• শক্তিমিল গণধর্ষণ-কাণ্ডে ৩ অপরাধীর মৃত্যুদণ্ডের রায় খারিজ বম্বে আদালতে
    এই সময় | ২৫ নভেম্বর ২০২১
  • এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: শক্তিমিল গণধর্ষণ মামলায় দোষীদের মৃত্যুদণ্ডে রায় খারিজ করল বম্বে হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতে এর আগে দোষী সাব্যস্ত তিন জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই রায় খারিজ করে দিল বম্বে হাইকোর্ট।

    ২০১৩ সালে অগস্ট মাসে মুম্বইয়ের মহালক্ষ্মী এলাকার শক্তি মিলের ভিতরে গণধর্ষিতা হন ২২ বছর বয়সী এক চিত্রসাংবাদিক। অভিযোগ উঠেছিল ওই তরুণী চিত্রসাংবাদিক তাঁর সঙ্গী এক পুরুষ সাংবাদিকের সঙ্গে মিলের ভিতর ঢুকেছিলেন বিকেলে। ছবি তোলাই উদ্দেশ্য ছিল তাঁদের। সে সময় অতর্কিতে হামলা চালায় জনা পাঁচেকের একটি দল। তাদের মধ্যে এক নাবালকও ছিল। তারা ওই পুরুষ সাংবাদিককে মেরে বেল্ট দিয়ে বেঁধে রাখে। চিত্র সাংবাদিক তরুণী গণধর্ষণের শিকার হন। এমনকী তাঁর ছবি তুলে সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে ভয়ও দেখান হয়।

    ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করে মুম্বই পুলিশ। তদন্তে নেমে তারা জানতে পারে ওই বছর জুলাই মাসেও শক্তি মিলের ভিতরে গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন এক টেলিফোন অপরেটার তরুণীও। দুই তরুণীর গণধর্ষণের মামলায় মোট সাতজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তাদের মধ্যে দু’জন নাবালক। এদের মধ্যে তিনজন দু’টি ঘটনাতেই অভিযুক্ত ছিল।

    ২০১৪ সালের ২০ মার্চ, মুম্বইয়ের প্রিন্সিপ্যাল সেশন কোর্টের বিচারক শালিনী ফাঁসলকর যোশী বিজয় যাদব, মহম্মদ কাসিম হাফিজ শেখ ওরফে কাসিম বাঙালি এবং মহম্মদ আনসারিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তার বাইরে চিত্রসাংবাদিককে ধর্ষণে সিরাজ খান এবং টেলিফোন অপারেটরকে ধর্ষণে মহম্মদ আশফাক শেখ দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।সে বছর ৪ এপ্রিল, চিত্র সাংবাদিক গণধর্ষণ মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ শোনান বিচারক। বাকিদের একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনান হয়েছে। অন্য এক অপরাধী ওই মামলায় রাজসাক্ষী হয়েছে যায়। ঘটনায় জড়িত দুই নাবালকের বিচার হয় জুভেনাইল আদালতে। ২০১৫ সালের ১৫ জুলাই সেখানে ওই নাবালকদেরও দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাদের নাসিকের একটি নাবালক সংশোধনাগারে পাঠান হয়েছিল তিন বছরের জন্য। ভারতীয় আইনে কিশোর অপরাধীর এটাই সর্বোচ্চ শাস্তি।

    বিজয় যাদব, কাসিম বাঙালি, সালিম আনসারি নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা করে। এ দিন আদালত বলে, মৃত্যুদণ্ড একটি ব্যতিক্রমী শাস্তি। অবশ্য যে ধরণের অপরাধ হয়েছে তার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হওয়া দরকার। কিন্তু নিয়ম উল্লঙ্ঘন করা যায় না।
  • Link to this news (এই সময়)