• শখ করে কেনা গাড়িতেই শেষযাত্রা বিউটির মিলল না রেলের তরফে কোনও সাহায্য
    বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
  • সংবাদদাতা, কাটোয়া: শখ করে কেনা গাড়িতেই শবদেহ হয়ে ফিরলেন কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় মৃত গুসকরার বিউটি বেগম। বিউটি নিজেই শো রুমে গিয়ে পছন্দ করে কিনেছিলেন গাড়িটি। সেটি নিয়ে স্বামী-স্ত্রী ঘুরতে যেতেন মাঝেমধ্যেই। সেই গাড়িতেই ঘরে ফিরল বিউটির নিথর দেহ। জলপাইগুড়ি হাসপাতালের মর্গ থেকে বিউটির মৃতদেহ ওই গাড়িতে চাপিয়ে গুসকরায় নিয়ে আসা হয়। গোটা রাস্তা স্বামী শেখ হাসমত নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করেন। 


    মঙ্গলবার গুসকরায় এসে হাসমত আক্ষেপ করে বলেন, রেল কোনও শববাহী গাড়ির ব্যবস্থা করেনি। ঝোপ বুঝে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স দাবি করছিল ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। রেল কোনও সাহায্য করেনি। এমনকী জলপাইগুড়ি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও মৃতদেহ বের করে হাত তুলে দিয়েছিল। বহু কষ্টে আমরা মৃতদেহ বাড়ি ফিরিয়ে আনি। 


    এদিন গুসকরায় মৃত বিউটি বেগমের বাড়িতে সমবেদনা জানাতে যান আউশগ্রামের বিধায়ক অভেদানন্দ থান্ডার, গুসকরা পুরসভার চেয়ারম্যান কুশল মুখোপাধ্যায়। বিধায়ক বলেন, রেল কোনও সাহায্যে করেনি। তবে আমরা মৃতের পরিবারের পাশে আছি। 


    সোমবার নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে অভিশপ্ত ওই ট্রেন ধরে গুসকরায় ফিরছিলেন বিউটি। তাঁকে ট্রেনে তুলে দিয়ে যান হাসমতের সহকর্মীরা। এরপরেই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো খবর আসে দুর্ঘটনার। শেখ হাসমত গিয়ে স্ত্রীর রক্তমাখা নিথর দেহ শনাক্ত করেন। শিলিগুড়িতে একটি বেসরকারি বিস্কুট কারখানার গাড়ি চালান হাসমত। পনেরো দিন আগে সেখানে গিয়েছিলেন বিউটি। পরব উপলক্ষ্যে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি।


    এদিন হাসমতের বন্ধু শেখ তারিখ আনোয়ার বলেন, এক বছর আগে ওই গাড়িটি হাসমত কেনেন। তাঁর স্ত্রীর খুব পছন্দের গাড়ি ছিল ওটি। গাড়িটি শিলিগুড়িতেই রাখা থাকত। বউদি যখন আসতেন তখন গাড়িটিতে চড়তেন। শেষে ওই গাড়িতেই বউদির মৃতদেহ ফিরল। গুসকরায় ফেরার পথে গাড়ি চালাতে চালাতে সারা রাস্তা কেঁদেছেন হাসমত। আমি তাঁকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলাম। হাসমত সাহেব আমাকে বলছিলেন, দেখো বউদি গাড়িতেই আছেন। আর আমি তাঁর নিথর দেহ বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এর থেকে কষ্টের আর কী আছে। আমি তো ওঁর জন্যই গাড়িটা কিনেছিলাম। এদিন মৃতের জামাই শেখ নুরুল হাসান বলেন, রেলের যা অব্যবস্থা তা কল্পনা করা যায় না। মৃতদেহ বাড়ি নিয়ে আসার কোনও ব্যবস্থা করে দেয়নি। 


    এদিন গুসকরা শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইঁটাচাঁদায় মৃতদেহ ফিরতেই বাসিন্দারা ভিড় করেন। আত্মীয়রা কান্নায় ভেঙে পড়েন। মৃতের ছেলে বিশাল শেখ কেরলে থাকেন। তিনি মায়ের মৃত্যুর খবর শুনে গুসকরার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। আর মেয়ে সুইটি খাতুন মায়ের মৃতদেহ দেখে বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন। প্রতিবেশীরা তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন। 


    শেখ হাসমত আক্ষেপ করে বলেন, আমার স্ত্রী পরবে বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন। ফিরলেন ঠিকই কিন্তু মৃতদেহ হয়ে। ওঁর আসার কথা ছিল হলদিবাড়ি এক্সপ্রেসে। সেটা না পাওয়ায় অভিশপ্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসেই চাপতে হল। আমার সব শেষ হয়ে গেল।
  • Link to this news (বর্তমান)