• প্রায় ২৫ শতাংশ বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে এনে অভূতপূর্ব সাফল্য আসানসোল পুরসভার
    বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাজ্যের সেরা শিরোপা পেল আসানসোল পুরসভা। উন্নয়নের হারে ছাপিয়ে গিয়েছে কলকাতা ও দুর্গাপুরকে। উল্টোদিকে বায়ুদূষণ বেড়েছে হাওড়া ও বারাকপুরে। গত তিনটি অর্থবর্ষের পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে ন্যাশনাল ক্লিন এয়ার প্রোগ্রাম (এনসিএপি)। সেখানে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের যে ছ’টি শহর দেশের দূষিত শহরগুলির তালিকায় ঠাই পেয়েছিল, তাদের মধ্যে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে সবচেয়ে বেশি সফল হয়েছে আসানসোল পুরসভা। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে আসানসোলের একঘন মিটার বাতাসে দূষণের উপস্থিতি ছিল ১২০ মাইক্রোগ্রাম। করোনা কাল মিটতেই ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪০ মাইক্রোগ্রাম। তারপরই প্রশাসন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ও পুরসভার টনক নড়ে। মিস্ট ক্যানন, ওয়াটার স্প্রিংলার দিয়ে জল ছিটিয়ে সেই দূষণের মাত্রা‌ অনেকটা কমিয়ে এনেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে দূষণের উপস্থিতি প্রতি ঘনমিটারে ১০৫। অর্থাৎ ২৫ শতাংশ বায়ূ দূষণ কমেছে আসানসোলে, কেন্দ্রীয় সংস্থার তথ্যে সেটাই প্রকাশ পেয়েছে। বাতাসের গুণমানের সামগ্রিক মাত্রা প্রকাশ পায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী। এর মান যত কম, ততটাই বাতাসে দূষণের পরিমাণ কম। তারও একটি তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে ন্যাশনাল ক্লিন এয়ার প্রোগ্রাম। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে ৩৫০ দিন আসানসোলের একিউআই পরিমাপ করা হয়। সেখানে মাত্র ৩৩৯ দিন একিউআই মাত্রা ২০০-র নীচে ছিল। অর্থাৎ বাকি দিনগুলিতে শহরের দূষণ উদ্বেগজনক ছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ৩৫৩ দিন আসানসোলের একিউআ‌ই পরিমাপ করা হয়। সেখানে ৩৫৩ দিনই একিউআই মাত্রা ২০০ নীচে ছিল। এই সাফল্য ধরে রাখার জন্য আসন্ন অর্থবর্ষের টার্গেটও বেঁধে দিয়েছে এনসিএপি। পুরসভা এলাকায় দূষণের উপস্থিতি প্রতি ঘনমিটারে ৮৯তে নামিয়ে আনার টার্গেট দেওয়া হয়েছে। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বাড়তি টাকাও এনসিএপি থেকে পেতে চলেছে আসানসোল পুরসভা। গত বছর যেখানে তারা সাড়ে ১৩ কোটি টাকা পেয়েছিল, এবার তাঁরা ২০ কোটি টাকা পেতে চলেছে। আসানসোল পুরসভার কমিশনার রাজু মিশ্র বলেন, আমরা গত অর্থবর্ষে দূষণের মাত্রা ২৫ শতাংশ কমাতে সমর্থ হয়েছি। রাজ্যের মধ্যে আমাদের পুরসভাই সবচেয়ে বেশি দূষণ কমাতে সমর্থ হয়েছে। আরও ভালো কাজ করার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। এনসিএপি ডাটা অনুযায়ী, দুর্গাপুরের ক্ষেত্রে দূষণের মাত্রা কমেছে ২১.৪ শতাংশ, ১৩৫ থেকে কমে হয়েছে ১০৬। কলকাতার ক্ষেত্রে দূষণ কমেছে ২.১ শতাংশ। কলকাতার বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে দূষণের পরিমাণ কমে ৯১ মাইক্রোগ্রাম হয়েছে। হলদিয়ার ক্ষেত্রে সেই দূষণের মাত্রা ৮৭, অর্থাৎ যা আগে ছিল, তাই আছে। উদ্বেগজনক বিষয় বারাকপুর ও হাওড়ার ক্ষেত্রে। দুই শহরেই দূষণ গত বছর বেড়েছে। হাওড়ায় ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে দূষণের মাত্রা ৯৩ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১১। অর্থাৎ দূষণ বেড়েছে ১৯.৩ শতাংশ। বারাকপুরে এই বৃদ্ধির হার ৬.৪।কী করে সাফল্য আসানসোলে? পুরসভার দাবি, ২০টি ট্যাঙ্কারে স্প্রিংলার লাগিয়ে চারবার করে রাস্তায় জল ছেটানো হয়েছে সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত। এছাড়াও একটি মিস্ট ক্যাননও প্রতিদিন কাজ করেছে। এবার বাড়তি টাকায় আরও পাঁচটি স্প্রিংলার ও দুটি মিস্ট ক্যানন কেনা হচ্ছে। • নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)