পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ পদত্যাগ ৮ সদস্যের, নয়া বোর্ডের দাবি
বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: তৃণমূল পরিচালিত খানাকুল-১ পঞ্চায়েত সমিতিতে বিদ্রোহ! মঙ্গলবার পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ শেখ নইমুল হকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যের স্থায়ী সমিতির আট সদস্য পদত্যাগ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সদস্যদের অগোচরে টেন্ডার ডাকা হচ্ছে। দুর্নীতি নিয়েও তাঁরা সরব হন। পুরনো বোর্ড ভেঙে দিয়ে তাঁরা নতুন বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
খানাকুল-১ পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্দ্বন্দ্ব চরম আকার নিয়েছে। নির্বাচনের আগে শেখ নইমুল হক ওরফে রাঙা একই সঙ্গে পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি ও পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। একব্যক্তি সমিতির দু’টি পদে থাকায় নির্বাচিত প্রতিনিধিরা পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বিদ্রোহ সামাল দিতে তড়িঘড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতির পদ থেকে নইমুলকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে, পদ থেকে সরালেও তিনিই বকলমে পঞ্চায়েত সমিতির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন বলে অভিযোগ। তা নিয়ে দলের মধ্যে ক্ষোভও রয়েছে প্রচুর। নির্বাচন মিটতেই সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্য স্থায়ী সমিতির আট সদস্য এদিন পদত্যাগ করেন। তাঁরা সরাসরি পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
বিদ্যুৎ দপ্তরের স্থায়ী সমিতির সদস্য তাপস ঘোষও বলেন, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ টেন্ডারের যাবতীয় কাজ নিজের সিদ্ধান্তেই করেন। আমাদের কিছু জানানো হয় না। পঞ্চায়েত সমিতিতে যেভাবে কাজকর্ম চলছে, তাতে আমরা খুশি নই। তার প্রতিবাদে আমরা পদত্যাগ করেছি। অপর সদস্য মমতা গুছাইত বলেন, মানুষ আমাদের নির্বাচিত করেছে। কিন্তু, সমিতির কোনও বৈঠকে ডাকা হয় না। কাজের বিষয়ে কিছুই জানতে পারি না। সেই ক্ষোভেই এদিন পদত্যাগ করেছি।
প্রসঙ্গত, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নইমুল হক উনিশের নির্বাচনের পরেই দিল্লিতে গিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে সুবিধা করতে না পেরে ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন। তৃণমূলে যোগ দিয়েই দলের একাংশকে ম্যানেজ করে একই সঙ্গে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ পদ পান। কিন্তু এবারের নির্বাচনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে দলেই প্রশ্ন ওঠে। তাঁর দায়িত্বে থাকা এলাকায় তৃণমূল এবার ভালো ফল করতে পারেনি।
খানাকুল-১ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি দীপেন মাইতি বলেন, স্থায়ী সমিতির সদস্যদের পদত্যাগের বিষয়ে কিছু জানি না। তবে এবার নির্বাচনে নইমুল হকের বিরুদ্ধে দলবিরোধী কিছু অভিযোগ এসেছে। সংখ্যালুঘু অধ্যুষিত এলাকায় কেন আমরা বেশি ভোট পেলাম না, তা নিয়ে পর্যালোচনা জরুরি। দলের উচ্চ নেতৃত্বকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ শেখ নইমুল হক বলেন, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিজে বৈঠক ডাকেন। সকলের সম্মতিতে কাজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। সেখানে আমার উপর দায়ভার কীভাবে চাপাতে পারেন? আমার বিরুদ্ধে দলবিরোধী যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা ঠিক নয়। যাঁরা অভিযোগ তুলছেন, তাঁরা দায়িত্ব পেয়েও নিজের এলাকায় লিড দিতে পারলেন না কেন, সেটা আগে বলুক। খানাকুল-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শম্পা মাইতি বলেন, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যের দু’টি দপ্তরের চারজন করে মোট আটজন এদিন পদত্যাগ করেন। দিলীপ মণ্ডল, মারুফা খাতুন, মমতা গুছাইত, তনুশ্রী দিগের, শেখ আশিক ইকবাল, অনিতা চৌধুরী, শিউলি কুণ্ডু পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সভাপতি বলেন, আমরা সকলেই চাইছি, পুরনো বোর্ড ভেঙে দিয়ে নতুন বোর্ড গঠন করা হোক। সমিতির কাজকর্ম সামনের দিনে তাতে ভালো হবে বলেই মনে করছি।
পদত্যাগ করে পঞ্চায়েত সমিতি ছেড়ে বেরিয়ে আসছেন বিক্ষুব্ধ সদস্যরা। নিজস্ব চিত্র