• বিএসএফে কড়াকড়ি, সীমান্তের জমিতে চাষ করতে সমস্যায় সাগরপাড়ার কৃষকরা
    বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
  • সংবাদদাতা, ডোমকল: সকাল হতেই বিএসএফের আউটপোস্ট (ওপি পয়েন্ট)-এর সামনে লম্বা লাইন। হাতে কোদাল, দাঁ, কাটারি। সবার বুক পকেট কিংবা লুঙ্গির ভাঁজে ভোটার কার্ড। বিএসএফ কর্তাদের টেবিলে সেই কার্ড জমা দিয়ে চোখা চোখা প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছেন। তারপর তল্লাশি। বিএসএফের এই পরীক্ষায় উতরে গেলে তবেই মিলবে জমিতে চাষ করতে যাওয়ার ছাড়পত্র। সেটা পেতে পেতে বেলা গড়িয়ে প্রায় ন’টা ছুঁই ছুঁই। জমিতে চাষের কাজে সময় ততক্ষণে অনেকটাই কমে গিয়েছে। কেননা সূর্য ঢলে পড়ার আগেই জমি থেকে ফিরে আসতে হবে। জমিতে ঠিকঠাক কাজ করা সম্ভব হয় না। তাই, ফসলও ফলে না আশানুরূপ। মুর্শিদাবাদের সাগরপাড়া বামনাবাদ থেকে চর কাকমারি সীমান্তে এসমস্যা দীর্ঘদিনের। মানুষ ক্ষুব্ধ হলেও সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার পথ পাচ্ছেন না তাঁরা।  


    জিরো পয়েন্ট থেকে অনেকটা ভেতরে বিএসএফের আউটপোস্ট। সেখান থেকে চাষিদের সীমান্তের জমিতে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হয়। চাষিদের দাবি,  আউটপোস্টটি নো ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় নিয়ে গেলে সমস্যা অনেকটাই মিটে যাবে। অন্যান্য কয়েকটি সীমান্তে সেই ব্যবস্থা হয়েছে। যেমন, রানিনগরের বামনাবাদ থেকে সাগরপাড়ার চর কাকমারির বিওপি ক্যাম্পের অধীনে ১৫ টি অস্থায়ী আউটপোস্ট সরিয়ে জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সাগরপাড়ার সাহেবনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে ও বর্ডার ডেভেলপমেন্ট কমিটির সহযোগিতায় চাষিদের সমস্যার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে তুলে ধরা হলে আউটপোস্টগুলি সরানোর নির্দেশ এসেছে। সাগরপাড়ার সাহেবনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই বিএসএফের জন্য জিরো পয়েন্ট লাগোয়া ১৫টি ওপি পয়েন্ট তৈরি করে দেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে। 


    সাহেবনগর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মজিবর বিশ্বাস বলেন,  চাষিদের এন্ট্রি নিতে গিয়ে প্রতিদিন যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, তা দেখেই আমরা গণস্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি বিভিন্ন মন্ত্রকে পাঠিয়েছিলাম। সম্প্রতি ওই ব্যাপারে নির্দেশ এসেছে ওপি পয়েন্ট গুলিকে জিরো পয়েন্টের দিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার। ইতিমধ্যে আমাদের পঞ্চায়েতের তরফে বিএসএফের জন্য ১৫টি ওপি পয়েন্ট করে দেওয়ার কাজ শুরু করেছি। বিএসএফ জিরো পয়েন্টে গেলে সীমান্তের চাষি ও জেলেরা নির্ভিঘ্নে তাঁদের কাজ করতে পারবে। বর্ডার ডেভেলপমেন্ট কমিটির সম্পাদক জুলফিকার আলি জানান, সীমান্তের কৃষকদের সমস্যা ও সীমান্তের জমির সুরক্ষার জন্য আমরা গত মার্চ মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে গণস্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি পাঠিয়েছিলাম। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই  এই নির্দেশ এসেছে।
  • Link to this news (বর্তমান)