• কলকাতায় দ্বিতীয় বিমানবন্দর গড়ার জন্য জায়গা খুঁজছে কেন্দ্র
    এই সময় | ২৫ নভেম্বর ২০২১
  • এই সময়: কলকাতায় দ্বিতীয় বিমানবন্দর গড়ে তোলার জন্য জায়গা খুঁজছে কেন্দ্র। বুধবার বণিকসভা আইসিসি-র ভার্চুয়াল বার্ষিক সভা ও এজিএম-এ একথা জানান কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। পাশাপাশি, উদীয়মান অসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে অংশ নিতে তিনি রাজ্য সরকারকে এগিয়ে আসার আর্জি জানিয়েছেন। এরই মধ্যে খুব শীঘ্র ভারতে আসা-যাওয়ার আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছে কেন্দ্র। বুধবার কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ সচিব রাজীব বনসল জানিয়েছেন, সম্ভবত ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ভারতে আন্তর্জাতিক উড়ান নিয়মিত ও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

    বুধবার বিমান পরিবহণ মন্ত্রী বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গের অসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রের বিষয়গুলি জানার জন্য আমি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। উত্তর-পূর্ব ভারত ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ মূল চাবিকাঠি। আমরা কলকাতায় দ্বিতীয় বিমানবন্দর গড়ে তোলার জন্য জায়গা খুঁজছি। এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এগিয়ে এসে আমাদের সঙ্গে সমস্ত সহযোগিতা করার অনুরোধ করছি।'

    উল্লেখ্য, কলকাতার ৩০-৪০ কিলোমিটারের মধ্যে বিমানবন্দরের জন্য একলপ্তে কয়েক হাজার একর জমি দেওয়ার প্রস্তাব রাজ্য এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রকে দিতে পারেনি। বরং, তারা কেন্দ্রকে সুপারিশ করেছে দুর্গাপুরের কাছে অন্ডাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণ করে তা কলকাতার দ্বিতীয় বিমানবন্দর হিসাবে গড়ে তোলা হোক।

    জ্যোতিরাদিত্য জানিয়েছেন, ভারতে এখন মোট ১৩৬টি বিমানবন্দর রয়েছে এবং সরকারের লক্ষ্য সংখ্যাটি ২০২৫ সালের মধ্যে বাড়িয়ে ২২০-তে নিয়ে যাওয়া। তাঁর দাবি, নয়া বিমানবন্দর গড়ে তুলতে মোট যে পরিমাণ অর্থ লগ্নি হয়, তার ৩.২ গুণ গুণ অর্থনীতির সম্প্রসারণ ঘটে। পাশাপাশি, সৃষ্টি হয় বিপুল কর্মসংস্থান।

    মন্ত্রী জানিয়েছেন, আঞ্চলিক উড়ান সংযোগ বাড়াতে উড়ান প্রকল্প অত্যন্ত সফল হয়েছে এবং দ্বারভাঙ্গা, ঝাড়সুগুদার মতো ছোট শহর ভারতে অসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রের উন্নয়নের মূল চালিকশক্তি হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে পাঁচটি বিমানবন্দর, ছ'টি হেলিপোর্ট এবং ৬১টি উড়ান রুটের উন্মোচন হবে।

    তাঁর আশা, 'গত কয়েক বছরে ভারতে বিমান যাত্রী সংখ্যা ৮৯ শতাংশ বাড়ায় আমরা এখন বিশ্বে বিমান যাত্রী সংখ্যার নিরিখে সাত নম্বর থেকে চার নম্বরে চলে এসেছি। সে দিন আর খুব দূরে নেই যখন ভারত এক দশকের মধ্যে এক নম্বর হয়ে উঠবে।' তিনি জানান, 'এয়ার-বাবল' চুক্তির আওতায় ভারত আন্তর্জাতিক উড়ান সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি, উড়ান প্রকল্পের আওতায় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে আন্তর্জাতিক উড়ান বাড়াতে চায় কেন্দ্র।
  • Link to this news (এই সময়)