• বিজেপির সঙ্গে লড়তে ব্যর্থ কংগ্রেস, নেত্রী তাই আপোষহীন মমতা: সাংমা
    বর্তমান | ২৬ নভেম্বর ২০২১
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘দেশজুড়ে বৃদ্ধি পাওয়া ‘বিভাজনের রাজনীতির’ বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে কংগ্রেস। বিরোধী দল হিসেবে কোনও ছাপ রাখতে পারছে না তারা। একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই পারেন বিভাজনের এই রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে। তিনি তা করেও দেখিয়েছেন। বিজেপির বিরুদ্ধে তাই তাঁর (মমতা) সঙ্গেই কাজ করতে চাই’—তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জুড়ে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার মেঘালয়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বিরোধী দলনেতা মুকুল সাংমা এই ভাষাতেই কংগ্রেসত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। শিলংয়ের সাংবাদিক সম্মেলনে মুকুলের সঙ্গেই  উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসত্যাগী আরও ১১ বিধায়ক। প্রসঙ্গত, ৬০টি আসন বিশিষ্ট মেঘালয় বিধানসভায় কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা ১৭। মুকুল সাংমার নেতৃত্বে তার মধ্যে ১২ জন বিধায়ক বুধবার রাত ১০টা নাগাদ বিধানসভার অধ্যক্ষ মেটবা লিংডোর কাছে কংগ্রেস সঙ্গত্যাগ এবং তৃণমূলে অন্তর্ভুক্তির কথা লিখিত ভাবে জানিয়ে দেন। এদিন বিকেলে কলকাতা থেকে শিলং উড়ে যান রাজ্যের দুই মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা মলয় ঘটক এবং মানস ভুঁইঞা। কংগ্রেসত্যাগী বিধায়কদের হাতে জোড়াফুলের পতাকা তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলভুক্তি করান তাঁরা। মলয়বাবু বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতত্বে এক নতুন মেঘালয়ের সূচনা করার পণ করেছেন মুকুল সাংমারা। সূত্রের খবর, যে পাঁচ বিধায়ক এখনও কংগ্রেসে রয়ে গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কমপক্ষে দু’জন কয়েকদিনের মধ্যেই জোড়াফুল শিবিরে যুক্ত হবেন বলে জানা গিয়েছে। কথাবার্তা চলছে বাকি তিনজনের সঙ্গেও। 

    উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি রাজ্য মেঘালয়ের এহেন রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের জল্পনা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রশান্ত কিশোরের (পিকে) সঙ্গে এই পর্বে আলাপা-আলোচনা শুরু করেছিলেন মুকুল সাংমা ও তাঁর অনুগামী বিধায়করা। দলে বড়সড় ভাঙন ধরতে চলেছে, এমন ইঙ্গিত পেয়ে বিধায়কদের নিরস্ত করার জন্য আসরে নেমেছিলেন কংগ্রেসের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড রাহুল গান্ধী। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, সেই সময় নিরস্ত করা গেলেও, অগ্নিতে ঘৃতাহুতি হয় ভিনসেন্ট পালাকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করা নিয়ে। হাইকমান্ডের এই সিদ্ধান্তে বেজায় ক্ষুব্ধ মুকুল এবং তাঁর অনুগামীরা আর অপেক্ষা করেননি। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তা দ্রুত কাযকর করেন তাঁরা। তৃণমূলভুক্তির ক্ষেত্রে পিকে’র যে বড়সড় ভূমিকা রয়েছে, এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে সে প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ চার্লস পিনগ্রোপ। যে বিধায়কদের সঙ্গে নিয়ে জোড়াফুল শিবিরে এসেছেন মুকুল, তার মধ্যে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী মহেন্দ্রগঞ্জের বিধায়ক ডিকাঞ্চি ডি সিরা এবং কন্যা তথা আমপাতির বিধায়ক মিয়ানি ডি সিরা। কংগ্রেস ছাড়ার রাজনৈতিক কারণ ব্যাখ্যা করার সঙ্গেই মুকুল এদিন বলেছেন, দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পরই মমতাদি’র নেতৃত্বে রাজনৈতিক লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। মেঘালয় তথা দেশের স্বার্থ এতে সুরক্ষিত হবে। কংগ্রেসের বাকি পাঁচ বিধায়ক প্রসঙ্গে মেঘালয় বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, ওঁরা এখনও সিদ্ধান্ত নেননি, তবে দেখা যাক কী হয়!

    এদিকে, উত্তর প্রদেশ, গোয়া, ত্রিপুরা, বিহার ও হরিয়ানার পর মেঘালয়ের দলীয় শিবিরে ভাঙন ধরার বিষয়টি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন কংগ্রেস শিবির।  প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ভিনসেন্ট পালার দাবি, এটা কোনও বিপর্যয় নয়, এটা কংগ্রেসের কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন, কেন এমন হল, সভানেত্রী (সোনিয়া গান্ধী) এবং রাহুল গান্ধীর তা দেখা উচিত।
  • Link to this news (বর্তমান)