• মুর্শিদাবাদ থেকে সড়কপথে ঝাড়খণ্ড যাওয়ার বাধা কাটল, নিশিন্দ্রা কাটানে তৈরি হবে সেতু ...
    আজকাল | ১৬ জুন ২০২৪
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ অবশেষে প্রত্যেক বছরের বন্যার হাত থেকে মুক্তি পেতে চলেছেন মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা বিধানসভা এলাকার বেওয়া‌‌–২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েক হাজার বাসিন্দা। ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলামের উদ্যোগে এনটিপিসি কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে খুব দ্রুত নিশিন্দ্রা কাটান এলাকায় জল নিকাশি ব্যবস্থার সংস্কার করে সেখানে একটি সেতু তৈরি করা হবে। এই কাজ শেষ হলে প্রত্যেক বছর বর্ষার সময় মুর্শিদাবাদের সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে ফরাক্কার বাসিন্দারা। তার ফলে দুই রাজ্যের মধ্যে সড়কপথে বাণিজ্য আরও বৃদ্ধি পাবে। ফরাক্কাতে ফিডার ক্যানেলের পশ্চিম পারে বেওয়া থেকে সামশেরগঞ্জের পুটিমারি রোড পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে ফরাক্কা ব্যারেজ প্রকল্পের অফ্ল্যাক্স বাঁধ রোড। এই এলাকাতেই নিশিন্দ্রা গ্রামের পাশে রয়েছে ফরাক্কা এনটিপিসি কর্তৃপক্ষের একটি বড় ছাই পুকুর। প্রত্যেক বছর বর্ষার সময় ঝাড়খণ্ডের পাহাড়ি নদীর জল নেমে এসে ওই এলাকাকে ভাসিয়ে দেয়। তার ফলে সমস্যায় পড়েন বেওয়া–২ গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। পাহাড়ি নদীর জলের চাপে প্রত্যেক বছর নিশিন্দ্রা কাটান এলাকায় রাস্তার দীর্ঘ অংশ ভেঙে যায়। ফের একবার রাস্তা পুনর্নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল নিশিন্দ্রা কাটান এলাকায় জল নিকাশি ব্যবস্থার সংস্কার করে একটি সেতু নির্মাণ করতে হবে। যাতে সারা বছর ঝাড়খণ্ডের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু থাকে। এই প্রসঙ্গে ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘‌ফরাক্কা এনটিপিসি কর্তৃপক্ষ নিশিন্দ্রা কাটান এলাকায় সেতু তৈরির জন্য প্রাথমিকভাবে যে বাজেট ধরেছিল তা এখন বেড়ে গেছে। বর্তমানে ওই এলাকায় জল নিকাশি ব্যবস্থা এবং সেতু তৈরির জন্য প্রায় ১৪ কোটি টাকা প্রয়োজন। ফরাক্কা এনটিপিসি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই সেই টাকা দিতে রাজি হয়েছে। তবে এর পরিবর্তে এনটিপিসি কর্তৃপক্ষের যে ৩০০ একর জায়গা ফরাক্কায় জবরদখল হয়ে রয়েছে তা তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। এনটিপিসি কর্তৃপক্ষ সেখানে বাউন্ডারি ওয়াল তৈরি করবে।’‌ বিধায়ক বলেন, ‘‌জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ঠিক হয়েছে এনটিপিসি কর্তৃপক্ষের হাতে দখল হওয়া ওই জমি তুলে দেওয়া হবে। তবে সেখানে এনটিপিসি কর্তৃপক্ষ নতুন কোনও অ্যাশ পন্ড তৈরি করবে না। এর পাশাপাশি নিশিন্দ্রা এলাকায় জল নিকাশির জন্য একটি চ্যানেল তৈরি করা হবে। সেখানে স্লুইস গেটও থাকবে। যাতে কৃষকরা নিজেদের প্রয়োজন মত চাষের জন্য জল পেতে পারেন।’‌ সেতু তৈরির কাজ শীঘ্রই শুরু হবে বলে জানান বিধায়ক। তাঁর আশা, আগামী বছরের মধ্যেই নিশিন্দ্রা কাটান এলাকায় সেতু নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। তার ফলে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের নিরবিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগে আর কোনও অসুবিধা থাকবে না।
  • Link to this news (আজকাল)