• ধাক্কা খেলেও বিরোধী ঐক্য-প্রেম বিলোবে কংগ্রেস
    আনন্দবাজার | ২৬ নভেম্বর ২০২১
  • কলসির কানার মার খেয়েও ‘সংসদে বিরোধী ঐক্য’-র স্বার্থে প্রেম বিলিয়ে যাওয়ার নীতি নিল কংগ্রেস।গোয়ার পরে হরিয়ানা এবং সবশেষে মেঘালয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব কংগ্রেসে ভাঙন ধরালেও কংগ্রেস নেতারা আজ জানিয়ে দিলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে তৃণমূল-সহ অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই এগোতে চান তাঁরা।আজ সন্ধ্যায় সনিয়া গাঁধীর ১০, জনপথের বাড়িতে কংগ্রেসের সংসদীয় কমিটি কৌশল ঠিক করতে বসে। বৈঠকে প্রধান আলোচ্য ছিল, কংগ্রেস কী কী বিষয় নিয়ে সংসদে সরব হবে। কিন্তু কাল মেঘালয়ে কংগ্রেসের ১৭ জন বিধায়কের মধ্যে ১২ জন তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরে মূল আলোচ্য হয়ে ওঠে, আগামী দিনে তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্ক কোন দিকে এগোবে। কংগ্রেস সূত্রের খবর, বৈঠকে এ নিয়ে চুলচেরা বিচার হয়।

    বৈঠকের পরে রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে বলেন, “আমরা ফসলের এমএসপি, মূল্যবৃদ্ধি, পেট্রল-ডিজ়েলের দাম, চিনের অনুপ্রবেশ, লখিমপুর কাণ্ডে জড়িত স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র টেনিকে বরখাস্ত ও গ্রেফতারির দাবি নিয়ে সরব হব। তৃণমূল ও অন্য দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমন্বয়ের চেষ্টা করব।’’ তৃণমূলের কংগ্রেসকে ভাঙানো নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে খড়্গে বলেন, “আমরা বিরোধী ঐক্য চাই।’’প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী বৈঠকের আগেই অভিযোগ তুলেছিলেন, শুধু মেঘালয় নয়, গোটা উত্তর-পূর্বেই কংগ্রেসকে ভাঙানোর ষড়যন্ত্র চলছে। এ জন্য তিনি ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের দিকেও অভিযোগের আঙুল তোলেন।অধীর বলেন, প্রশান্তই কংগ্রেসকে ভাঙার চেষ্টা করছেন। তিনি নিজে এ কথা কংগ্রেস হাই কমান্ডকে জানিয়েছেন। মেঘালয়ে কংগ্রেস বিধায়কদের ভাঙানোর খেলায় প্রশান্ত কিশোর ও গোয়ার নেতা লুইজিনহো ফেলেরো জড়িত বলে অধীরের অভিযোগ। তবে অনেকেই বলছেন, কংগ্রেসেই কেন ভাঙন ধরানো যাচ্ছে, সেই আত্মসমীক্ষা করার চেষ্টা কিন্তু এ দিনের বৈঠকে দেখা যায়নি।গত দু’দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে থাকলেও সনিয়া গাঁধীর সঙ্গে দেখা করেননি। কাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পরে তাঁকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মমতা পাল্টা প্রশ্ন ছুড়েছিলেন, দিল্লিতে এলে সনিয়া গাঁধীর সঙ্গে দেখা করা কি সাংবিধানিক ভাবে বাধ্যতামূলক কংগ্রেস সূত্রে বলা হয়েছিল, মমতা-অভিষেক কংগ্রেসকে লাগাতার নিশানা করার পর সনিয়াও এখন মমতার সঙ্গে সাক্ষাতে আগ্রহী নন। কিন্তু আজ বৈঠকের আগে রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রশ্নে বলেন, সংসদের মধ্যে রণনীতি এক রকম হবে, সংসদের বাইরে আর এক রকম। হাই কমান্ডকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।কংগ্রেস আজ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২৯ নভেম্বর সরকার তিন কৃষি আইন প্রত্যাহারের বিল পাশের সময় তাঁরা কৃষক সংগঠনগুলির দাবি মেনে ফসলের ন্যূনতম দাম বা এমএসপি-র আইনি নিশ্চয়তার দাবি তুলবেন। কোভিডে মৃতদের পরিবারের জন্য চার লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণের দাবিও তোলা হবে। রাহুল গাঁধী আগেই এই দাবি তুলেছেন। কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রীরাও এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন।কংগ্রেসের একাংশ মনে করছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে লোকসভায় তৃণমূলের সঙ্গে তেমন সমন্বয় দেখা না গেলেও রাজ্যসভায় তা দেখা যাবে। তবে তৃণমূল কী কৌশল নেবে, তা ২৯ নভেম্বর দলীয় বৈঠকে ঠিক হবে। সংসদের গত অধিবেশনে কংগ্রেস, তৃণমূল ও বাকি বিরোধী দলের মধ্যে সমন্বয় থাকলেও রাহুল গাঁধী সম্পর্কে তৃণমূলের ‘অ্যালার্জি’ চাপা থাকেনি। বিরোধী শিবিরের বৈঠকে রাহুল হাজির হলেই তৃণমূলের সংসদীয় দলের প্রথম সারির নেতারা গরহাজির থেকেছেন।প্রসঙ্গত, সংবিধান দিবসে আগামিকাল সংসদের সেন্ট্রাল হলের অনুষ্ঠানে যাবে না কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নিজে সংবিধানের মূল মন্ত্র মানেন না, আবার তিনিই সংবিধান দিবস পালন করবেন। ওই অনুষ্ঠানে থাকবে না তৃণমূলও। কারণ, তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে ঠিকঠাক ‘যোগাযোগ’ করা হয়নি।

  • Link to this news (আনন্দবাজার)