• কৃষ্ণনগর থেকে প্রার্থী কেন বিজেপিতে বিক্ষোভ
    বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভার উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে কৃষ্ণনগরের বাসিন্দাকে মেনে নিতে পারছেন না বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। সোমবার বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব মনোজ কুমার বিশ্বাসের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করতেই পদ্ম শিবিরের কর্মীদের চাপা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। রাতেই রানাঘাট শহরের দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি কর্মীদের একাংশ। অবিলম্বে প্রার্থী বদল না হলে প্রচারের ময়দানে তাঁরা নামবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। ঘটনায় বেজায় অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিক্ষুব্ধ কর্মীদের তৃণমূলের মদতপুষ্ট বহিরাগত বলে দাগিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন জেলা বিজেপির পদাধিকারীরা।


    রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভার উপনির্বাচনে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণির বাসিন্দা পেশায় স্কুল শিক্ষক মনোজ কুমার বিশ্বাস। দক্ষিণ নদীয়ায় বহু যোগ্য নেতা-কর্মী থাকা সত্ত্বেও কেন কৃষ্ণনগরের বাসিন্দাকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হল, তা নিয়ে দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছে। সোমবার রাতে রানাঘাটের ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে থাকা বিজেপি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন প্রায় জনা তিরিশ কর্মী-সমর্থক। পার্টিঅফিসে তখন জেলা নেতৃত্বের কেউই অবশ্য উপস্থিত ছিল না। ফাঁকা কার্যালয়ের সামনেই টায়ার জ্বালিয়ে ও দলীয় স্লোগান তুলে প্রার্থী বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে যুব মোর্চা থেকে মহিলা মোর্চার স্থানীয় পদাধিকারীরাও উপস্থিত ছিলেন। 


    বিক্ষোভকারী বিজেপির যুব মোর্চার সহ-সভাপতি শুভঙ্কর বিশ্বাস বলেন, বহিরাগত প্রার্থীকে আমরা কোনওভাবেই মানছি না। রানাঘাট দক্ষিণ থেকেই কোনও ভূমিপুত্রকে প্রার্থী করা হোক। সেই কারণে আমরা প্রতিবাদে নেমেছি। বিজেপির রানাঘাট মণ্ডল-২ মহিলা মোর্চার সভানেত্রী পূজা দাস বিশ্বাস, অঞ্চল কনভেনার স্বদেশ মুখোপাধ্যায় বলেন, যদি দলের ঘোষিত প্রার্থী জেতেন, তাহলে যে কোনও প্রয়োজনে আমাদের কৃষ্ণনগরে ছুটতে হবে। এটা হতে পারে না। প্রার্থী বদল না করা হলে ভোটের আগেই আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব। ভোটের প্রচারেও খাটব না। বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের আরও অভিযোগ, ভোটে জেতার পর দলীয় কর্মীরা রাজনৈতিকভাবে আক্রান্ত হলেও জেলা নেতৃত্বকে পাশে পাওয়া যায় না। কর্মীদের ন্যূনতম কথা না শুনেই প্রার্থী ঘোষণা করে দেওয়া হচ্ছে। তাই আগেভাগেই প্রার্থী বদলের দাবিতে নেতৃত্বকে কড়া বার্তা দিয়ে চাপে রাখতে চাইছেন নিচুস্তরের কর্মীরা।


    বিক্ষুব্ধ কর্মীদের নিয়ে আলোচনায় বসার বদলে তাঁদের তৃণমূলের মদতপুষ্ট বলে দাবি করেছে জেলা নেতৃত্ব। নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে যারা প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে, তারা দলের কেউ নয়। ভোটে জিততে মরিয়া হয়ে রয়েছে তৃণমূল। তাই আর্থিক লোভ দেখিয়ে বহিরাগতদের হাতে বিজেপির পতাকা ধরিয়েছে ওরা। এতে দলে কোনও প্রভাব পড়বে না। 


    পাল্টা বিজেপিকে আক্রমণ করে রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, দলের ক্ষোভ প্রশমিত করার বদলে এখন কর্মীদেরই অস্বীকার করছে বিজেপি। এর থেকে হাস্যকর আর কী হতে পারে। আমরা স্বচ্ছ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিশ্বাস করি। আগে বিজেপি অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটাক, তারপর ওরা না হয় উপনির্বাচনে জেতার কথা ভাববে।  পার্টি অফিসের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে চলছে বিক্ষোভ। নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)