• ফের ব্রুসেলা সংক্রমণ, পজিটিভ রিপোর্টেও ভর্তি নয় ট্রপিক্যালে
    এই সময় | ২৬ নভেম্বর ২০২১
  • এই সময়: থামার লক্ষণ নেই মানবশরীরে ব্রুসেলা সংক্রমণের। বুধবারই কোচবিহারের প্রাণিবন্ধু বুবাই গোস্বামীর একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে করানো রিপোর্টে ব্রুসেলা পজিটিভ এসেছে। অন্য দিকে, পজিটিভ রিপোর্ট নিয়ে এসেও এদিন ট্রপিক্যালে ভর্তি হতে পারলেন না নবদ্বীপের প্রাণিবন্ধু সমীর ঘোষ। গত সপ্তাহেই কলকাতার একটি বেসরকারি ক্লিনিক থেকে ব্রুসেলা পরীক্ষা করিয়েছিলেন। কারণ, সেপ্টেম্বরের শেষাশেষি গবাদি পশুর ব্রুসেলা টিকাকরণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর থেকেই তাঁর ঘাড়ে-মাথায় ও পায়ে তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়েছিল। ঝাপসাও দেখছিলেন দু' চোখে। শনিবার পাওয়া বেসরকারি ক্লিনিকের রিপোর্টে তাঁরও ব্রুসেলা পজিটিভ ধরা পড়েছে।

    রিপোর্ট নিয়ে বুধবারই তিনি এসেছিলেন কলকাতায় স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে। তাঁকে অবশ্য ভর্তি নেওয়া হয়নি। সমীরের কথায়, 'আমাকে আউটডোর ও চক্ষুবিভাগে পরীক্ষা করে বাড়ি চলে যেতে বলা হয়েছে। রক্তের নমুনা নেওয়া হয়েছে ফের ব্রুসেলা পরীক্ষা করার জন্য।' ট্রপিক্যালের মেডিক্যাল সুপার ও ভাইস প্রিন্সিপাল রূপালি দে বলেন, 'সাধারণত ব্রুসেলা পজিটিভ বা ভালো রকম উপসর্গ রয়েছে, এমন রোগীদের ভর্তি করানোই হয়। এই ঘটনাটি অবশ্য নির্দিষ্ট ভাবে আমার কিছু জানা নেই।'

    গত দশ দিনে বহু প্রাণিবন্ধু-প্রাণিমিত্র-প্রাণিসেবী ব্রুসেলা উপসর্গ নিয়ে ট্রপিক্যালে রক্তের নমুনা দিলেও রিপোর্ট মিলছে না। এর জেরে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে প্রাণিকর্মীদের মধ্যে। ট্রপিক্যাল সূত্রে খবর, এই সব নমুনার বিশ্লেষণে ৫০ শতাংশেরও বেশি প্রাণিকর্মীর শরীরে ব্রুসেলা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে এই ফলাফল ফের খতিয়ে দেখবেন ট্রপিক্যাল কর্তৃপক্ষ। সে জন্য বেঙ্গালুরুর আইসিএআর-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ এপিডেমিওলজি ডিজিজ ইনফরম্যাটিক্সের থেকে নয়া কিট এসে পৌঁছতে পারে আজ, বৃহস্পতিবার। তখনই ব্রুসেলা পরীক্ষার কাজে গতি আসবে। তবে পশ্চিমবঙ্গ প্রাণিসম্পদ বিকাশ কর্মী ইউনিয়নের তরফে সৌমিত্র মন্ডল ও পশ্চিমবঙ্গ প্রাণিবন্ধু-প্রাণিসেবী ফেডারেশনের সভাপতি বিবেকানন্দ পাণ্ডে দু'জনেরই বক্তব্য, 'ট্রপিক্যাল নিজেও রিপোর্ট দিচ্ছে না, আবার বেসরকারি প্রতিষ্ঠিত ক্লিনিক্যাল ল্যাবের পজিটিভ রিপোর্টের ভিত্তিতে ভর্তিও নিচ্ছে না। তা হলে ব্রুসেলা সংক্রামিতদের বাঁচার পথটা কী?'

    অন্য দিকে, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ফের নানা শারীরিক উপসর্গ নিয়ে ট্রপিক্যালে চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের প্রাণিবন্ধু সরিফুল মণ্ডল। একই পরিস্থিতি মতিউর রহমান বা মানিক নন্দীরও। তবে এই ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন, ব্রুসেলা সংক্রামিতদের অন্তত ছয় সপ্তাহ ওষুধ খাওয়া দরকার প্রাথমিক ভাবে সুফল মেলার জন্য। এর পরেও তাঁদের শারীরিক অবস্থার উপর নজরদারি চলবে।
  • Link to this news (এই সময়)