• মুখ্যমন্ত্রীর প্যাকেজে আগ্রহ নেই, কয়লা খনির বিরোধিতায় অনড় দেউচা পাঁচামির মোড়লরা
    এই সময় | ২৬ নভেম্বর ২০২১
  • এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: মহম্মদ বাজারের দেউচা-পাঁচামিতে প্রস্তাবিত কয়লা খনি গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই পুনর্বাসন প্যাকেজ ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কয়লা খনির রূপরেখা তৈরি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এমতাবস্থায় হরিণসিংহার মাঠে আদিবাসী সমাজের মোড়লরা স্পষ্টতই ঘোষণা করে দিলেন, 'কয়লা খনি হতে দেব না!' বৃহস্পতিবার হরিণসিংহার এলাকাবাসীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন আদিবাসী সমাজের মোড়লরা। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা সেই বৈঠকে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সকলের সঙ্গে আলোচনার পরই মোড়লরা ঘোষণা করে দিলেন, কোনভাবেই কয়লা খনি হতে দেবেন না। আলোচনা সভা শেষে দেউচা-পাচামি প্রস্তাবিত কয়লা খনি নিয়ে আদিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকাংশের গলায় এক সুর শোনা গেলেও বিক্ষিপ্তভাবে ভিন্নমত শোনা গিয়েছে কারো-কারো গলায়। তবে সকলেই জমি হারানো, জীবিকা হারানোর ভয়ে আতঙ্কিত, আশঙ্কিত।

    এদিন দেউচা-পাচামি খনি এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা যেমন বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। আমরা প্যাকেজ চাই না।' একইভাবে জমি-জীবিকা হারানোর ভয়ে আতঙ্কিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেওয়ানগঞ্জের এক প্রৌঢ় ব্যক্তি বলেন, 'আমার ১৬ কাঠা জায়গা আছে। তাতে যে পরিমাণ টাকা পাব, অন্য জায়গা কিনতে গেলে তার থেকে বেশি পরিমাণ টাকা লাগবে। চাকরিও পাওয়া যাবে না।' আবার এক আদিবাসী মহিলা বলেন, 'গ্রামের সকলে যা সিদ্ধান্ত নেবেন, তাই মেনে চলব।'

    তবে স্থানীয় আদিবাসী নেতাদের একাংশ এখনও মনে করেন, সরকারের পক্ষে জেলাশাসক বা সরকারি অফিসারদের সরাসরি আদিবাসীদের সামনে এসে কথা বলুন। পাথর শিল্পাঞ্চলের কাজ করা আদিবাসীদের একাংশের দাবি, 'কয়লা খনি হলে এলাকায় অস্থিরতা তৈরি হবে। শান্তির পরিবেশ বিঘ্নিত হবে।' এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আদিবাসী যুবক বলেন, 'রাজ্য সরকার আসানসোল-রানিগঞ্জ কয়লা শিল্পাঞ্চলে আগেও প্যাকেজ ঘোষণা করে ক্ষতিপূরণ দিতে পারেননি। এখনও অনেকেই সব সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। আমাদের এখানে যে সেটা হবে না, তার নিশ্চয়তা কোথায়?'

    দেউচা-পাচামি প্রস্তাবিত কয়লা খনি শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠাকে ঘিরে এমন নানান প্রশ্ন আদিবাসীদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে দেউচা-পাচামি কয়লাখনি করার ব্যপারে আশাবাদী জেলাশাসক বিধান রায়। আলোচনার রাস্তা খোলা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, এলাকায় কয়লাখনি শিল্পাঞ্চল হলে প্রথমে সরকারের খাস জমিতে করা হবে। আদিবাসীদের সঙ্গে আলোচনার রাস্তা এখনও খোলা আছে। রাজ্য সরকার যে প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন তা অনেক ভালো। আশা করছি, আদিবাসীদের সকল স্তরের মানুষ এতে উপকৃত হবেন।

    তবে মহম্মদ বাজারের পাথর শিল্পাঞ্চলজুড়ে যখন দোদুল্যমান অবস্থা, তখন দুবরাজপুরের লোবা কয়লা শিল্পাঞ্চলে এমন প্যাকেজ পেলে জমিদাতারা সাগ্রহে জমি দিতে রাজি বলে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর।
  • Link to this news (এই সময়)