• ট্রেন দুর্ঘটনায় জখম স্বামী হাসপাতালে চাঁদা তুলে সহায়তা, দেখতে গেলেন স্ত্রী
    বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
  • সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: কাঞ্চনজঙ্ঘা ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম ফরাক্কার অজিত মণ্ডল মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এই দুঃসংবাদ পেয়ে তাঁর স্ত্রী প্রতিমা মণ্ডলের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। জখম যুবকের সঙ্গীরাই সোমবার দুপুরে ফোনে এই দুঃসংবাদ দেন। স্বামীকে সাহায্যের সেখানে যেতে বলেন। কিন্তু আর্থিক অনটন কারণে স্বামীর কাছে যেতে পারেননি প্রতিমা। এমনকী ভারতীয় রেলের পক্ষ থেকেও কোনওরকম যোগাযোগ করা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্বামীর কাছে পৌঁছতে টাকার জন্য দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন প্রতিমা। শেষপর্যন্ত সোনার অলংকার বন্ধক রাখতে মনস্থির করেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয় যুবকরা অর্থ সংগ্রহ করে আহতের স্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এদিন বিকেলের ট্রেনেই পরিবারের সদস্যরা জলপাইগুড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। ফরাক্কার বিডিও জুনায়েদ আহমেদ বলেন, বিষয়টি জানা নেই, দেখছি কিছু করা যায় কিনা। ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে কেউ জানায়নি। আমার কাছে এলে আমি নিশ্চয়ই সাহায্য করব। আমাকে কেউ তো একটু জানাতে পারত। জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার এক বন্ধুকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য জলপাইগুড়ির এক গুরুদেবের আশ্রমে যান অজিত। ফেরার পথে অভিশপ্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে উঠেছিলেন। এদিন বিকেলের ট্রেনেই পরিবারের সদস্যরা জলপাইগুড়ি উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। প্রতিমা দেবী বলেন, ওর সঙ্গীরাই আমাকে ফোন করে। বলেছে ও ভালো নেই, চিকিৎসা চলছে। টাকা পয়সা নিয়ে চলে এসো। আমার কাছে কোনও টাকা পয়সা নেই। স্বামীর কাছে কীভাবে যাব। রেলের পক্ষ থেকেও কোনও খবর দেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, আত্মীয় পরিজনরা বেরিয়ে পড়েছে, ওরা আমাকে নিয়ে গেল না। মালদহ ডিভিশনের পিআরও রূপা মণ্ডল বলেন, রেলের পক্ষ ৫০ থেকে দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে। আপাতত স্বামীর কাছে যাওয়ার জন্য রেলের ভাড়া মকুবের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও সবরকমের সাহায্য করা হবে।  জখম যুবকের পরিবার।
  • Link to this news (বর্তমান)