• কলকাতায় গণপরিবহণ সন্ধ্যা গড়ালেই ভ্যানিশ
    এই সময় | ২৫ নভেম্বর ২০২১
  • এই সময়: রাত ৯টা। ট্রেন থেকে নেমেছেন শিয়ালদহে। হয়তো গড়িয়া বা দক্ষিণেশ্বর যাবেন। ফাঁকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকলেও বাসের দেখা পাওয়া লটারি জেতার মতো অভিজ্ঞতা। আর হলুদ ট্যাক্সি এক আধটা পেলেও পেতে পারেন। কিন্তু ট্যাক্সি মিটারে যাবে না ধরেই রাখতে পারেন। গেলেও দিতে হবে থৌকা টাকা।

    পেট্রপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও করোনাকালে দীর্ঘদিন গণপরিবহণ বসে থাকার পর এমনিতেই দিনের শহরে যানবাহনের সংখ্যা কমেছে। রাতের কলকাতায় সেই গণপরিবহণ প্রায় অদৃশ্য। শুধু শিয়ালদহ স্টেশন কেন, হাওড়া-কলকাতা স্টেশন, উল্টোডাঙ্গা, শ্যামবাজার কিংবা এয়ারপোর্ট, জোকা, গড়িয়া, সল্টলেক, রাজারহাট--সর্বত্রই রাতের শহরের পরিবহণ চিত্র মোটামুটি একই। অতিমারি কালে এখনও রাত ১১টা কড়া বিধিনিষেধের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও জনজীবন অনেকটাই স্বাভাবিক। তবুও রাতে বৃহত্তর কলকাতা গণ পরিবহণের অস্বাভাবিকত্ব রয়েই গিয়েছে। বছর কয়েক আগে কলকাতায় নাইট বাস সার্ভিস চালু করেছিল রাজ্য সরকার। সেই সরকারি বাসের দেখাও নেই বললেই চলে রাতের শহরে।

    বেসরকারি বাস মালিকরা বলছেন, পেট্রোপণ্যের মূলবৃদ্ধির পাশাপাশি বহু বাস মালিক পয়সার অভাবে লকডাউনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বসে থাকা বাস মেরামতি করে বিমার টাকা মিটিয়ে পথে নামাতে পারছেন না। লকডাউনের আগে দিনে বৃহত্তর কলকাতায় দৈনিক গড়ে সাড়ে ছয় থেকে সাত হাজার বাস নামতো শতাধিক রুটে। এখন তার ৫০ শতাংশও নামে না। রবিবার বা ছুটির দিন থাকলে সংখ্যা আরও কমে যায়। অফিস টাইম শেষ হলেই অর্থাৎ রাত আটটা বেজে গেলেই তা একরকম ভ্যানিশ। লকডাউনের আগে রাত দশটাতেও শহরের বুকে হাজার পাঁচেক বাস চলত বিভিন্ন রুটে। এখন তা কমে দাঁড়়িয়েছে তিন-চারশো। কোনও কোনও রুটে একটিও বাস নামছে না।

    বেঙ্গল বাস সিন্ডিকেটের সুরজিত সাহার কথায়, '৩৩-১ রুটে অর্থাৎ বাবুঘাট-হাতিয়া রুটের বাস সাতটার পর বাবুঘাট থেকে ছাড়ে। তারপর আর মিলবে না। এয়ারপোর্ট-ধর্মতলা রুটের বহু বাস আটটার পর থেকেই হাফ রুট করে শ্যামবাজার পর্যন্ত যাতায়াত করে। কিছু রুটে বাস একেবারেই বন্ধ।' ওয়েস্ট বেঙ্গল বাস অ্যান্ড মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রদীপনারায়ণ বসুর আবার যুক্তি, পর্যাপ্ত যাত্রীও মিলছে না দিনে বা রাতে।

    আর সরকারি বাস ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ভাড়া না বাড়াতে পারায় অর্থাভাবে ধুঁকছে। ডিজেলের অপচয় কমাতে যে রুটে একটা শিফটে তিনটি ট্রিপ চলতো সেখানে এখন একটা বা খুব বেশি হলে দুটি ট্রিপ হয়। যে রুটে তিনটি বাস চলতো সেখানে দুটির বেশি দেওয়া হয় না। বিকালে শিফটে বাসের ট্রিপের সংখা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে অনেকটাই। পেট্রপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির জেরে ট্যাক্সির সংখ্যাও কমেছে। বছর দুয়েক আগেও ১৮ হাজারের কিছ বেশি ট্যাক্সি ছিল বৃহত্তর কলকাতায়। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজারের কিছু বেশি। অনেক গাড়ির বয়স ১৫ বছর পেরিয়ে যাওয়ায় বাতিল হয়েছে। মালিক নতুন ট্যাক্সি নামাচ্ছেন না। পারমিটও পড়ে থাকছে।
  • Link to this news (এই সময়)