• সিউড়ির কর্মকার পরিবারের সদস্যদের চোখে মুখে এখনও দুর্ঘটনার আতঙ্ক
    বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: মাত্র কয়েকঘণ্টা আগেই যে এতবড় দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছে, তা বিশ্বাসই করতে পারছেন না সিউড়ির কর্মকার পরিবারের সদস্যরা। উত্তরবঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের ভয়াবহ দুর্ঘটনার স্মৃতি এক মুহূর্তও ভুলতে পারছেন না তাঁরা। মনে মনে বলছেন, আর কোনওদিনই ট্রেনে চাপব না! দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল আসতেও দেরি করেছিল। যদি আরও আগে তারা আসত, তাহলে হয়তো কয়েকজন বেঁচেও যেতে পারতেন। ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর ওই ট্রেনে থাকা সিউড়ির হাটজনবাজারের কর্মকার পরিবারের তিন যাত্রী এমনই অভিজ্ঞতার কথা শোনাচ্ছিলেন।


    জানা যায়, কাকলি কর্মকার তাঁর ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে করে সিউড়ি ফিরছিলেন। তাঁরা শিলং গিয়েছিলেন বেড়াতে। কাকলিদেবীর স্বামী কেন্দ্রীয় জওয়ান। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের পর অবশ্য তিনি কর্মক্ষেত্রে ফিরে যান। কিন্তু কে জানত, তার কিছুক্ষণ পর ওই ট্রেনেই এতবড় দুর্ঘটনা অপেক্ষা করছে। কাকলিদেবীরা দুর্যোগ কাটিয়ে রাত্রি সাড়ে ১২টা নাগাদ সাঁইথিয়া স্টেশনে নামেন। তারপর সিউড়ির বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু তাঁদের কারও চোখের পাতা এক হচ্ছে না। গল্প বলতে গিয়ে রেল পরিষেবা নিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন তাঁরা। তিনি বলেন, মেয়ে তখন ওয়াশরুমে গিয়েছে। আর হঠাৎই ঝাঁকুনি শুরু হল। মেয়ের মাথা গিয়ে ঠুকে গেল সামনের আয়নাতে। সব ছিটকে পড়লাম। গোটা কামরা লণ্ডভণ্ড হয়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে। তাড়াহুড়ো করে ট্রেন থেকে নেমেই দেখি ভয়াবহ সব দৃশ্য। ততক্ষণে বুঝে গেলাম আসলে কী হয়েছে। ট্রেনের ভেতর সবাই যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। আশপাশে লোকালয়ও ছিল না। ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর রেল পুলিস আসে। তার পিছু পিছু উদ্ধারকারী দল। তারপর সব উদ্ধারকাজ শুরু হয়। আমরা খাবার পেয়েছি ট্রেন ছেড়ে চলে আসার পর আলুয়াবাড়ি স্টেশনে। জঘন্য রেল পরিষেবা নিয়ে সত্যিই আর কিছু বলার নেই! গাফিলতি না থাকলে কী আর এতবড় দুর্ঘটনা ঘটে। যদি আগে মেডিক্যাল টিম আসত, তাহলে হয়তো আরও কেউ কেউ বেঁচে যেতেন। রেল কর্তৃপক্ষ এর দায় নিক। এতটাই আতঙ্কে আছি যে আর কোনওদিন ট্রেনে চাপব কি না, ভাবতে হবে! একইরকম অভিজ্ঞতার কথা শোনাচ্ছিলেন তাঁর মেয়ে নিশা কর্মকার। তিনি বলেন, উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে আসার পর সকলের আতঙ্ক একটু কমে। তাঁরা নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন। বেড়াতে গিয়ে যে শেষমেশ এমন অভিজ্ঞতা হবে, তা কল্পনাও করিনি। আমাদের পরিবারের তিনজনেরই কমবেশি চোট লেগেছে। এখন শারীরিক ভাবে ভালো আছি। কিন্তু মানসিক উদ্বেগ রয়েছে। একইভাবে মহম্মদবাজারের দেউচার বাসিন্দা তারকেশ্বর সালুই তাঁর স্ত্রী ও কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে ওই ট্রেনেই ফিরছিলেন। বাড়ি ফেরার পরও আতঙ্কে চোখের পাতা এক করতে পারছেন না তাঁরা। 


    তবে বারবার রেল দুর্ঘটনার পর বীরভূমের বহু মানুষই এই নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ট্রেন দুর্ঘটনার কথা উঠলেই ২০১০ সালের ১৯ জুলাই সাঁইথিয়াতে উত্তরবঙ্গ ও বনাঞ্চল এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টানছেন জেলার মানুষ। দেশের রেলব্যবস্থা কেন বারবার দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে, তা নিয়েও বিঁধছেন সব রাজনৈতিক দলই। শাসকদলের নেতারা বলছেন, এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী দীর্ঘদিন রেলে নিয়োগ না হওয়া। এর প্রভাব পড়ছে পরিষেবাতেও। যদিও বিজেপি নেতাদের দাবি, নিছকই দুর্ঘটনাতে রাজনৈতিক রং চড়ানো ঠিক নয়। • নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)