সময় | ০৮ মে ২০২৪
  • উত্তর প্রদেশের বরেলি জেলার একটি আদালত সম্প্রতি একজন মহিলাকে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ করার জন্য সাজা ঘোষণা করেছে। ২০১৮ সালে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ করা হয় অজয় কুমার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। আর সেই করণে আইপিসি ১৯৫ ধারার অধীনে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত।অতিরিক্ত জেলা জজ জ্ঞানেন্দ্র ত্রিপাঠী মহিলাটিকে ৪ বছর ৬ মাস এবং ৪ দিনের অর্থাৎ মোট ১,৬৫৩ দিনের কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছেন। মিথ্যা মামলার কারণে ঠিক যে সময় পর্যন্ত অজয় কুমার নামে ওই ব্যক্তিকে কারাগারে থাকতে হয়েছে।

    উপরন্তু মহিলাকে প্রায় ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। যা অজয় কুমারকে দেওয়া হবে। উত্তরপ্রদেশ সরকার একজন অদক্ষ শ্রমিকের জন্য নির্ধারিত মজুরির ভিত্তিতে এই পরিমাণ গণনা করা হয়েছে।

    ঘটানাটিকে সমগ্র সমাজের জন্য একটি ‘অত্যন্ত গুরুতর পরিস্থিতি’ বলে অভিহিত করে আদালত বলেছে যে বিশেষভাবে মহিলাদের সুরক্ষার জন্য প্রণীত বিধানগুলিকে পুরুষের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত ভিকটিম তার অর্জনের মাধ্যম হিসাবে পুলিশ এবং আদালতকে ব্যবহার করে চরমভাবে অপব্যবহার করেছে। এর পিছনে রয়েছে অবৈধ উদ্দেশ্য।

    আদালত বলেছে, ‘যদিও সরকার, প্রশাসন ও আদালতের কাছ থেকে প্রাসঙ্গিক নীতি ও আইনের মাধ্যমে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যথাযথ ও প্রত্যাশিত, এর মানে এই নয় যে নারীরা যারা এর অন্যায্য সুবিধা গ্রহণ করে তাদের পুরুষের স্বার্থে আঘাত করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়। এছাড়া মামলয় উপস্থিত একটির মতো প্রমানিত দোষী নারীদের ক্রিয়াকলাপ সমাজের প্রকৃত ভুক্তভোগীদের ক্ষতি করতে পারে। এই রকম পরিস্থিতিতে কঠোর শাস্তি দেওয়া উপযুক্ত বলে মনে হয়।’

    ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে অভিযুক্ত ভিকটিম মহিলার মা অজয় কুমারের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করেছিলেন, অভিযোগ করেছিলেন যে তার মেয়ে ১৫ বছর বয়সী, তাকে অপহরণ এবং ধর্ষণ করা হয়েছে।

    এরপর যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এফআইআর এ করা অভিযোগকে সমর্থন করে। মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে অজয় কুমার নামের ওই ব্যক্তি চার বছর ধরে জেল খাটছেন।

    তদন্তের মাঝপথেই ওই মহিলা স্বীকার করে নেয় যে সে আসলে অপহৃত এবং ধর্ষিত হয়নি। এরপর আদালতে সেই বিষয়ে বয়ানও দেয়।

    মহিলার বয়ানের পরই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে মহিলাকে ১৬৫৩ দিনের জেল এবং ৬ লাখ টাকা অজয় কুমারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
  • Link to this news (এই সময়)