• প্রকল্পের শিলান্যাসে মোদী, ঝুপড়িতে ঠাঁই ঘরহারাদের
    এই সময় | ২৫ নভেম্বর ২০২১
  • লখনৌ: ভারতের সর্ববৃহৎ বিমানবন্দর পেতে চলেছে যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য। আজ, বৃহস্পতিবার নয়ডার জেওর বিমানবন্দরের শিলান্যাস করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু ঝাঁ চকচকে বিমানবন্দর তৈরির আড়ালে লুকিয়ে অন্ধকার, শিলান্যাসের এলাকা থেকে মাত্র ৭০০ মিটার দূরে গেলেই সেটা স্পষ্ট হবে। সেখানে সার সার তাঁবুতে গেরস্থালি শ'খানেক পরিবারের। ৫,৭৩০ কোটির বিমানবন্দর প্রজেক্টের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে এই পরিবারগুলির জমি-বাড়ি। অধিগ্রহণের সময়ে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের আশ্বাস পেলেও গত তিন বছরে প্রাপ্তির ঝুলি শূন্য। ফলে, গ্রীষ্মের ঠা ঠা রোদ হোক বা শীতের হাড়কাঁপানো ঠান্ডা, এই ঝুপড়িতেই দিন কাটছে পরিবারগুলির!

    নয়ডা বিমানবন্দরের জন্য রোহি গ্রামের সব বাসিন্দাকেই উৎখাত করা হয়েছে, যাঁদের অধিকাংশই কৃষক। তাঁদেরই একজন বছর পঁয়তাল্লিশের ওম পাল। গত তিন বছর ধরে ত্রিপলের নীচে দিন কাটাচ্ছে তাঁর পরিবার। ওমের কথায়, 'আমার কাগজপত্র তিন বছর ধরে সরকারের কাছে পড়ে আছে। এখনও অবধি কোনও ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন পাইনি।' নিকটবর্তী নাঙ্গলাশরিফ গ্রামের ১৫টি পরিবারকেও উৎখাত করা হয়েছে বিমানবন্দরের প্রজেক্টের জন্য। তাঁদেরও দিন কাটছে তাঁবুতে। সেখানে না আছে পরিশুদ্ধ পানীয় জল, না আছে বিদ্যুৎ সংযোগ।

    ঠান্ডার মধ্যে ছোট ছোট চারটে ছেলেমেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে এক চিলতে তাঁবুতে মাথা গুঁজেছেন হাসান মহম্মদ। ক্ষতিপূরণের সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা পেয়েছেন তিনি, কিন্তু বাড়ি বানানোর জন্য কোনও জমি বা টাকা পাননি। অথচ, খাতায়-কলমে সেগুলোও পাওয়ার কথা তাঁর। গত দু'টো শীতকাল ত্রিপলের তাঁবুতেই কেটেছে হাসানের পরিবারের। হাসানের প্রশ্ন, 'প্রধানমন্ত্রী আসবেন, বিমানবন্দরও হবে, কিন্তু স্ত্রী-বাচ্চা নিয়ে আমরা যাব কোথায়?' উৎখাত হওয়া কয়েকটি পরিবার বাড়ি তৈরির জন্য ৫০ মিটার জমি পেয়েছে। তাতে এক চিলতে বাড়ি তৈরি হলেও পোষ্য গবাদি পশুর জন্য গোয়াল তৈরির জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে, পোষ্যদের জন্য তাঁবুতেই থাকতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।

    জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদে এলাহাবাদ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ৬২ বছরের অজয় প্রতাপ সিং। খেড়া দয়ানাতপুরের এই প্রৌঢ় তাঁর আবেদনে জানিয়েছেন, জমি অধিগ্রহণ আইন মেনে কোনও ক্ষতিপূরণই পাননি তিনি। পরিস্থিতির সত্যতা স্বীকার করে নিচ্ছেন জেওরের বিজেপি বিধায়ক ধীরেন্দ্র সিং-ও। তাঁর দাবি, জমি অধিগ্রহণের বিষয়টা খুব তাড়াহুড়োর মধ্যে হয়েছে, ফলে পরিবারগুলোকে ঠিকমতো ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিজেপি বিধায়কের কথায়, 'ওঁদের পুনর্বাসনের জন্য আরও সময় লাগবে। আসলে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের সঙ্গে বিমানবন্দর প্রস্তুতকারক সংস্থার বোঝাপড়া হয়ে গিয়েছে, যে কারণে দ্রুত জমি হস্তান্তর করতে হয়েছে, তার ফলে ভোগান্তি হচ্ছে চাষিদের। আমরা চেষ্টা করছি দু'পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টা তাড়াতাড়ি মিটিয়ে নেওয়ার।'

    কিন্তু তিন বছর তো খুব কম সময় নয়, তার মধ্যে কেন পুনর্বাসন পেল না কৃষক পরিবারগুলো? উত্তর নেই সরকার পক্ষের কাছে।
  • Link to this news (এই সময়)